মাদারীপুর এবং বরিশালের ছয় জেলায় টিসিবি’র ১৪৩ জন ডিলারের মধ্যে গতকাল সোমবার শেষদিন পর্যন্ত মাত্র ৪৩ জন ডিলার পণ্য উত্তোলন করেছেন। নিন্মমানের পণ্য সরবরাহ করায় তা অধিকাংশ ডিলার উত্তোলন করেননি। ৪৩ জন ডিলার কাগজে কলমে পণ্য উত্তোলন দেখানো হলেও বাস্তবে ডিলাররা লাইন্সেস টিকিয়ে রাখার জন্য ব্যবসায়ীদের ছেড়ে দিয়েছেন। ঐ ব্যবসায়ীরা ডিলারদের অনুকূলে পণ্য উত্তোলন করে পাইকারি বাজারে সামান্য লাভে বিক্রি করেছেন। ফলে রমজান মাসে যে লক্ষ্য-উদ্দেশ্য নিয়ে টিসিবি বাজার নিয়ন্ত্রণের জন্য নায্যমূল্যে পণ্য বিক্রির উদ্যোগ নিয়েছিল তা ভোক্তাদের কোন কাজে আসবে না বলে ধারণা করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।
রমজানকে সামনে রেখে ২৪ জুন থেকে টিসিবি’র আঞ্চলিক কার্যালয় ৮ জেলার ডিলারদের মাঝে পণ্য বিক্রি শুরু করে। পণ্যের মান খারাপ হওয়ায় শুরুতেই সে উদ্যোগ হোঁচট খেয়েছে। ৩ জুলাই পর্যন্ত মাত্র ৯ জন ডিলার পণ্য উত্তোলন করায় ডিলারদের সাথে যোগাযোগ করা হয় টিসিবি থেকে। ডিলারশিপ বাতিলসহ নানান ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বলে ডিলারদের পণ্য উত্তোলনের জন্য বলা হয়। ৭ জুলাই পণ্য উত্তোলনের সময়সীমা শেষ হলেও ডিলারদের তেমন সাড়া না পাওয়ায় আরো একদিন সময় বৃদ্ধি করে গতকাল সোমবার পর্যন্ত পণ্য উত্তোলনের সুযোগ করে দেওয়া হয়। গতকাল বিকাল পর্যন্ত সর্বশেষ মাত্র ৪০ জন ডিলার পণ্য উত্তোলন করছেন বলে টিসিবি জানায়। বাকি ১০৪ জনই পণ্য উত্তোলন করেনি। ডিলাররা অতিরিক্ত পরিবহন ব্যয় ও পণ্যের মান খারাপ হওয়ায় পণ্য উত্তোলন করেননি বলে ইত্তেফাককে জানান। বিশেষ করে লালচে রংয়ের যে চিনি টিসিবি সরবরাহ করছে তা বিক্রির যোগ্য নয় বলে অভিযোগ করা হয়। তবু লাইসেন্স টিকিয়ে রাখতে কয়েকজন ডিলার কতিপয় ব্যবসায়ীকে বিনা লাভেই তাদের লাইসেন্স ব্যবহার করে পণ্য উত্তোলনের অনুমতি দিয়েছেন। ঐ ব্যবসায়ীরা তাদের পণ্যের সাথে মিশিয়ে বা খুব কম দামে সামান্য লাভ করে চিনি’র লোকসান অন্য মালের উপর দিয়ে পুষিয়ে নিয়েছেন। তবে অধিকাংশ ডিলার সে সুযোগও পাননি। তারা পণ্য উত্তোলন করেননি।
টিসিবির বরিশাল প্রধান ইসমাইল মজুমদার জানান- প্রথম ধাপের সরবরাহ করা পণ্য ডিলাররা আগামী ১৬ জুলাই পর্যন্ত ট্রাকে করে নগরীর বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করবেন। এর পর দ্বিতীয় ধাপে ডিলারদের পণ্য সরবারহ করা হবে। তিনি বলেন যে সব ডিলার পণ্য উত্তোলন করছেন না তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। বিশেষ করে দ্বিতীয় ধাপে পণ্য উত্তোলন না করলে লাইন্সেস বাতিল করার মত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। নিন্ম মানের পণ্য সরবারহের অভিযোগ অস্বীকার করেন ইসমাইল মজুমদার।
