বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত জাপানি সুপার মডেল রোলার পরিবার বিপাকে

আপডেট : ০৮ জুলাই ২০১৩, ২০:২৮
টোকিওর গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যবসাভিত্তিক প্রায় সকল এলাকা কখনও জাপানের জনপ্রিয় টিভি চ্যানেলের বিজ্ঞাপনের বিলবোর্ডে বা বিশ্বখ্যাত সনি কোম্পানির বিজ্ঞাপনে অথবা আসাহি বিয়ারের পোস্টারে, টেলিভশনের পর্দায় কিংবা চলার পথে ট্রেনের ভিতরে বিভিন্ন প্রসাধনীর বিজ্ঞাপনের পোস্টারে প্রতিদিন প্রায় বেশ কয়েকবার যাকে চোখে পড়ে তিনি হলেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ২৩ বছরের তরুণী রোলা। হালসময়ের জাপানে ভীষণ জনপ্রিয় মডেল ও টিভি ব্যক্তিত্ব এই মেধাবী ও সুন্দরী তরুণীর জন্ম টোকিওতে ১৯৯০ সালের ৩০ মার্চ। তার বাবা বাংলাদেশি। রোলার শৈশব কেটেছে বাংলাদেশে। নয় বছর বয়স পর্যন্ত তিনি বাংলাদেশে থেকেছেন। তার দাদা বাড়ি বিক্রমপুর। ২০০৮ সাল থেকে জাপানের জনপ্রিয় বিভিন্ন পত্রিকার প্রচ্ছদে তাকে দেখা গেছে একাধিকবার । টোকিও গার্লস কালেকশন, শিবুইয়া গার্লস কালেকশন, গার্লস অ্যাওয়ার্ডসহ বড় বড় সব অনুষ্ঠানে তার উপস্থিতি দর্শকদের জন্য বিশেষ আকর্ষণ হয়ে থাকে। জাপানিজ মিডিয়া জগতে তিনি ‘ইয়াং ট্যালেন্ট’ হিসেবে পরিচিত। ২০১০ সালে টেলিভশনে একটি ভ্যারাইটি শোয়ে অংশগ্রহণের মাধ্যমে তার টেলিভশন ক্যারিয়ার শুরু হয়। এক বছরে ২০০টি টিভি শোয়ে অংশগ্রহণ করে রোলা চতুর্থ ‘rising TV-star in 2011’ হিসেবে খ্যাত হন। সংগীতেও তিনি কম নন, তার গাওয়া একক অ্যালবাম ‘মেমোরি’-এর টাইটেল গানটি ২০১২ সালে বিলবোর্ড জাপান টপচার্টের টপ টুয়েন্টিতে ছিল অনেকদিন ধরে। এমনকি রোলা বেশ ক’জন বাংলাদেশি শিল্পীকে নিয়ে ইউকে অডিও মার্কেটে নতুন কিছু মিউজিক করারও পরিকল্পনাও করছিলেন। কিন্তু সম্প্রতি জাপানের গণমাধ্যমগুলোতে রোলার পিতাকে নিয়ে একটি সংবাদ প্রকাশ হওয়ার পর থেকে হতাশ হয়ে পড়েছে রোলা। তার পিতা কয়েকজন বাংলাদেশিকে সাথে নিয়ে স্বাস্থ্যবীমার অর্থ অবৈধভাবে উত্তোলন করেছে বলে সংবাদে প্রকাশ হয়। জাপান সরকার ইন্টারপোলের কাছে অনুরোধ করেছে তার পিতাকে বাংলাদেশ থেকে আটক করার জন্য। এ নিয়ে জাপানি মিডিয়ায় প্রতিনিয়ত খবর আসছে। এতে করে জাপানিজ মিডিয়ার চাপে পড়েছে রোলা। জাপান প্রবাসী বাংলাদেশি রোলা ভবিষ্যত্ নিয়ে বেশ চিন্তিত হয়ে পড়েছে। টোকিও বৈশাখী মেলা, প্রবাস প্রজন্ম, দূতাবাসের অনুষ্ঠানসমূহ, অ্যাওয়ার্ড প্রদান অনুষ্ঠানসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দুই দেশের সম্পর্কের যে উন্নতি ঘটেছে তাতে কোনোভাবেই যেন স্বাস্থ্যবীমার মতো বিছিন্ন একটি ঘটনা বাধা হতে না পারে সেজন্য জাপান প্রবাসী বাংলাদেশি ভাই-বোনদের প্রতি সদয় আহ্বান জানিয়েছেন সুপার মডেল রোলা। এই পারিবারিক সংকট প্রসঙ্গে রোলা বলেন, ‘আসলে বাংলাদেশের সাথে জাপানের যে নিবিড় বন্ধুত্বের সম্পর্ক, সেখানে এত বড় একটি ঘটনার সত্যাসত্য আমি নিজেও জানি না। তবে যাই হোক, এতে করে আমাদের দুই দেশের যে সাংস্কৃতিক বন্ধন তা যেন অক্ষুণ্ন থাকে, সেদিকেই নজর দেওয়ার অনুরোধ জানাচ্ছি সবাইকে।’