সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সম্পাদক ব্যারিস্টার মাহবুবউদ্দিন খোকন এমপি বলেছেন, শুধু আর্থিক লেনদেন করলেই দুর্নীতি হয় না। কেউ যদি বিচারকের আসনে বসে স্বজনপ্রীতি ও দলীয় চিন্তা করেন সেটাও দুর্নীতি। তিনি বলেন, সরকারদলীয় লোকদের বিচার বিভাগে নিয়োগ দেয়ার মাধ্যমে বিচার বিভাগে দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও দলীয়করণ আরো বাড়ছে। ন্যায় বিচার থেকে মানুষ বঞ্চিত হচ্ছে। এই দুর্নীতির জন্য সরকারও দায়ী।
সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির পক্ষ থেকে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল (টিআই) প্রকাশিত প্রতিবেদনে বিচার বিভাগের দুর্নীতির বিষয় উঠে আসায় সমিতি ভবন মিলনায়তনে গতকাল বুধবার এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এ সময় সমিতির সহসভাপতি এবিএম ওয়ালিউর রহমান খান ও মোহা. শাহাজাদা, কোষাধ্যক্ষ মো. রবিউল করিম, সহ-সম্পাদক এবিএম রফিকুল ইসলাম রাজা উপস্থিত ছিলেন।
ব্যারিস্টার খোকন বলেন, দেশে আদালতের কোন বিচারকের আর্থিক দুর্নীতির জন্য সকল বিচারক বা গোটা বিচার বিভাগকে দায়ী করা ঠিক হবে না। কারো বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে তা প্রকাশ করতে হবে। তিনি বলেন, বিচার বিভাগে দুর্নীতি আছে। তবে এর সঙ্গে আইনজীবীরা জড়িত নন। আইনজীবীরা বিচার বিভাগের অংশ হলেও তাদের দুর্নীতি করার কোন সুযোগ নেই। তিনি বলেন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতার কথা বলা হলেও সরকার এখন পর্যন্ত বিচার বিভাগের জন্য স্বতন্ত্র সচিবালয় প্রতিষ্ঠা করেনি। সরকার আইন মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিচার বিভাগ রেখে সরাসরি নিয়ন্ত্রণ করছে। আইন মন্ত্রণালয়ের বিরুদ্ধে বিভিন্ন পর্যায়ে দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া যায়। তবে কোন নির্দিষ্ট বিচারকের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে তাঁর সম্পত্তির হিসাব বিবরণী দেয়ার বিধান করার দাবি করেন। তিনি বলেন, এতে দেশের জনগণের মধ্যে বিচারক ও বিচার বিভাগ সম্পর্কে আস্থা বৃদ্ধি পাবে।
