উত্তরাঞ্চলে হাজারো মানুষপানিবন্দী, দেবীগঞ্জে নিহত ১

আপডেট : ১০ জুলাই ২০১৩, ২২:০১
উজানের পাহাড়ী ঢল ও ভারি বর্ষণে উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন নদ-নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে চরাঞ্চলের গ্রামগুলোতে বন্যা দেখা দিয়েছে। পানিবন্দী হয়ে পড়েছে হাজার হাজার মানুষ। তলিয়ে গেছে ফসল, আমনের বীজতলা। ভেসে গেছে পুকুরের মাছ। পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে বন্যায় একজনের মৃত্যু হয়েছে। এ বিষয়ে আমাদের প্রতিনিধি ও সংবাদদাতাদের পাঠানো খবর। বোঁচাগঞ্জ ( দিনাজপুর) বোচাগঞ্জ উপজেলা এবং ঠাকুরগাঁও জেলার পীরগঞ্জ উপজেলার মধ্যে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। উজান থেকে ধেয়ে আসা পানি এবং অবিরাম বর্ষণে টাঙ্গন নদীতে অস্বাভাবিকভাবে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় উপজেলার ১নং ইউপি’র সেনিহারী ইক্ষু ফার্ম সংলগ্ন প্রধান সড়ক নদী ভাঙ্গনের কবলে পড়লে যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয় এবং জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয়। নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় আমনের বীজতলা আখ, ভুট্টাসহ বিভিন্ন ধরনের ফসল পানির নিচে তলিয়ে যায়। এছাড়াও নদীর তীরবর্তী বিভিন্ন গ্রামের প্রায় ৫ শতাধিক পরিবার গৃহহীন হয়ে পড়েছে। নীলফামারী বিভিন্ন চরে বসবাসরত ১০ হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। ডিমলাসহ আশেপাশের উপজেলা গুলোতে গত ৬ দিনের টানা বর্ষনে নাউতরা, বুড়িতিস্তা, কুমলাই নদীর পানি লোকালয়ে প্রবেশ করছে। উজানের পাহাড়ী ঢলে নীলফামারী, লালমনিরহাট জেলার কয়েকটি উপজেলার ৪ সহস্রাধিক ঘর-বাড়িতে বন্যার পানি প্রবেশ করেছে। বন্যার কারণে খালিশা চাপানি পূর্ব বাইশপুকুর স্বেচ্ছাশ্রমের মাটির বাঁধটি চরম হুমকিতে পড়ছে। এলাকাবাসী শত শত বালুর বস্তা, বাঁশ দিয়ে পাইলিং করে রক্ষার চেষ্টা করছে। বন্যার পানির স্রোত বাইশপুকুর, ছোটখাতা, কিসামত ছাতনাই, ঝাড়শিঙ্গেরশ্বর, ছাতনাই, বাঘেরচর, টাবুর চর, ভেন্ডাবাড়ি, ছাতুনামা, হলদিবাড়ী, একতার চর, ভাষানীর চর, উত্তর খড়িবাড়ী, পূর্ব খড়িবাড়ী, গোলমুন্ডা, ডাউয়াবাড়ি, শৌলমারী, কৈমারী ও হাতীবান্ধা উপজেলার তিস্তা অববাহিকার গ্রামগুলোর উপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে। মানুষজন তিস্তার ডানতীর প্রধান বাঁধে আশ্রয় নিয়েছে। খগাখড়িবাড়ী ইউপি চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম লিথন জানান, কিসামত চরের ২ শতাধিক পরিবারকে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। ডোমার উপজেলার পাঙ্গা মটুকপুর ইউনিয়নের মেলা পাঙ্গা, মৌজা পাঙ্গা, জোড়াবাড়ী ইউনিয়নের জোড়াবাড়ী, বেতগাড়া ও মির্জাগঞ্জ এবং গোমনাতী ইউনিয়নের উত্তর গোমনাতী গ্রামের প্রায় ৫ সহস্রাধিক মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু রাফা মোহাম্মদ আরিফ জানান, ইউপি চেয়ারম্যানদের ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা দেয়ার জন্য বলা হয়েছে । নাগেশ্বরী (কুড়িগ্রাম) দু’দিনের টানা বৃষ্টি ও উজান আসা পাহাড়ী ঢলে নাগেশ্বরীর সব নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে লোকালয়ে প্রবেশ করেছে। ৫ শতাধিক পরিবার পানিবন্দী। সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, ১টি পৌরসভা ও ১৪ ইউনিয়নের সেনপাড়া, চর রহমানেরকুটি, চরলুছনি, তেলিয়ানী, মালিয়ানী, মুড়িয়া, দামালগ্রাম, ধাউরারকুটি, পাঁচমাথা, মিনাবাজার, খেলারভিটা, চর বেরুবাড়ীর কিছু অংশ, কুমরিয়ারপাড়, ধনীরপাড়, চরপাটতলা, চরকাপনা, মাঝেরচর, বোয়ালমারী, চরঝাউকুটি উত্তর, ঝাউকুটি দক্ষিণ, বারোবিশ, অষ্টআশীর চর, চর নুনখাওয়া, মাঝিয়ালী, পাখিউড়া, আইড়মারী, ভেড়ামারা, কালাইয়ের চর, বালারহাট, চৌদ্দঘুড়ি ও চর শৌলমারী গ্রাম তলিয়ে গেছে। দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ জলের সংকট। তলিয়ে গেছে রোপা আমন বীজতলা, ভেসে গেছে অর্ধশতাধিক পুকুরের মাছ। দেবীগঞ্জ (পঞ্চগড়) অবিরাম বর্ষণ ও ভারতের উজান থেকে বয়ে আসা পানিতে উপজেলার ৬ ইউনিয়নের গ্রামাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। পানিবন্দী হয়ে পড়েছে ৪২শ’ পরিবার। এদিকে শালডাঙ্গা ইউনিয়নের ধ্যানগ্রামের মনিরাম ঘর চাপা পড়ে মঙ্গলবার মারা গেছে। বীজতলা, আমন ক্ষেত পানিতে ডুবছে। ভেসে গেছে পুকুরের মাছ। কাজীপুর (সিরাজগঞ্জ) কাজীপুরে যমুনা নদীতে পানি বৃদ্ধির কারণে সিংড়াবাড়ীতে ৪নং সলিড স্পারটি নদী ভাঙ্গনে হুমকির মুখে পড়েছে। এতে ঐ স্পার সংলগ্ন এলাকার মানুষের মাঝে ভাঙ্গন আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয় সংসদ সদস্য তানভীর শাকিল জয় ভাঙ্গন কবলিত স্পারটি পরিদর্শনে গিয়ে জরুরিভিত্তিতে স্পারটি রক্ষার জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন। জানা যায়, স্পারটির ভাঙ্গন ঠেকাতে বালির বস্তা ড্যাম্পিং এর কাজ শুরু করার প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, স্পারের ভাটির অংশে ঘূর্ণাবর্তের সৃষ্টি হয়ে আবাদি জমি ও ফসল একের পর এক নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। ভাঙ্গন আতংকে এলাকার মানুষ তাদের ঘর-বাড়ি অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।