চঞ্চল চৌধুরী

আপডেট : ১০ জুলাই ২০১৩, ১৯:৩১
আরণ্যক নাট্যদলের সাথে কাজ করার মধ্যদিয়েই অভিনয় জীবনের শুরু তার। মামুনুর রশীদের লেখা ‘সুন্দরী’ নাটকে ছোট একটি চরিত্রে তিনি প্রথম অভিনয় করেন। তিনি বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্র বাজানো, অভিনয়, গান, ছবি আঁকা এ সবকিছুতেই সমান পারদর্শী। কোডা, সোডা ও ইউডা কলেজের চারুকলার প্রভাষক হিসেবে দায়িত্বে আছেন এই অভিনেতা। মিডিয়াতে অল্প সময়ে দক্ষ অভিনেতা হিসেবে নিজের অবস্থান পোক্ত করেছেন। প্রতিটি চরিত্রেই নিজেকে ভেঙে আবার গড়েছেন, এর মাধ্যমেই চরিত্রের সঠিক তত্ত্ব তুলে ধরেছেন দর্শকদের সামনে। আনন্দ বিনোদন-এর নিয়মিত আয়োজন পাঁচ প্রশ্ন বিভাগে চঞ্চল তার সাম্প্রতিক ব্যস্ততাসহ বলেছেন কিছু ভাবনার কথা। সাক্ষাত্কারটি নিয়েছেন রিয়াদ খন্দকার কেমন যাচ্ছে আপনার সময়টা? আমি ভালো আছি, আমি ভালো কাজ করছি, আমি ভালো অনুভব করছি, সদা হাস্যোজ্জ্বল আছি—এটাই আমার জীবনের মূল বিষয়। সবচেয়ে বড় বিষয় আমার পরিবার, এটাই আমার সকল সুখের আধার। আর বরাবরই কাজের ক্ষেত্রে আমি অনেক পরিমিত। কাজটা ভালোবেসেই করতে চাই। বর্তমানে ব্যস্ততা কী নিয়ে? বর্তমানে অনেকগুলো ধারাবাহিকে কাজ করছি। এ ছাড়া ঈদের কাজ তো রয়েছেই। সব মিলিয়ে সময়টা দারুণ ব্যস্ততায় কাটছে। মূলত দর্শক আমাকে যেমন দেখতে চায় তেমনভাবেই আমি তাদের সামনে উপস্থিত হই। কাজ নিয়ে কখনও নিজের মাঝে অস্থিরতাবোধ করিনি আমি, কাজটাকে ফুটিয়ে তোলার চেষ্টাই আমার মাঝে সবসময় তাড়া করে। কোন ধরনের চরিত্রে কাজ করতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন? আমি সবধরনের চরিত্রেই কাজ করতে পছন্দ করি। তবে পছন্দ বলতে গেলে ‘আমি যা না’ সেই চরিত্রেই অভিনয়টা বেশি উপভোগ করি। যে চরিত্রে ‘তোমার হচ্ছে না’ টাইপের কোনো কিছু থাকে তাকেই আমি চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিতে পছন্দ করি। চরিত্রের সঙ্গে নিজেকে রূপান্তর করাটা একটা নেশা বলতে পারেন। আর বর্তমানে আমাদের স্ক্রিপ্টের মধ্যে অনেক বৈচিত্র্য এসেছে। এখন আর নির্দিষ্ট প্রেম-ভালোবাসার মধ্যে আমাদের নাটক আটকে নেই। দৈনন্দিনের নানা ধরনের ঘটনাগুলোই উঠে আসছে আমাদের নাটকগুলোতে, সে ক্ষেত্রে আমাদের নাটকগুলোও অনেকবেশি জীবনঘনিষ্ঠ হয়ে ওঠেছে। নাটকের মাঝে অতিরিক্ত বিজ্ঞাপন দেখানো সম্পর্কে আপনার মতামত জানতে চাই। অনেকেই ভাবতে পারে দর্শকরা অনেক বোকা, আসলে কিন্তু তা নয়। দর্শক বুঝেশুনেই টিভি দেখতে বসে। দেখা গেল নাটকের টাইটেল দেখানোর পরই শুরু হয়ে গেল বিজ্ঞাপন এ ক্ষেত্রে মাঝে মাঝে আমারই মনে হয় আমরা দর্শকদের নাটক দেখাতে চাই না। এ থেকে পরিত্রাণের উপায় চ্যানেলগুলোর হাতেই আছে, তারা চাইলেই বিষয়টিকে একটি ফরম্যাটে নিয়ে আসতে পারে। আর আমাদের বর্তমান স্ক্রিপ্টগুলো মনে হয় অনেক দুর্বল। দর্শকদের ধরে রাখার মতো মানসম্মত নয়। ভালো গল্প হলে দর্শক অবশ্যই দেখবে। এ ক্ষেত্রে মেধাবীদের এগিয়ে আসা উচিত। আপনার নাগরিক আনন্দ-বেদনা কতটুকু? দেশের যেকোনো আনন্দে আমি উদ্বেলিত হই, যেকোনো কষ্টে আমি ভারাক্রান্ত হই। সর্বোপরি দেশের বিদ্যমান যেকোনো পরিস্থিতি আমাকে ভাবিয়ে তোলে আমাকে প্রচণ্ড নাড়া দেয়। দেশটা তো নিজেদের এর সংরক্ষণ ভারও কিন্তু নিজেদের উপরেই বর্তায়।