দুর্ভোগে দুই জেলার মানুষ

সারিয়াকান্দি-মাদারগঞ্জ ফেরি সার্ভিস ৯ বছর ফাইলবন্দি

আপডেট : ০৮ জুলাই ২০১৩, ১৯:০৪
সারিয়াকান্দি-মাদারগঞ্জ যমুনার নৌ-রুট জামালপুর ও বগুড়া জেলার মধ্যে আন্তঃবাণিজ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও এই রুটে গৃহীত ফেরি সার্ভিস প্রকল্প দীর্ঘ ৯ বছরেও বাস্তবায়ন হচ্ছে না। বহু বছর ধরে বৃহত্তর ময়মনসিংহের জামালপুর ও শেরপর জেলার ব্যবসায়ীরা ব্যবসা বাণিজ্যের উদ্দেশে এ নৌ রুটে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বগুড়া জেলা থেকে মালামাল আনা-নেয়া করে থাকে। তাছাড়া সামাজিক ও আত্মীয়তার বন্ধনেও উভয় জেলার মানুষ নৌ পথে যমুনা পাড়ি দিয়ে থাকে। এ অবস্থায় সারিয়াকান্দি ও মাদারগঞ্জের মানুষ যমুনার নৌ রুটে ফেরি সার্ভিস চালুর দাবি জানায়। জনগণের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ফেরি সার্ভিস চালুর জন্য বিগত সরকারের আমলে সারিয়াকান্দির এমপি ও মাদারগঞ্জের এমপি যৌথভবে যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ে ডিও লেটার প্রদান করে। এর পরিপ্রেক্ষিতে মন্ত্রণালয় থেকে সারিয়াকািদ ও মাদারগঞ্জের মধ্যে ফেরি চালুর প্রকল্প গৃহীত হয়। জানা যায়, সড়ক বিভাগ ও আভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডাব্লুটিএ) মধ্যে সমঝোতা স্মারকের মাধ্যমে যৌথ জরিপের পর সারিয়াকান্দির কালিতলা ঘাটে ও মাদারগঞ্জের জামথল ঘাটে পল্টুন স্থাপন করা হয়। ওই সময় কালিতলা ঘাটে যানবাহন পারাপারের জন্য ফেরিও আনা হয়। অচিরেই ফেরি সার্ভিস চালু হচ্ছে এই আশায় সারিয়াকান্দি ও মাদারগঞ্জবাসীর মধ্যে আনন্দ- উদ্দীপনা দেখা দেয়। কিন্তু দীর্ঘ এক বছর ঘাটে নঙর করে থাকার পর অজ্ঞাত কারণে ফেরি ও পল্টুন সরিয়ে নেয়া হয়। এ ব্যাপারে সড়ক ও জনপথ বিভাগের (ফেরি) বগুড়ার তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ইফখারুল ইসলাম জানান, আমাদের ফেরীগুলো যমুনা নদীতে চলার উপযোগী নয় বলে বিআইডাব্লুিউটিএকে হস্তান্তর করা হয়েছে। বর্তমানে বগুড়া থেকে বঙ্গবন্ধু জাতীয় সেতু হয়ে জামালপুরের দূরত্ব দেড় শ’ কিলোমিটার । কিন্তু সারিয়াকান্দি- মাদারগঞ্জ ফেরি চালু হলে সরাসরি পারাপারে দূরত্ব অর্ধেক কমে যাবে। চাপ কমবে সেতুর ওপর। ফলে বগুড়া ছাড়াও খাদ্য শস্য উদ্বৃত্ত রাজশাহী বিভাগের অন্যান্য জেলার সাথেও যোগাযোগ সহজ হবে। আন্ত্যঃবাণিজ্য সমপ্রসারণ হবে। যমুনার উভয় পাড়ে দোকানপাট, হোটেল উঠবে । হাজার হাজার মানুষের কর্ম সংস্থান হবে অর্থনীতির চাকা গতিশীল হবে।