মুসলিম স্থাপত্যের অপূর্ব নিদর্শন বগুড়ার শেরপুরের খেরুয়া মসজিদ। ঐতিহাসিক স্থাপত্য শিল্পের নির্দশন হলেও একে সুষ্ঠু রক্ষণাবেক্ষণ, প্রয়োজনীয় সংস্কারের কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। ফলে মসজিদটি তার আকর্ষণ হারাতে বসেছে।
বগুড়ার শেরপুরের খন্দকার টোলায় মসজিদটির অবস্থান। এটি আজও দর্শনার্থীদের হূদয় কাড়ে। মসজিদের চারকোণে ৪টি মিনার আছে। পূর্ব দেয়ালে ৩টি দরজা রয়েছে। মাঝের দরজাটি অন্য দু’টি থেকে আকারে অনেক বড়। আয়তাকার ফ্রেমের মধ্যে অর্ধগোলাকার মেহরবগুলো স্থাপিত। মসজিদের কার্নিশ বাকাঁনো। দেয়ালে কিছু কিছু পোড়া মাটির চিত্র ফলকও ছিল। তবে তা সংখ্যায় খুবই কম। মসজিদের মাঝের দরজার উপরে দুটি শিলালিপি ছিল। মসজিদের গায়ে শিলালিপি থেকে জানা গেছে, মসজিদটি ৯৮৯ হিজরীর ২৬ জিলকদ (১৫৮২ খ্রিষ্টাব্দ) সোমবার ভিত্তিস্থাপন করা হয়েছে। শেরপুরের ইতিহাস গ্রন্থের প্রণেতা অধ্যক্ষ রোস্তম আলী জানান, প্রকৃতপক্ষে জনৈক ফকির আব্দুস সামাদ উক্ত মসজিদটি নির্মাণের পরিকল্পনা করেন। নবাব মির্জা মুরাদ খান কাকশালের পৃষ্ঠপোষকতায় মসজিদটি নির্মিত হয়। তিনি ছিলেন জওহর আলী খান কাকশালের পুত্র। বাগেরহাটের ষাট গম্বুজ মসজিদ ও শাহজাদপুরে অবস্থিত প্রাচীন মসজিদের নির্মাণ শৈলীর সঙ্গে মসজিদটির অনেক মিল রয়েছে। ইট ও চুন সুরকি ছাড়াও এটি নির্মাণ কাজে বৃহদাকার কৃষ্ণ পাথর ব্যবহূত হয়েছে। মসজিদটির ছাদের নিচে পায়রাদের বসবাসের জন্য পৃথক কিছু জায়গা নির্মাণ করা হয়েছিল। তাছাড়া মসজিদের একটি শিলালিপির ভিতর রক্ষিত ছিল মূল্যবান স্বর্ণখণ্ড যা পরবর্তীতে বেহাত হয়। মসজিদের একটি শিলালিপি বর্তমানে করাচি জাদুঘরে রক্ষিত আছে। সম্রাট আকবরের আমলে মসজিদটি তৈরি হওয়ায় মসজিদের বিভিন্ন জায়গায় ব্যতিক্রম অনেক চিহ্ন পাওয়া গেছে। স্থাপত্য বিশারদদের মতে, খেরুয়া
মসজিদটিতে সুলতানী ও মোগল আমলের মধ্যবর্তী স্থাপত্য নির্দশন প্রকাশ পেয়েছে। এতে বারকোনা ও আটকোন কলাম ব্যবহার করা হয়েছে যা বাংলার স্থাপত্য শিল্পে বিরল।
স্থানীয়রা জানান, নব্বইয়ের দশকে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ মসজিদটি সংস্কার করেছে ফলে মসজিদটি আগের অবস্থায় ফিরে এসেছে। এখনও সেখানে রীতিমত নামাজ পড়া হয়। প্রত্মতত্ববিভাগ ১৯৮৮ সাল থেকে মসজিদ এবং এর ৪৮ শতক জায়গা দেখাশোনার জন্য একজন লোক নিয়োগ করে। দেশ বিদেশের বহু পর্যটক, দর্শনার্থী, স্থাপত্য বিশারদরা মসজিদটি পরিদর্শন করছেন। কিন্তু খেরুয়া মসজিদটি পড়ে আছে অযত্নে অবহেলায়। এই মসজিদ স্থলে যাবার জন্য পাকা কোন রাস্তা নেই। সরজমিনে মসজিদের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে নিয়োজিত আব্দুস সামাদ জানান, প্রতিদিনই দর্শনাথীরা আসেন। শহর থেকে মসজিদে আসার জন্য একটি পাকা রাস্তা জরুরি।
