লালমনিরহাটে পারভীনা হত্যার দায়ে চারজনের মৃত্যুদণ্ড

আপডেট : ০৯ জুলাই ২০১৩, ২২:৪৬
লালমনিরহাটে চাঞ্চল্যকর কলেজ ছাত্রী পারভীনা ধর্ষণ ও হত্যা মামলার রায়ে আদালত ৪ জনকে মৃত্যুদণ্ড ও প্রত্যেককে ৫ হাজার টাকা জরিমানা প্রদানের আদেশ দিয়েছে। জেলা ও দায়রা জজ ওসমান হায়দার গতকাল মঙ্গলবার জনাকীর্ণ আদালতে এ রায় প্রদান করেন। লালমনিরহাট সদর উপজেলার সাকোরপাড় গ্রামের পল্লী চিকিত্সক ছলিম উদ্দিনের মেয়ে কলেজ ছাত্রী পারভীনা বেগম ২০০৮ সালের ১০ জানুয়ারি বিকালে প্রাইভেট পড়ে বাড়ি ফেরার পথে নিখোঁজ হন। ১২ জানুয়ারি সকালে একই ইউনিয়নের রতিধর গ্রামের একটি পুকুরে পারভীনার লাশ পাওয়া যায়। ১২ জানুয়ারি পারভীনার ভাই শফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে ৩ জনকে আসামি করে লালমনিরহাট সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। পুলিশ মামলার প্রধান আসামি হালীম বাদশা ওরফে বাদশা হালীমকে সেদিনই গ্রেফতার করে। হালীম বাদশা পরদিন লালমনিরহাটে তত্কালীন অতিরিক্ত চীফ জুটিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সাইফুর রহমানের আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে। তার স্বীকারোক্তি মোতাবেক পুলিশ ১৪ জানুয়ারি একটি বাঁশঝাড় থেকে পারভীনার ব্যবহূত বিভিন্ন জিনিসপত্র ও বইখাতা উদ্ধার করে। হালীম বাদশার স্বীকারোক্তি মোতাবেক ও তদন্তের ভিত্তিতে পুলিশ আসামি হালীম বাদশা ওরফে বাদশা হালীম (২৭), মাহবুবার রহমান ওরফে মাহবুব (২৬), রাশেদুল ইসলাম ওরফে রশিদুল (২৮) এবং আতাউর রহমানের (২৫) বিরুদ্ধে ২০০৮ সালের ১২ মে আলোচিত এ মামলার চার্জশিট আদালতে দাখিল করে। চলতি বছরের ৬ জুন আলোচিত এ মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হলে ১৯ জুন বাদী ও বিবাদী পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হয়। ২৭ জুন এ মামলার রায় প্রদানের জন্য প্রথম তারিখ ধার্য হয়, রায় প্রস্তুত না হওয়ায় ৩ জুলাই নতুন তারিখ দেয়া হয়। এ দিনেও রায় হয়নি। ৯ জুলাই রায় প্রদানের সর্বশেষ তারিখে গ্রেফতারকৃত ৪ আসামিকে আদালতে উপস্থিত করে তাদের সকলের ফাঁসির আদেশ দেন লালমনিরহাট নারী ও শিশু নির্যাতন দমন বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক জেলা ও দায়রা জজ ওসমান হায়দার। মামলার রায়ের বিরুদ্ধে আসামি পক্ষ আগামী ১৫ দিনের মধ্যে উচ্চ আদালতে আপিল করার সুযোগ পাবেন। আলোচিত এ গণধর্ষণ ও হত্যা মামলাটি ২০০৯ সালে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চাঞ্চল্যকর মামলা হিসাবে মনিটরিং সেলে অন্তর্ভুক্ত হয়। মামলা পরিচালনায় আইন ও শালিস কেন্দ্র, ব্র্যাক এবং আরডিআরএস আইনজীবীর মাধ্যমে আইনি সহায়তা প্রদান করে। ৯ জুলাই মামলার রায় ঘোষণার সময় রাষ্ট্রপক্ষে লালমনিরহাটের পাবলিক প্রসিকিউটর আকমল হোসেন আহম্মেদ, এডিশন্যাল পাবলিক প্রসিকিউটর সফুরা বেগম রুমি, আসামি পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট রুমাইনুল ইসলাম ও অ্যাডভোকেট ফজলুল হক সরকার উপস্থিত ছিলেন। মামলার বাদী কলেজ শিক্ষক শফিকুল ইসলাম মামলার রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, আদালতের রায়ে ন্যায় বিচার পেয়েছি। তিনি আসামিদের ফাঁসি দ্রুত কার্যকর করার দাবি জানান।