শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারির ঘটনায় বিভিন্ন অনিয়মের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে সাময়িক বরখাস্ত হওয়া বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) নির্বাহী পরিচালক আনোয়ারুল কবির ভুঁইয়াকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংস্থাটি। গতকাল মঙ্গলবার বিএসইসি’র কমিশন সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
বিএসইসি জানিয়েছে, সাময়িক বরখাস্ত নির্বাহী পরিচালক মো. আনোয়ারুল কবির ভুইয়ার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের তদন্ত প্রতিবেদন বিবেচনা করে চাকরি বিধিমালা ১৯৯৫ অনুযায়ী গুরুদণ্ড হিসাবে ৬টি বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি (ইনক্রিমেন্ট) কেটে তাকে অবসরে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। যা অবিলম্বে কার্যকর হবে।
বিএসইসি সূত্র জানিয়েছে, ২০১০ সালে শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারি নিয়ে সরকার কৃষি ব্যাংকের চেয়ারম্যান খন্দকার ইব্রাহিম খালেদের নেতৃত্বে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। ওই কমিটির তদন্ত প্রতিবেদনে বিএসইসি’র একাধিক নির্বাহী পরিচালক ও পরিচালকের নাম আসলে তা অধিকতর তদন্ত করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এ সময় বিএসইসি দুই সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করে। এতে বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক আনোয়ারুল কবির ভুঁইয়ার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ প্রমাণিত হয়। আর বিএসইসি’র অপর অভিযুক্ত সদস্য এটিএম তারিকুজ্জামনের অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাকে অব্যাহতি দেয়া হয়।
তদন্ত কমিটির বক্তব্যে বলা হয়-বিএসইসির দণ্ডাদেশ অনুযায়ী কমিশনের কোন কর্মকর্তা বা কর্মচারী নিজে বা তার স্বামী বা স্ত্রী, পিতা বা মাতা, ছেলে বা মেয়ে ও পোষ্যদের নামে প্রাইমারি অথবা সেকেন্ডারি মার্কেটে সিকিউরিটিজ লেনদেনে কোন প্রকার সম্পৃক্ত থাকতে পারবে না। কিন্তু এর পরও বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক আনোয়ারুল কবির ভুঁইয়ার স্ত্রী রোখসানা আখতারের নামে চারটি বিও একাউন্টের প্রমাণ পাওয়া যায়। যেখানে বড় অঙ্কের লেনদেন হয়। এছাড়া তার বিরুদ্ধে বিএসইসি’র সার্ভিল্যান্স বিভাগের প্রধান থাকা অবস্থায় তথ্য পাচারের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে।
