বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলার তালোড়া ধান চালের ব্যবসা কেন্দ্র হিসাবে প্রসিদ্ধ। নাগর নদের অববাহিকায় এ বন্দরে শুধু ধান চাল নয়, অ্যালুমিনিয়াম শিল্পের ঐতিহ্যগত সুনাম রয়েছে দীর্ঘদিনের। কিন্তু বর্তমানে কাঁচামাল, জ্বালানিসহ বিভিন্ন উপকরণের দাম বৃদ্ধিতে এই শিল্প আজ হুমকির সম্মুখিন।
জানা যায়, ১৯৫২ সাল থেকে তালোড়ায় অ্যালুমিনিয়ামের কারখানা স্থাপিত হয়েছে। এখানকার কারখানায় উত্পাদিত তৈজসপত্র ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সেই সময়ে খুব কদর ছিল। বর্তমানে এখানে বড় ৫টি ও ছোট ৩/৪টি অ্যালুমিনিয়াম কারখানায় বিভিন্ন তৈজসপত্র উত্পাদিত হচ্ছে। কিন্তু বাজারজাত প্রতিযোগিতায় টিকা কঠিন হয়ে পড়েছে। কারণ হিসাবে কারখানার কয়েকজন মালিক জানান, জ্বালানী হিসাবে ফার্ণিস অয়েল এ শিল্পে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন। কিন্তু দিন দিন এর দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে। ২বছর আগে ৩৫টাকা লিটার ফার্ণিস অয়েল কেনা হতো এবং সরকার এতে ভর্তুকি দিতো। বর্তমানে সেই ভর্তুকি সরকার তুলে দিয়েছেন। এখন প্রতি লিটার ফার্ণিস অয়েল ৬২টাকা। তাছাড়া পরিবহন খরচও রয়েছে। আগে কাঁচা মাল ১৭০টাকা কেজি ছিল, দাম বৃদ্ধি পেয়ে তা আজ ৩শত ৫০টাকা কেজি।
সব মিলিয়ে এ্যালুমিনিয়ামের তৈজসপত্র উত্পাদনে খরচ হচ্ছে দ্বিগুনেরও বেশি। কিন্তু যেসব এলাকায় গ্যাস সরবরাহ রয়েছে তাদের খরচ এখানকার চেয়ে অনেক কম। তাই প্রতিযোগিতার বাজারে আমাদের টিকা কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্তমানে চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রংপুর, দিনাজপুর, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট,ঈশ্বরদী, কুষ্টিয়ায় তালোড়ার এ্যালুমিনিয়ামের উত্পাদিত পন্য বাজারজাত হয়ে থাকে। এব্যাপারে সৌরভ এ্যালুমিনিয়াম ওয়ার্কসপ এর মালিক সুভাষ প্রসাদ গুপ্ত জানান, এ শিল্পের সাথে প্রায় ৮শত শ্রমিকের কর্মসংস্থান রয়েছে। সরকার এখান থেকে প্রতিবছর রাজস্ব পায় অনেক। কিন্তু বিভিন্ন উপকরনের দাম বৃদ্ধির ফলে গ্যাস সরবরাহকৃত এলাকায় উত্পাদিত তৈজসপত্রের দামের সাথে আমরা সমতা করতে পারছি না।
