রফতানি বন্ধেও কাজ হলো না। কাঁচা মরিচের কেজি এখন ১৪০ থেকে ১৫০ টাকা। আর বেগুন বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকা কেজিতে। অথচ পবিত্র রমজানে স্বল্প আয়ের মানুষের ভোগান্তি কমাতে এ দু’টি পণ্য সরকার আগামী তিন মাসের জন্য রফতানি বন্ধ ঘোষণা করেছে। তবে রফতানি বন্ধের আগে গত সপ্তাহে রাজধানীর বাজারগুলোতে কাঁচা মরিচ ৭০ থেকে ৮০ টাকা ও বেগুন ৩০ থেকে ৩৫ টাকা কেজিতে বিক্রি হয়েছে। একইভাবে কাজে আসেনি ছোলা, চিনি ও ভোজ্যতেলের দাম নির্ধারণ। কোন পণ্যই সরকার নির্ধারিত দরে বাজারে বিক্রি হচ্ছে না। অথচ গত ৩০ জুন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে ব্যবসায়ীদের সাথে বৈঠকে করেই পণ্যগুলোর দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল। গতকাল বুধবার রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে সরেজমিনে এই চিত্রই পাওয়া যায়। আর এ নিয়ে ক্রেতাদের ক্ষোভেরও অন্ত ছিল না। মধ্যবাড্ডা বাজারের এক ক্রেতা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দর নির্ধারণ লোক দেখানো ছাড়া কিছুই না। নির্ধারতি দরে যদি সেই পণ্য না পাওয়া যায় তাহলে আর নির্ধারণ করে লাভ কি? এই বাজারে প্রতি কেজি অস্ট্রেলিয়ান ছোলা বিক্রি হচ্ছে ৬৬ থেকে ৭০ টাকা। অথচ খচুরা দাম নির্ধারণ করা হয়েছে প্রতি কেজি ৬২ টাকা। এ প্রসঙ্গে মধ্যবাড্ডা বাজারের এক দোকানী বলেন, আমরা প্রতি কেজি অস্ট্রেলিয়ান ছোলা বিক্রি করছি ৭০ টাকা। কিন্তু সরকারতো দর নির্ধারণ করেছে ৬২ টাকা কেজি। বেশি দামে বিক্রি করছেন কেন? এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, দাম নির্ধারণের বিষয়টি আমরা জানি না।
একই অবস্থা সয়াবিন, চিনি ও খেজুর বিক্রি ক্ষেত্রেও। চিনির বেঁধে দেয়া দাম ৪৫ টাকা ৫০ পয়সা হলেও বিক্রি হচ্ছে ৪৭ থেকে ৫০ টাকায়, মসুর ডাল (কানাডা) ৭৫ থেকে ৮৫ টাকা নির্ধারণ করলেও বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ৮৫ টাকায়। এক লিটারের বোতলজাত সয়াবিন ১২৭ টাকা নির্ধারণ করা হলেও বিক্রি হচ্ছে ১৩০ থেকে ১৩২ টাকায়। তবে পাম অয়েল নির্ধারিত দর ৭৩ থেকে ৭৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এদিকে নির্ধারিত দরে বিক্রি না হওয়ায় পাইকারী ব্যবসায়ীরা দোষ চাপাচ্ছেন খুচরা ব্যবসায়ীদের উপর। এ প্রসঙ্গে মৌলভীবাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক গোলাম মাওলা গতকাল ইত্তেফাককে বলেন, সরকার নির্ধারণ দরেই পাইকারি বাজারে পণ্য বিক্রি হচ্ছে। কিন্তু খুচরা বাজারে নির্ধারিত দর মানা হচ্ছে না। এজন্য সরকারের উচিত বাজারে নজরদারি বাড়ানো।
সবজির বাজার চড়া : গতকাল বাজারে প্রতি কেজি বেগুন বিক্রি হয় ৪০ থেকে ৫০ টাকায়। অথচ গত সপ্তাহেও বেগুন বিক্রি হয়েছে ৩০ থেকে ৩৫ টাকায়। এছাড়া দাম বাড়ার তালিকায় আছে প্রায় সব ধরনের সবজি। গতকাল বাজারভেদে টমেটো ৯০ থেকে ১১০ টাকা , শশা ৫০ থেকে ৬০ টাকা, আলু ১৮ থেকে ২০ টাকা, পটল ৩০ থেকে ৩৫ টাকা, করল্লার ৪০ থেকে ৪৫ টাকা, ঢেঁড়শ ৩০ থেকে ৩৬ টাকা, ঝিঙে ৪০ থেকে ৪৫ টাকা ও বরবটি ৪০ থেকে ৪৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়। এছাড়া মাংসের মধ্যে খাসি সাড়ে ৪০০ টাকা, গরু ২৮০ থেকে ৩০০ টাকা, ব্রয়লার মুরগি ১৭০ থেকে ১৭৫ টাকায় বিক্রি হয়। দাম বেড়েছে মাছেরও। গতকাল বাজারে রুই আকারভেদে ২৮০ থেকে ৩৫০ টাকা, , পাঙ্গাস ১৩০ থেকে ২০০ টাকা, শিং, মাগুর ৫৫০ থেকে ৬৫০, তেলাপিয়া ১৬০-২৩০। এছাড়া ফার্মের ডিম প্রতি হালি ৩৪ টাকা ও দেশি মুরগীর ডিম ৪৪ থেকে ৪৫ টাকায় বিক্রি হয়।
কাঁচা মরিচ ও বেগুন রপ্তানি বন্ধের সময় বাড়ল : গতকাল বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, সরকার কাঁচা মরিচ ও বেগুন রপ্তানি বন্ধের সময় আরো দুই মাস বাড়িয়ে তিন মাস করেছে। উল্লেখ্য, গত ৭ জুলাই সরকার পবিত্র রমজানের জন্য এক মাসের জন্য কাঁচা মরিচ, বেগুন ও ধনিয়াপাতা রপ্তানি বন্ধ ঘোষণা করেছিল।
