শতাধিক শিশুর কণ্ঠে একক ও বৃন্দ কবিতা

আপডেট : ১০ জুলাই ২০১৩, ১৯:১৯
ছোটদের চমত্কার এক আবৃত্তি অনুষ্ঠান হয়ে গেল চট্টগ্রাম জেলা শিল্পকলা একাডেমী মিলনায়তনে। গত ৩ জুলাই সন্ধ্যায় সাতটি সংগঠনের প্রায় শতাধিক শিশু আবৃত্তিশিল্পীর কণ্ঠে একক ও বৃন্দ কবিতার উচ্চারণে উত্সব মুখর ছিল গোটা শিল্পকলা অঙ্গন। আর মিলনায়তনপূর্ণ শ্রোতারা ছিলেন মুগ্ধ। শিশু-কিশোরদের নিয়ে ‘চাঁদের হাসি বাঁধ ভেঙেছে’ শিরোনামের ভিন্নধর্মী এ আবৃত্তি অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বাচিক শিল্পচর্চা কেন্দ্র ‘তারুণ্যের উচ্ছ্বাস’। ভারতীয় সহকারী হাই কমিশনের সহযোগিতায় অনুষ্ঠিত এ আয়োজনের উদ্বোধন করেন দেশবরেণ্য কবি আসাদ চৌধুরী। উদ্বোধনী সভায় জিন্নাহ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অতিথি ছিলেন ভারতীয় সহকারী হাই কমিশনার সোমনাথ ঘোষ এবং সরকারি চারুকলা কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক রীতা দত্ত। শামীমা ইয়াসমিনের পরিচালনায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মো. মুজাহিদুল ইসলাম। উদ্বোধকের বক্তব্যে কবি আসাদ চৌধুরী বলেন, ‘সম্প্রতি দেশে অপ্রেম ও হিংসার চর্চা বেড়ে গেছে। একমাত্র শুদ্ধ সংস্কৃতির চর্চাই পারে এর বিরুদ্ধে রুখে দাড়াঁতে। একটি মেশিনগানের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে পারে একটি লালনগীতি, একটি কবিতা।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের সংস্কৃতি হাজার বছরের। কিন্তু বর্তমানে আমাদের সে সংস্কৃতি কেমন যেন ঝাপসা হয়ে আসছে। তাই আজকের আয়োজনের মতো এমন চর্চার ধারাবাহিকতা আমাদের ইতিবাচক সমাজ ও প্রজন্ম উপহার দিবে বলে আমার বিশ্বাস।’ বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সোমনাথ ঘোষ বলেন, ‘সমাজ পরিবর্তনের জন্য সাহিত্য ও সংস্কৃতি চর্চার বিশেষ প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। চট্টগ্রামে মানসম্মত শিল্প চর্চা হচ্ছে। এটি অবশ্যই আনন্দের বিষয়।’ অধ্যাপক রীতা দত্ত বলেন, ‘আমাদের চারপাশে কেমন যেন এক অস্বস্তিকর পরিবেশ বিরাজ করছে। মূল্যবোধের বাতিগুলো নিভে যাচ্ছে। এমন একটি সময়ে এ ধরনের অনুষ্ঠানের আয়োজন খুব প্রয়োজন ছিল। শিশুদের নিয়ে এ ধরনের বর্ণাঢ্য একটি আবৃত্তি আয়োজন এবং এর ধারাবাহিকতা আগামীতে দেশের বাকশিল্পকে আরও শাণিত ও সমৃদ্ধ করতে বিশেষ ভূমিকা রাখবে বলে আমার বিশ্বাস।’ আবৃত্তি পর্বে শিশুশিল্পী ঐশী চৌধুরীর উপস্থাপনায় অনুষ্ঠানে একক আবৃত্তি পরিবেশন করে তারুণ্যের উচ্ছ্বাসের শিশু আবৃত্তিশিল্পী হুমায়রা তাবাস্সুম ইকরা, মৃত্তিকা সাজি, আল বাকী আকন, ইশরাক শাহরীয়ার, আনিকা মারজান, মাসফিক মিজান, অর্পিতা মুহুরী, কাবেরী দাশ, শ্বাশত বড়ুয়া, ওয়াহিদ সাকলাইন। বোধনের তাসনিয়া বিনতে আয়ূব এবং আবুসাইদ রিয়াদ, সূচয়ন ললিতকলা কেন্দ্রের ফৌজিয়া মেহেজাবিন এবং অর্ঘ মহাজন। বৃন্দ আবৃত্তিতে কংকন দাশ ও বিশ্বজিত্ পালের গ্রন্থনা-নির্দেশনায় প্রমা আবৃত্তি সংগঠন পরিবেশন করে ‘ভাবি যাহা মনে’। মুবিদুর রহমানের নির্মাণ ভাবনায় ‘ডাকঘর’ শীর্ষক আবৃত্তি করে ফুলকি চট্টগ্রাম। আবৃত্তিশিল্পী মিলি চৌধুরীর গ্রন্থনা ও নির্দেশনায় ‘বিচিত্র সাধ’ পরিবেশন করে শৈশব চট্টগ্রাম এবং এহতেশামুল হকের গ্রন্থনা ও নির্দেশনায় ‘মুখোশ’ শীর্ষক বৃন্দ আবৃত্তি করে চট্টগ্রাম আবৃত্তি চর্চা কেন্দ্র। অনুষ্ঠানটির সমন্বয়ে ছিলেন মিঠু তলাপাত্র ও শ্রাবণী দাশগুপ্তা।