বিশিষ্ট শিল্পপতি আজাদ চৌধুরী (ছদ্মনাম) ও মিসেস চৌধুরী। গুলশানের স্থায়ী বাসিন্দা। তাদের দুই ছেলে ও এক মেয়ে। সন্তানরা সবাই প্রবাসী। ছেলেরা নিউইয়র্কে আর মেয়ে থাকেন লন্ডনে। এই বৃদ্ধ ও বৃদ্ধার জীবন কাটে আত্মীয়-স্বজন, গৃহকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে, আর অতীত স্মৃতি রোমন্থন করে। সন্তানরা কালে ভদ্রে দেশে আসেন। ৮/১০ দিন থেকে যে যার মত ফিরে যান।
কয়েকদিন আগে এক সন্ধ্যায় পোশাক আশাক কথাবার্তায় স্মার্ট এক তরুণী ও এক যুবক বাসায় হাজির হয়। যুবক জানায় তার নাম আরিফ। নিউইর্য়ক প্রবাসী বড় ছেলের বন্ধু। নিউইয়র্কে একই এলাকায় বসবাস। সঙ্গে তার স্ত্রী, নাম সেলিনা। ছেলেদের বন্ধু -জেনে আজাদ চৌধুরী সেবা যত্নের কোন ধরনের ত্রুটি রাখেননি। এমনকি সুখ দুঃখের গল্প জুড়ে দেন তাদের সঙ্গে। এক পর্যায় তারা পরে দেখা করবে বলে বিদায় হয়। কিন্তু বিদায় হওয়ার ঘন্টা খানেক পর আবার হাজির হয় ঐ আগন্তুক আরিফ ও সেলিনা। এবার প্রসঙ্গ ভিন্ন। আরিফ বলতে থাকে, খালু একটা সমস্যায় পড়ে গেলাম। তাই ফিরে আসতে হল। রাত বেশি হয়ে যাওয়ার ডলার ভাঙ্গাতে পারিনি। আজাদ চৌধুরী কোন রকম সংশয় প্রকাশ না করে বলেন, এ মুহূর্তে কত টাকা হলে চলবে। আমতা আমতা করে আরিফ বলতে থাকে, খালু আপাতত ৪০ হাজার টাকা হলে চলবে। এসময় ডলার দেখায়। এ অবস্থায় আজাদ চৌধুরী সরল বিশ্বাসে টাকাটা আরিফের হাতে তুলে দেন। টাকা পাওয়ার পরপরই তারা আজাদ চৌধুরী ও মিসেস আজাদকে সালাম করে বিদায় নেয়। কিন্তু আজাদ চৌধুরী যে প্রতারিত হয়েছেন এটা জানতে পারেন ঘটনার তিনদিন পর। তার বড় ছেলে নিউইয়র্ক থেকে টেলিফোন করে। ছেলের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি আরিফ ও সেলিনার প্রসঙ্গ তোলেন। কিন্তু আজাদ চৌধুরীর বড় ছেলে তাকে জানান, আরিফ বা সেলিনা নামে তাদের কোন বন্ধু নেই। তখন তিনি ছেলের কাছে বিস্তারিত ঘটনা বর্ণনা করেন। কিন্তু আত্মসম্মানের ভয়ে বিষয়টি থানা পুলিশকেও অবহিত করেননি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক গুলশানে বসবাসকারী বিশিষ্ট নাগরিক এ প্রতিবেদককে জানান, এ ধরনের চারটি ঘটনা ঘটেছে তার মহল্লায়। একই কায়দায় প্রতারকরা বাসায় এসে প্রবাসী ছেলে মেয়েদের বন্ধু পরিচয় দিয়ে খাতির জমিয়ে ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা করে নিয়ে গেছে। লজ্জায় কারণে তারাও পুলিশের দারস্থ হননি।
গুলশান থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রফিকুল ইসলাম বলেন, প্রবাসী বন্ধু সেজে বিভিন্ন বাসায় প্রতারণা করে টাকা হাতিয়ে নেয়ার বেশ কিছু ঘটনা তার কানে এসেছে। কিন্তু আত্মসম্মানের কারনে কেউ মুখ খোলো না। তিনি বলেন, লিখিত অভিযোগ কেউ না দিলেও তিনি বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন। এ চক্রটিকে সনাক্ত করে গ্রেফতারের চেষ্টা করছেন বলে জানান তিনি। ওসি বলেন, তিনি যে ঘটনাটি শুনছেন সেটি ছেলের বন্ধুর স্ত্রী সেজে প্রতারণা। প্রতারিত ঐ ব্যক্তির নাম প্রকাশ না করে তিনি বলেন, এক বৃদ্ধা দম্পতির ছেলে আমেরিকা প্রবাসী। ছেলের আমেরিকাবাসী এক ঘনিষ্ঠ বন্ধুর স্ত্রী পরিচয় তরুণী বাসায় আসে। খাতির জমিয়ে ডলার ভাঙ্গাতে ব্যর্থ হওয়ার অজুহাত দেখিয়ে একই কায়দায় টাকা হাতিয়ে নেয়। নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক গুলশানের আর একজন বাসিন্দা বলেন, প্রতারক চক্রটি যে পরিবারগুলোকে টার্গে করে ঐ পরিবারের কে কে বিদেশে থাকেন, কার কী নাম, কোন দেশে বসবাস করছেন তার বিস্তারিত তথ্য নিয়েই হাজির হয়। যাতে সন্দেহ করার মতও কোন সুযোগ থাকে না।
