স্লেয়ার একটি আমেরিকান হেভি মেটাল ব্যান্ড, যা ১৯৮১ সালে ক্যালিফোর্নিয়াতে গঠিত হয়। ব্যান্ডটি প্রতিষ্ঠিত হয় গিটারিস্ট জেফ হানিম্যান ও কেরি কিংয়ের মাধ্যমে। ১৯৮৬ সালে প্রকাশিত ‘রেইন ইন ব্ল্যাড, অ্যালবামের মাধ্যমে স্লেয়ার বিখ্যাত হয়ে ওঠে। ব্যান্ডটিকে প্রথম ৪টি বড় থ্রাশ মেটাল ব্যান্ডের (মেটালিকা, মেগাডেথ ও অ্যানথ্রাক্স ব্যান্ড) অন্যতম ধরা হয়। ব্যান্ডটির গল্পটি লিখেছেন প্রাঞ্জল সেলিম
১৯৮৩ সালের প্রথম অ্যালবামের পর থেকে স্লেয়ার ২টি লাইভ অ্যালবাম, ১টি বক্স সেট, ৬টি ভিডিও, ২টি ইপি এবং ১১টি স্টুডিও অ্যালবাম প্রকাশ করে। ব্যান্ডটি ৪টি গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ড মনোনয়ন পায় ও ২০০৭ সালে ১টি গ্র্যামি জিতে নেয় ‘আইস অব দ্য ইনসেন’ গানটির জন্য। ২০০৮ সালে আরেকটি গ্র্যামি জিতে তারা ‘ফাইনাল সিক্স’ গানটির বদৌলতে। ব্যান্ডটি আয়রন মেইডেন ও জুডাস প্রিস্ট ব্যান্ডের গান কাভার করত দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার বিভিন্ন ক্লাবে। তাদের প্রথম দিকের গানের অনুষ্ঠানে তারা পঞ্চভূজ, মেকআপ, উলটো ক্রুশ চিহ্ন ব্যবহার করত। গুজব আছে যে, তাদের প্রথম নাম ছিল ড্রাগনস্লেয়ার, পরে একটা সিনেমার নাম একই হওয়ায় তারা তা পরিবর্তন করেন। ব্যান্ডটি আয়রন মেইডেন ব্যান্ডের ‘ফ্যান্টম অব অপেরা’ গানটি কাভার করার সময় ব্রায়ান স্লাগেল নামক সংগীত সাংবাদিক ও পরে মেটাল ব্লেড রেকর্ডের প্রতিষ্ঠাতার নজরে পড়েন। তিনি তাদের ‘অ্যাগ্রেসিভ পারফেক্টর’ নামক মৌলিক গান গাইতে বলেন তার ‘মেটাল ম্যাসাকার থ্রি’ প্রজেক্টের জন্য, গানটি আন্ডারগ্রাউন্ডে খুব জনপ্রিয় হয় এবং স্লেয়ার মেটাল ব্লেড রেকর্ডের সাথে চুক্তিবদ্ধ হয়।
তাদের প্রথম অ্যালবামের রেকর্ডিংয়ের সময় তারা টাকা ধার করে কিংয়ের বাবার কাছ থেকে এবং এরসাথে যোগ করে আরায়ার জমানো অর্থ। ১৯৮৩ সালের ডিসেম্বর মাসে তাদের প্রথম অ্যালবাম ‘শো নো মার্সি’ প্রকাশিত হয় এবং ২০,০০০ কপি শুধু আমেরিকাতে ও ২০,০০০ কপি সারা বিশ্বে বিক্রি হয়। ১৯৮৪ সালে স্লেয়ার তিনটি গানের একটি ইপি প্রকাশ করে ‘হন্টিং দ্য চ্যাপেল’ নামে। এতে তারা আরও গভীর থ্রাশ ধাঁচের গান প্রকাশ করে ও এখানেই তাদের ভবিষ্যতের পথ চলার চিহ্ন ফুটে ওঠে। বেলজিয়ামে হেভি সাউন্ড ফেস্টিভ্যালে তারা তাদের প্রথম লাইভ ইউরোপিয়ান সফর করে। এই সফরের পর কিং ডেভ মাস্টেইনের ব্যান্ড মেগাডেথ-এ যোগ দেন।
ডেভ মাস্টেইন চাচ্ছিলেন কিং স্থায়ীভাবে থেকে যাক, কিন্তু পাঁচটা শোয়ের পরেই কিং সিদ্ধান্ত নেন ব্যান্ডটি ত্যাগ করার, কারণ ব্যান্ডটি তার খুব বেশি সময় নিয়ে নিচ্ছিল। এই ভাঙন মেগাডেথ ও স্লেয়ারের মধ্যে দীর্ঘ বিবাদের সৃষ্টি করে। তাদের ‘ডাইয়াবোলাস ইন মুজিকা’ নামের অ্যালবামটি ১৯৯৮ সালে প্রকাশ হয় এবং বিলবোর্ডে ৩১ নাম্বারে চলে আসে, এর ৪৬ হাজারের বেশি কপি বিক্রি হয়ে। এরপর তাদের ‘ক্রাইস্ট ইল্যুশন’ অ্যালবামটি বিলবোর্ডে ৫ নাম্বারে অভিষিক্ত হয় ও ১ম সপ্তাহে ৬২০০০ কপি বিক্রি হয়। এমটিভির মতে তাদের গান ডেথ মেটাল গানের উত্থানের অন্যতম নিয়ামক এবং তারা সর্বকালের সেরা মেটাল ব্যান্ড।
প্রাপ্ত পুরস্কারের তালিকা
‘ডিসিপ্লিন’(২০০২) বেস্ট মেটাল পারফরমেন্স- মনোনীত
‘আইস অব দ্যা ইনসেন’(২০০৭) বেস্ট মেটাল পারফরমেন্স- বিজয়ী
‘ফাইনাল সিক্স’(২০০৮) বেস্ট মেটাল পারফরমেন্স-বিজয়ী
‘হেট ওয়ার্ল্ড ওয়াইড’(২০১২) বেস্ট মেটাল পারফরমেন্স-মনোনীত
