ফাহিম-সিহাবের বিশ্বাস তাদের বাবা ফিরবেই

আপডেট : ০৮ জুলাই ২০১৩, ২১:৪০
বাবা আমার জন্য অনেক খেলনা কিনেছে; ছোট ভাইয়ের জন্য কিনেছে চকলেট। আগামীকাল বুধবার বাবা বাড়ি আসবে আমাকে ফোনে এ কথাই বলেছেন। আমাদের বাবা ফিরে আসবেই। আত্মবিশ্বাস ও আবেগ নিয়ে গতকাল রবিবার সন্ধ্যায় কথাগুলো বলছিলো অপেক্ষায় দিন গোনা জাহাজডুবিতে নিখোঁজ বাবুর্চী মোঃ নাসির উদ্দিন খলিফার বড়পুত্র মোঃ ফাহিম (১০)। পিঙ্গলাকাঠী প্রি-ক্যাডেট স্কুলের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র ফাহিম ও একই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্র সিহাবের (৮) আত্মবিশ্বাস তাদের বাবা তাদের জন্য খেলনা ও চকলেট নিয়ে ফিরে আসবেন। নাসিরের নিখোঁজের পর থেকে পুরো পরিবার জুড়ে চলছে শোকের মাতম। সবার মধ্যে স্বজন হারানোর বেদনা। তাদের আহাজারিতে ভারি হয়ে উঠেছে গোটা এলাকা। বরিশালের গৌরনদী উপজেলার বোরাদী গরংগল গ্রামের মৃত আব্দুল রশিদ খলিফার তিন পুত্রের মধ্যে নাসির উদ্দিন ছিলেন মেঝ। জাহাজ ডুবির পর থেকে এখন পর্যন্ত নাসিরের কোন সন্ধ্যান না পাওয়ায় পুরো এলাকাজুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। পরিবারের সদস্যরা এখনও অপেক্ষায় আছেন প্রিয় নাসিরের ফেরার অপেক্ষায়। নাসির উদ্দিনের বড় ভাই ফারুক খলিফা জানান, গত ১২ বছর আগে চিফ কুক হিসেবে চাকরি নেন নাসির। নাসিরের স্ত্রী টুলু বেগম জানান, গত নয় মাস আগে এমভি হোপে যোগদান করেন নাসির। আগামীকাল বুধবার তার বাড়িতে আসার কথাছিলো। একই সাথে পরিবারের সবার সঙ্গে ঈদ করার প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছিলো নাসির। জাহাজ দুর্ঘটনার সময় নাসির ফোনে তাদের সবার কাছে দোয়াও চেয়েছিলো। টুলু বেগমের আত্মবিশ্বাস নাসির এখনো বেঁচে আছেন। নাসিরের চাচাতো ভাই ও সরকারি গৌরনদী কলেজের ভিপি কেএম আনোয়ার হোসেন বাদল জানান, গত বৃহস্পতিবার আন্দামান সাগরে এমভি হোপ নামের জাহাজটি ডুবে যায়। থাই নৌ-বাহিনী জাহাজটির দ্বিতীয় কর্মকর্তা মোবারক হোসেনসহ নয় নাবিককে জীবিত ও দু’জনকে মৃত উদ্ধার করেছে। এখনও ঐ দুর্ঘটনা কবলিত জাহাজের চিফ কুক নাসির উদ্দিনের সন্ধান মেলেনি। নাসিরের পরিবারের অভিযোগ, এখনো তাদের সাথে কেউ যোগাযোগ করেননি।