কোথা গেল হরিয়াল

আপডেট : ০৮ জুলাই ২০১৩, ২১:৪০
লাজুক সুন্দর পাখি হরিয়াল। এক সময় প্রচুর দেখা মিলতো গ্রামে। দলবেঁধে উড়ে এসে বসতো গ্রামের বটপাকুড় গাছের ডালে ডালে। প্রিয় ছিল বটগাছের টুকটুকে লাল ফল। সেই সুন্দর পাখিটির দেখা এখন আর সহজে মেলে না। হলুদ, বেগুনি, আর কমলা রঙের বাহারি হরিয়ালের বাস বাংলাদেশসহ প্রতিবেশী কয়েকটি দেশে এবং আফ্রিকার কিছু অঞ্চলে। ফলাহারী পাখি হরিয়ালের ইংরেজি নাম ‘গ্রীন পিজন’ এবং বৈজ্ঞানিক নাম ট্রেরন’। বিশ্বে ২৩ প্রজাতির হরিয়াল আছে। আমাদের দেশে এক সময় কয়েক প্রজাতির হরিয়ালের বসবাস ছিল। গ্রামাঞ্চলে বটপাকুড় বা ডুকুর গাছে বসতো। দলবেঁধে উড়তো। খড়কুটো, মরা ডালপালা, পাতা দিয়ে এরা বাসা বাঁধে। এদের প্রধান খাদ্য ফল। এছাড়া বাদাম ও বীজ খেতে পছন্দ করে। এদের ডানা লম্বা, গোলাকার ও সুঁচালো। বলিষ্ঠ পা, বেশ খাটো। পায়ের তলায় গদি থাকে। স্ত্রী ও পুরুষ হরিয়ালের চেহারায় তফাত্ রয়েছে। এরা মাটিতে নামে না বলে এদের ‘অহংকারী পাখি’ বলা হয়ে থাকে। গ্রামের বড় বড় বটপাকুড় গাছ কেটে ফেলায় মূলত এরা উধাও হয়েছে। পাখি বিশেষজ্ঞদের মতে, যে কোন প্রাণির প্রধান অগ্রাধিকার খাদ্য ও বাসস্থান। যখন এই দুটোর সংকট হয় তখনই তারা হয় অন্যত্র সরে যায় অথবা বিলুপ্ত হয়। আমরাতো প্রকৃতি ধ্বংসে মেতেছি। কাজেই শুধু হরিয়াল কেন, অচিরেই আরো অনেক কিছুই হারাবো।