বৃক্ষরোপণের সময় এখন। সারাদেশে সরকারি বেসরকারি এবং ব্যক্তিগত পর্যায়ে বৃক্ষরোপণ চলছে। বৃক্ষরোপণের কয়েকটি নমুনা এবং এর পরিপ্রেক্ষিতে ব্যক্তিগত ভাবনা তুলে ধরা হলো।
দৃশ্যপট ১: চন্দ্রিমা উদ্যানের লেকের পাড়ের ফুটপাত। বিজয় সরণি থেকে লালমাটিয়ার দিকে যে সড়কটি চলে গেছে এর মুখেই (এমপি হোস্টেলের বিপরীতে) ফুটপাতে চার-পাঁচটি কৃষ্ণচূড়ার চারা রোপিত হয়েছে। এসব স্থানে একসময় কৃষ্ণচূড়ার গাছ ছিল। কোনো কারণে হয়তো মরে গেছে। সেই শূন্য স্থানগুলো পূরণের জন্যই এই চারা রোপণ। নিঃসন্দেহে ভালো উদ্যোগ। কিন্তু চারাগুলোর উচ্চতা এবং এগুলোর পরিচর্যার ব্যবস্থা দেখে যে কেউ হতাশ হবে। প্রতিদিন এ ফুটপাত দিয়ে অসংখ্য নারী পুরুষ শিশু চলাফেরা করে। অথচ চারাগুলোর নিরাপত্তার জন্য কোনো খুঁটি বা বেড়ার ব্যবস্থা নেই। বৃক্ষরোপণের আদর্শ উদাহরণই বটে!
দৃশ্যপট ২: রাজারবাগ পুলিশ লাইনের শান্তিনগর সাইডের গেইট। এজিবি কলোনি থেকে যে রাস্তাটি শান্তিনগর চলে গেছে সেই রাস্তার ফুটপাত ঘেঁষে বেশ কিছু মেহগনি গাছ রয়েছে। সম্প্রতি রাস্তা সংস্কারের সময় ইট সুরকি আর পিচের কঠিন মিশ্রণে গাছগুলোর কোমর চেপে ধরা হয়েছে। যেন মোটা হতে না পারে। অথচ একটু সচেতন হলে গাছগুলোর গোড়া খোলা রাখা যেতো। এতে করে ওরা সহজে বেড়ে উঠতে পারতো। মাটির ফাঁক দিয়ে ভিতরে বৃষ্টির পানি প্রবেশ করতে পারতো। কিন্তু নাগরিক ব্যস্ততায় ঠিকাদারের ব্যবসায়িক ব্যস্ততায় বোবা বৃক্ষের কান্না শোনার সময় সুযোগ কোথায়?
দৃশ্যপট ৩: হাতিরঝিল প্রকল্পের ইস্কাটনের বিয়াম স্কুল অ্যান্ড কলেজের পেছনের দিক। প্রকল্পটি উদ্বোধনের সময়ই অনেকটা তাড়াহুড়ো করেই বৃক্ষরোপণ করা হয়েছে। এখন আবার এই বৃক্ষরোপণের সময় বিভিন্ন অপরিসর স্থানের ফাঁকে ফাঁকে চারা রোপিত হয়েছে। কিন্তু চারাগুলো মাইক্রোস্কোপিক আকৃতির। এগুলোতে কোনো খুঁটি বা বেড়া নেই। এর ফলে ইতোমধ্যেই কিছু চারার অপমৃত্যু ঘটেছে।
অর্থ বছরের শেষদিকে কিছ ুঅর্থ অপচয়ের এই মহতি উদ্যোগে জাতি নিরাশ হবে এটাই স্বাভাবিক।
দৃশ্যপট ৪: রাজধানীর বাসা-বাড়িগুলোর আঙিনা। গেইটের একপাশে ( বা দুপাশ) এর খালি জায়গা। এ জায়গা রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)-এর নির্দেশে ছাড়তে হয়। খোলা জায়গায় বৃক্ষরোপণ হচ্ছে। ছোট-বড়, ফলদ বনজ, ওষুধি কত রকমের বৃক্ষ রোপিত হচ্ছে ছোট পরিসরের স্থানটুকুতে। কখনো মালিক নিজে কখনো বা তার বেতনভুক্ত ব্যক্তিরা গাছের যত্ন নিচ্ছেন। লতানো, পাতানো, খাড়া নানাজাতের ফুল ফলের গাছ। এমনকি আম, কাঁঠাল, জাম, ক্রিস্টমাস ট্রির মতো বিশাল আকৃতির সব গাছপালা ঠাঁই পাচ্ছে আঙিনায়।
কিন্তু বৃক্ষপ্রেমী বাড়ির ঐ মালিক বা তার কর্মচারীর গাছপালা সম্পর্কে সামান্যতম ধারণা থাকলে এসব গাছ রোপণ করতেন না।
এমনি আরো অনেক বৈসাদৃশ্যপূর্ণ দৃশ্য আমাদের চোখে পড়বে। রাজধানীতে এবং রাজধানীর বাইরে। এসব দৃশ্যকে সাদৃশ্যপূর্ণ করার জন্য শুধু সংশ্লিষ্ট সকলের একটু মনোযোগী হওয়া আবশ্যক। তবেই বৃক্ষরোপণের এ উদ্যোগ সার্থক হবে।
ঢাকা
