বাগেরহাটের শরণখোলায় সূর্যমুখী ফুল চাষিরা বীজ নিয়ে বিপাকে পড়েছেন। একটি বেসরকারি সংস্থা গত বছর ১৮ থেকে ২২শ’ টাকা দরে বীজ কিনলেও এবার তারা বীজের দাম করেছে ১২শ’ টাকা। ওই সংস্থা ছাড়া আর কোন ক্রেতা না থাকায় কৃষকরা হতাশা পড়েছে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বেসরকারি সংস্থার উদ্যোগে চাষিরা সূর্যমুখী ফুল চাষ শুরু করেছিলেন। সংস্থাটি বিনামূল্যে বীজ সরবরাহের পাশাপাশি অফেরতযোগ্য আর্থিক সহযোগিতা এবং নতুন এ ফসলের সম্ভাবনাময় বাজার নিশ্চিত করার আশ্বাস দিয়েছিল। সেই আশ্বাসের ভিত্তিতে এবং সহযোগিতায় শরণখোলার ৩৬২ জন চাষি ২৫৪ একর জমিতে সূর্যমুখী চাষ করেন।
কৃষক শাহজাহান মুন্সি জানান, সে ১০ বিঘায় সূর্যমুখী ফুলের চাষ করে ৪৫ মণ বীজ উত্পাদন করেছেন। এ বছর ঐ সংস্থাটি তাদের প্রত্যেক কৃষককে একর প্রতি সাড়ে সাত হাজার টাকা করে নগদ সহায়তা দিয়েছিল। তখন কিছু না বললেও এখন সংস্থাটি দাদনদারের মত কৌশলে বাজারে বীজের দাম কমিয়ে কৃষকদের বিক্রি করতে বাধ্য করছে। এ সংস্থা ছাড়া অন্য কেউ এ বছর এখনো বীজ কিনতে আসেনি। সরোয়ার আকন, সালাম হাওলাদার, রফিক হাওলাদার ও খলিল হাওলাদার জানান, তারা কয়েকশ মণ বীজ শুকিয়ে সংরক্ষণ করে রেখেছেন। কিন্তু বাজারে ভাল দাম না থাকায় তা বিক্রি করতে পারছেন না।
এসব অভিযোগ অস্বীকার করে ঐ বেসরকারি সংস্থার কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তা কর্মসূচির (এগ্রিকালচার এন্ড ফুড সিকিউরিটি প্রোগ্রামের) ব্যবস্থাপক জীবন কুমার প্রামাণিক বলেন, কৃষকের বীজ বিক্রির বাজার উন্মুক্ত রয়েছে। তারা আমাদের কাছে বীজ বিক্রি করতে বাধ্য নয়। যেখানে দাম বেশি পাবেন সেখানেই তারা তাদের বীজ বিক্রি করতে পারবেন। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের শরণখোলা উপজেলার উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলাম বলেন, গত বছরের তুলনায় সংস্থাটি এ বছর বীজের দাম মণপ্রতি অন্তত আটশ টাকা কম নির্ধারণ করেছে। গত বছর এ সময়ে বরিশাল, খুলনা ও নোয়াখালী থেকে ব্যবসায়ীরা শরণখোলা থেকে সূর্যমুখী বীজ কিনেছেন। এ বছর এখনো তারা কেউ বাজারে আসেনি।
