গল্প নয় সত্যি

হরিষে আতঙ্ক!

আপডেট : ১০ জুলাই ২০১৩, ২০:২৫
পূর্ব ইংল্যান্ডের ছোট্ট সাজানো এক শহরের নাম লিংকনশায়ার। শহরের পরিবেশের মতো শান্তিপূর্ণ এই শহরের মানুষেরাও। আর তাই ইংল্যান্ডের আর দশটা শহরে যেখানে খুন খারাবির বিষয়টা এখন মানুষকে অতোটা নাড়া দেয়না সেখানে এ ধরনের কোনো ঘটনার কথা শুনলে এখনও কিছুটা হলেও চমকে ওঠেন লিংকনশায়ারের মানুষেরা। যেমনটা ঘটে গেল সাম্প্রতিক সময়েও। শহরের স্থানীয় একটি পানশালার সামনে মৃতদেহ পাবার স্থান বোঝাতে পুলিশের আঁঁকা চকের চিহ্ন আর পানশালায় ঢুকতে ‘ঘটনাস্থলে প্রবেশ নিষেধ’ লেখা দেখে রীতিমতো চমকে ওঠেন পানশালায় নিয়মিত আড্ডা দেওয়া মানুষেরা। বাড়তে থাকে পানশালার মালিক পিট উইলিয়ামস এর কাছে একাধিক আতঙ্কিত মানুষের ফোনও। এমনকি কেউ কেউ ৯১১ এ ফোন করে পুলিশের কাছে ঘটনা জানতেও উদ্যোগী হলেন। অথচ অদ্ভুত কান্ড হলো তখন যে ৯১১-এ ফোন ধরার মতো শেষ মানুষটিও পানশালায় আনন্দ-উল¬াস করতে ব্যস্ত! ভাবছেন শহরের মানুষকে আতঙ্কে রেখে এ আবার স্থানীয় পুলিশের কেমনতর আচরণ। যদিও এই বিষয়ের নেপথ্যে পুলিশ সদস্যদের আনন্দের চাইতে পানশালার মালিক পি উইলিয়ামস্ এর দায়ই যে বেশি ছিল তা জানতে বেশ অনেকটা সময় অপেক্ষাই করতে হয় লিংকনশায়ারের অধিবাসীদের। আসলে পুলিশের এক বড়কর্তা এবং সবার অত্যন্ত প্রিয় মানুষ সার্জেন্ট স্টুয়ার্ট ব্রাদারটনের দায়িত্ব ছাড়ার মুহূর্তটিকে স্মরণীয় করে রাখতেই হত্যাকান্ডের পরে ঘটনাস্থলের মতো করে পানশালাটিকে সাজিয়েছিলেন পানশালার মালিক। এজন্য প্রায় ২০০ পাউন্ড খরচ করে পানশালার সকল ওয়েটারকে পুলিশের পোশাকে সজ্জিত করা, পানশালার সামনে মৃতদেহ প্রাপ্তির চিহ্ন দেওয়া, ফুল ছিটানো আর ক্যাচাপ দিয়ে রক্তের ছোপ তৈরি করার মতো নানা আয়োজন করেছিলেন মালিক। আর তার এই সাজানো নাটককে সত্যি ভেবে নিয়েই সেদিন আতঙ্কিত হয়ে উঠেছিলেন লিংকনশায়ারের শান্তিপ্রিয় মানুষেরা।