নির্বাচন নিয়ে নানামুখী অনিশ্চয়তার মধ্যেই আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকার ১৪টি আসনের জন্য দলীয় প্রার্থী ঘোষণা করেছেন নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক ও ডাকসুর সাবেক ভিপি মাহমুদুর রহমান মান্না। গতকাল সোমবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির কনফারেন্স কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তিনি এই প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করেন। পরবর্তীকালে পর্যায়ক্রমে সারাদেশের আরও ২৮৬টি আসনের জন্যই প্রার্থী ঘোষণার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান তিনি।
এ সময় মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, আওয়ামী লীগ ও বিএনপির কেউই সুশাসন নিশ্চিত করতে পারছে না। দুই নেত্রীর কাছে দেশ নিরাপদ নয় বলে মনে করা হচ্ছে। সমপ্রতি ৫টি সিটি করপোরেশন নির্বাচনে শোচনীয়ভাবে পরাজয়ের পরও ক্ষমতাসীনদের শিক্ষা নেয়ার কোন লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। আঞ্চলিক ও ব্যক্তিগত কারণের উপর দায় চাপিয়ে জাতীয় রাজনীতির সংকটকে আড়াল করার চেষ্টা করছে সরকার। যারা জিতেছেন তারাও বিশেষ যোগ্যতায় জিতেননি। তাদেরও শেখার আছে। কিন্তু তা আমরা দেখতে পাচ্ছি না। তিনি বলেন, নাগরিক ঐক্য এখন পর্যন্ত কোনো রাজনৈতিক দল নয়। তাই নাগরিকদের মধ্য থেকে আন্দোলনের অংশ হিসেবে এই প্রার্থী ঘোষণা করা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সাবেক এই আওয়ামী লীগ নেতা আরও বলেন, জাতীয় সংসদের নির্বাচন হবেই, এমন নিশ্চয়তাও পাওয়া যাচ্ছে না। দুই দলের মূল নেত্রীকে এজন্য দায়ী মনে করি। দুই দলের রাজনীতির দুর্বৃত্তায়নের কবলে পতিত হওয়ায় দুই ধারার বাইরে একটি বিকল্প ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যকে সামনে রেখেই এই প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করা হচ্ছে। যেহেতু নাগরিক ঐক্য এখনও পর্যন্ত কোন রাজনৈতিক দল নয়, তাই ঘোষিত প্রার্থীদেরকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবেই নির্বাচনে অংশ নিতে হবে। এজন্য বর্তমান আইনানুযায়ী প্রার্থীদের নিজ নির্বাচনী এলাকার মোট ভোটারের এক শতাংশের স্বাক্ষর নিতে হবে। এই আইন সংবিধান বিরোধী। আমি কাকে ভোট দেব তা আগে থেকেই বলে দিতে হবে এটা হতে পারে না। স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রে এই নিয়ম বাতিলের দাবি জানান তিনি। এছাড়া তিনি সংশোধিত আরপিও অনুসারে দলীয় মনোনয়ন থেকে বঞ্চিত হলে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার সুযোগ বাতিলের সমালোচনা করে বলেন, এটা দলবাজ সৃষ্টি করার একটা নিয়ম এবং এর ফলে বড় দলগুলোতে স্বৈরতান্ত্রিক প্রবণতা আরও জোরদার হবে। এ ধরনের আইন-কানুনের মাধ্যমে নাগরিকদের স্বতন্ত্র উদ্যোগ বন্ধ করার চেষ্টা করা হচ্ছে। রোজার ঈদের পর ঢাকার বাইরেও আরও অন্তত ৫০টি আসনে প্রার্থী ঘোষণা করার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, এ জন্য আগ্রহী নাগরিকদের তালিকা সংগ্রহের কাজ চলছে।
গতকাল ঘোষিত প্রার্থীরা হলেন ঢাকা-৪ (যাত্রাবাড়ী-শ্যামপুর) আসনে মাহমুদ জামাল কাদেরী, ঢাকা-৫ (ডেমরা, যাত্রাবাড়ী) ইফতেখার আহমেদ (বাবু), ঢাকা-৬ (যাত্রাবাড়ী, সুত্রাপুর) আসনে আবু বকর সিদ্দিক, ঢাকা-৮ (লালবাগ, মতিঝিল, পল্টন, শাহবাগ, রমনা) আসনে রেহানা পারভীন, ঢাকা-৯ (খিলগাঁও, সবুজবাগ) আসনে শাহ আলম কবীর, ঢাকা-১০ (বাড্ডা, খিলগাঁও) আসনে মো. শরীফ আহমেদ খান, ঢাকা-১১ (রমনা, তেজগাঁও, বাড্ডা, ভাটারা) আসনে শেখ শামসুল আলম বুলবুল, ঢাকা-১২ (ধানমন্ডি, হাজারীবাগ, মোহাম্মদপুর) আসনে রেহানা আক্তার, ঢাকা-১৩ (আদাবর, ধানমন্ডি, হাজারীবাগ, মোহাম্মদপুর) আসনে ডা. নজরুল ইসলাম, ঢাকা-১৪ (মিরপুর, শাহ আলী, সাভার) আসনে আব্দুল্লাহ আল আমিন ইমরুল, ঢাকা-১৫ (মিরপুর, কাফরুল) আসনে মো. ইব্রাহীম মোল্লা, ঢাকা-১৬ (মিরপুর, পল্লবী, শাহ আলী) আসনে ক্যাপ্টেন অব. আব্দুল জব্বার, ঢাকা-১৭ (ক্যান্টনমেন্ট, গুলশান, কাফরুল, পল্লবী) আসনে মো. মাসুদুল হক ও ঢাকা ১৮ (বাড্ডা, বিমানবন্দর, উত্তরখান, দক্ষিণখান, উত্তরা, খিলক্ষেত) আসনে অধ্যাপক লিয়াকত হোসেন।
