ছোট বেলায় পড়াশুনা বেশি একটা ভালো লাগতো না। মন বারবার ছুটে চলে যেতো খেলার মাঠে। যখন সেখানেও ভালো লাগতো না তখন ঘরের কোণে বসে চলতো আঁকাআঁকি
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগে তৃতীয় বর্ষে পড়ছেন আরিফ আহমেদ। ছোট বেলা থেকেই ঝোঁক ছিল আঁকা-আঁকি নিয়ে। বাবা-মা তার এ কাজে কখনই সন্তুষ্ট হতে পারেননি। কারণ সকল বাবাই চান তার সন্তান ছোট থেকেই ভালোভাবে পড়াশুনা করুক। তারা কখনই চাইতো না তাদের সন্তান পড়াশুনা বাদ দিয়ে খাতা আর রুল নিয়ে সময়-অসময়ে আঁকতে বসে যাক। কিন্তু মন যার এই পথে চলে যায় তাকে কি আর ফিরানো যায়? তাই আরিফকেও ফিরাতে পারেননি তার মা-বাবা।
সেই ছোট্ট আরিফ দিনে দিনে বড় হতে থাকেন। এক সময় তার আঁকার পরিধিও বৃদ্ধি পেতে থাকে। এখন সে কাউকে সামনে পেলেই তার প্রতিরূপ দিতে পারেন খাতার বুকে। আরিফ এখন সময় পেলেই ছবি বা কারো প্রতিরূপ আঁকতে শুরু করে দেন। আঁকিয়ে তা রেখে দেন নিজের ঘরে।
পাশের কক্ষে গিয়ে দেখা গেলো একটি পুরো গ্রামের চিত্র আঁকিয়েছেন আরিফ। সেখানে গ্রামের সরু পথ-ঘাটসহ কৃষকের জীবন সংগ্রামের অনেক চিত্রও ফুটে উঠেছে। প্রচণ্ড রোদে রাখাল গরু রেখে বট গাছের নিচে একটুখানি ঠাণ্ডা হাওয়ায় বসার দৃশ্যও স্থান পেয়েছে তার চিত্রে।
জানতে চাইলাম এতো সুন্দর আঁকতে শেখা কার থেকে? সোজা উত্তর— মনের আনন্দে এমনটি করা। যখন সময় পাই মন ভালো থাকলেই আঁকতে বসে যাই। ছোট বেলায় পড়াশুনা বেশি একটা ভালো লাগতো না। মন বারবার ছুটে চলে যেতো খেলার মাঠে। যখন সেখানেও ভালো লাগতো না তখন ঘরের কোণে বসে চলতো আঁকাআঁকি। ছোট বেলায় বেশ কয়েকবার গ্রামের স্কুলে ছবি আঁকা প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অধিবার করে আরিফ।
তিন ভাই-বোনের মধ্যে আরিফই বড়। বাবা আব্দুল মালেক একটি প্রাইভেট কোম্পানিতে চাকরি করেন ও মা আম্বিয়া খাতুন স্কুল শিক্ষক। আরিফ কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী থানার ভিতরবন্ধ গ্রামেই ছোট থেকে বড় হয়ে ওঠেন। সেখান থেকেই তিনি ২০০৭ সালে মাধ্যমিক ও ২০০৯ সালে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেন। পরে ২০১১ সালে ভর্তি হন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগে। এখন তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে তৃতীয় বর্ষে পড়ছেন।
