ক্রেজি স্টুপিড ইশক

রোমান্সের বাস্তব চিত্র

আপডেট : ১০ জুলাই ২০১৩, ১৯:৩৩
তারুণ্যের বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস, আজকের তরুণ-তরুণীদের বিচিত্র প্রেমের টানাপোড়েন। এখন এই চ্যানেলে চলছে তেমনি একটি হিন্দি সিরিয়াল ‘ক্রেজি স্টুপিড ইশক’। ভালোবাসা আর বন্ধুত্বের চমত্কার গল্প নিয়ে আবর্তিত জনপ্রিয় এই সিরিয়াল নিয়ে লিখেছেন রেজাউল করিম খোকন ২০১১ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত হলিউডের রোমান্টিক কমেডি ড্রামা ‘ক্রেজি স্টুপিড লাভ’ ছবিটি যারা দেখেছেন তারা চ্যানেল ভি’র সাম্প্রতিক হিন্দি সিরিয়াল, কেবলমাত্র নামের মধ্যে কিছুটা সাদৃশ্য ছাড়া আর তেমন কোনো মিল নেই হলিউডি সিনেমাটির সঙ্গে। তবে ‘ক্রেজি স্টুপিড ইশক’ নামটির কারণে বিপুল সংখ্যক দর্শককে উত্সাহী করেছে সিরিয়ালটি দেখার ব্যাপারে। এক মাস আগে শুরু হওয়া নতুন এই টিভি সিরিয়ালটি এর মধ্যেই বিপুল জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। বিশেষ করে আজকের তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ‘ক্রেজি স্টুপিড ইশক’ দারুণ সাড়া জাগিয়েছে। এই সিরিয়ালের চার প্রধান পাত্র-পাত্রী ইতোমধ্যে দর্শকদের মধ্যে বেশ পরিচিত এবং জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। তারা হলেন আয়ান, আনুশকা, ইশান ও সানায়া। তাদের গভীর বন্ধুত্ব, প্রেম-ভলোবাসা, সম্পর্কের টানাপোড়েন, ঝগড়া-বিবাদ-মনোমালিন্য, ভুল বোঝাবুঝি ইত্যাদি সিরিয়ালটির প্রতি এপিসোডে তুলে ধরা হচ্ছে। এখন যেমন চলছে আনুশকা ও আয়ানের প্রেমময় সম্পর্কের সূচনা পর্ব। যা ধীরে ধীরে প্রস্ফুটিত হচ্ছে। খুব কম সময়ের মধ্যে দর্শক সিরিয়ালটির গল্পের সাথে পাত্র-পাত্রীদের আবেগ, রুচি, পছন্দ-অপছন্দ ইত্যাদির সঙ্গে একাত্ম হয়ে গেছেন। এটা ‘ক্রেজি স্টুপিড ইশক’ সিরিয়ালের সাফল্য বলা যায়। আজকাল তরুণ-তরুণীদের মধ্যে প্রেম-রোমান্সের চেয়ে বন্ধুত্বের সম্পর্কটাই প্রবল তেমন ব্যাপারটি দৃশ্যমান হলেও বাস্তবে ভালোবাসার বিষয়টি শেষ পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। সবচেয়ে ভালো বন্ধু কিংবা বান্ধবীর সঙ্গে যখন কেউ প্রেমের বাঁধনে জড়িয়ে পড়ছে তখন কী ঘটছে সেটাই তুলে ধরা হচ্ছে ‘ক্রেজি স্টুপিড ইশক’ সিরিয়ালে। এই সিরিয়ালের আনুশকা প্রাণচঞ্চল হাসিখুশি স্বভাবের এক তরুণী। তার মধ্যে ছেলেমানুষী ভাবনা এখনও প্রবল। সে একজন নামিদামি বড় তারকা হতে চায়। একদিন সে বিখ্যাত তারকা হবেই—তেমন আত্মবিশ্বাস রয়েছে তার। সঠিক প্ল্যাটফর্মের অপেক্ষায় দিন কাটে তার। নিজের স্বপ্ন পূরণ করতে আনুশকা মুম্বাই চলে আসে। এখানে আসার পর শৈশবের বন্ধু আয়ানের সঙ্গে আনুশকার দেখা হয়ে যায়। তারা ক্রমেই আরও কাছাকাছি চলে আসে। নিজের স্বপ্ন পূরণের পাশাপাশি আয়ানের সঙ্গে ভালোবাসার সম্পর্কের নানা প্রকাশ তাদের দুজনকে আচ্ছন্ন করলেও বাস্তবতাকে উপেক্ষা করতে পারে না। আয়ানের ওপর পুরো সংসারের দায়িত্ব। বাবার মৃত্যুর পর পারিবারিক ঋণ মেটাতে তাকে হিমশিম খেতে হয়। এ জন্য চাকরি নিতে বাধ্য হয় আয়ান। তেমন পরিস্থিতিতে ছোটবেলার বান্ধবী আনুশকার আগমন এবং তার সঙ্গে নতুন করে সম্পর্ক জড়িয়ে পড়ার মাধ্যমে আয়ানের জীবনে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়। একদিকে পারিবারিক দায়িত্ব পালনের চাপ, অন্যদিকে প্রেমিকার নানা ইচ্ছাপূরণের তাগিদ কোনদিকে যাবে আয়ান? তেমন প্রশ্ন দর্শককেও আলোড়িত করে। ওদিকে আয়ানের ছোট ভাই ইশান অন্য ধরনের ছেলে। সে সবকিছুই ঝটপট দ্রুত পেতে চায়। মেয়েদের পটানোর কাজে ওস্তাদ সে। আনুশকার প্রতিও মনোযোগী হয় ইশান। কিন্তু আনুশকার মনোভাব টের পেয়ে পিছিয়ে আসতে হয় তাকে। সানায়া বড় লোক বাবার আদুরে মেয়ে। দেখতে সুন্দরী সানায়া গাইতে পারে ভালো। বাবার মতো সেও একজন সুপারস্টার হতে চায়। বিত্ত-বৈভব বিলাসী জীবনের মধ্যেও সানায়া নিজেকে বড্ড নিঃসঙ্গ মনে করে। মাঝে মাঝে তার মনটা বিদ্রোহী হয়ে উঠতে চায়। একসময়ে তার জীবনে প্রেমের ফল্গুধারা বইতে শুরু করে। সানায়ার অশান্ত মন শান্ত হয়ে আসে। কিন্তু প্রেম-ভালোবাসার ভুবনেও অনেক কষ্ট-বেদনা জ্বালা রয়েছে একসময় সেটাও উপলব্ধি করে সে। তেমনি গল্পে এগিয়ে চলেছে চ্যানেল ভি’র ‘ক্রেজি স্টুপিড ইশক’ সিরিয়ালটি এখানে আয়ান, আনুশকা, ইশান ও সানায়া চরিত্রে রূপদান করেছেন যথাক্রমে বিশাল বাশিষ্ট, হিবা নবাব, হর্ষ রাজপুত ও আনেরি ভিজানি। তাদের মধ্যে হর্ষ রাজপুতকে এর আগে জিটিভির ‘হিটলার দিদি’ সিরিয়ালে ইশান চরিত্রে দেখা গেছে। ওদিকে আনেরি ভিজানি স্টার প্লাস চ্যানেলে ‘কালি-এক পুনর্বতার’ সিরিয়ালে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন। ‘ক্রেজি স্টুপিড ইশক’ সিরিয়ালটি ভি চ্যানেলে সপ্তাহে প্রতি সোম থেকে শনিবার সন্ধ্যা ৭টায় দেখানো হয়।