স্বাস্থ্য খাতের স্থানীয় প্রশাসন আবারো বড় ধরনের অনিয়ম করেছে। এক পদে নিয়োগ দিয়ে অর্থের বিনিময়ে কর্মচারীদের দেয়া হয়েছে অন্য পদ। প্রায় চার শতাধিক কর্মচারীর পদ পরিবর্তনের বিষয়টি গত মঙ্গলবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নজরে আসে। অধিদপ্তর কর্মচারীদের দ্রুত পূর্বের পদে বহাল রাখার জন্য বিভাগীয় পরিচালক ও সিভিল সার্জনদের নির্দেশ দিয়েছে। একই সঙ্গে পদ পরিবর্তনের আদেশও বাতিল করেছে অধিদপ্তর।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা.খন্দকার মো. সিফায়েত উল্লাহ বলেন, পদ পরিবর্তনকারী দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের সনাক্ত করা হচ্ছে। তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। বহু বছর ধরেই স্বাস্থ্য খাতের স্থানীয় প্রশাসন নিয়োগ, বদলি ও কেনাকাটার নামে অনিয়ম করে আসছে। ঢাকার বাইরের কয়েকজন বিভাগীয় পরিচালক, সিভিল সার্জন, জেলা হাসপাতাল ও উপজেলা স্থাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রধানের সমন্বয়ে একটি সিন্ডিকেট এই অনিয়ম করে আসছে। সর্বশেষ কর্মচারীদের পদ পরিবর্তনের বিষয়টির সঙ্গেও এই সিন্ডিকেট জড়িত। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে এ সব তথ্য জানা গেছে। রংপুর বিভাগীয় স্বাস্থ্য প্রশাসনের বিরুদ্ধে পদ পরিবর্তন বাণিজ্যের অভিযোগ সবচেয়ে বেশি। সেখানে এক কর্মকর্তার আগামী ডিসেম্বরে অবসরে যাওয়ার কথা। এর আগে তিনি পদোন্নতি, পদ পরিবর্তন ও কেনাকাটার নামে টাকা কামানোর মিশনে নেমেছেন। অধিদপ্তরের এক শীর্ষ কর্মকর্তা এই অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করেছেন। বরিশাল বিভাগীয় ও ভোলা সিভিল সার্জন অফিসের বিরুদ্ধেও এ ধরনের বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে।
গত মঙ্গলবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তর চার শতাধিক কর্মচারীর পদ পরিবর্তন বাতিলের আদেশ জারি করে। একই আদেশে তাদেরকে পূর্বের পদে যোগদানের নির্দেশ দেয়া হয়। এই আদেশের কপি বিভাগীয় পরিচালক, সিভিল সার্জন, জেলা হাসপাতাল ও উপজেলা স্থাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রধানদের কাছে পাঠানো হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় স্বাস্থ্য প্রশাসন ডোম, মশালসি, গার্ড, সুইপার ও মালি পদে মোটা অংকের উেকাচ নিয়ে নিয়োগ দিয়েছে। কয়েক মাস চাকরি করার পর ওই সকল পদ পরিবর্তন করে এমএলএসএসসহ অন্যান্য পদে নিয়োগ দেয়া হয়। এমএলএসএস পদে নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মচারীদের যারা এসএসসি পাস কিংবা চাকরির মেয়াদ যাদের কমপক্ষে পাঁচ বছর হয়েছে তাদের কেরানি পদে পদোন্নতি দেয়ার নিয়ম রয়েছে। এছাড়া ডোম, মশালসি, গার্ড, মালি ও সুইপার পদে নিয়োগপ্রাপ্তদের পদ পরিবর্তন করে অন্য পদে নিয়োগ দেয়ার কোন বিধান নেই।
স্থানীয় প্রশাসনের এই সিন্ডিকেট ও রাজনৈতিক নেতারা প্রতি পদ পরিবর্তনের জন্য মোটা অঙ্কের টাকা কামাচ্ছেন অনেকদিন ধরে। একেকটি পদ পরিবর্তনের জন্য ৩ থেকে ১০ লাখ টাকা পর্যন্তও নেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
কর্মচারীরা যে পদে নিয়োগে ইচ্ছুক সেই পদ না পেয়ে সিন্ডিকেট ও নেতারা ডোম, মশালসি, গার্ড, সুইপার ও মালি পদে নিয়োগ দেন। যোগদানের কয়েক মাস পরে ওই পদ পরিবর্তন করে দেয় সিন্ডিকেট। ডোম, মশালসি, গার্ড, মালি ও সুইপার প্রতিটি পদে নিয়োগের জন্য নিম্নে ৫ থেকে ১০ লক্ষ টাকা ঘুষ দেয়া হয়। এমন তথ্য নিয়োগপ্রাপ্তদের কয়েক জন জানিয়েছেন।
এক শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, ঘুষ বাণিজ্যের মাধ্যমে এ কাজটি করা হয়েছে তার প্রমাণ তারা পেয়েছে। পদ পরিবর্তনকারীদের সংখ্যা সারাদেশে কয়েক হাজার হবে। অনুসন্ধান করে পদ পরবর্তনকারীদের তালিকা করা হচ্ছে।
