দুর্ভোগে অতিষ্ট নগরবাসী

আপডেট : ১০ জুলাই ২০১৩, ২২:৪৯
কাজে- অকাজে নায্য বা অনায্য দাবিতে কথায় কথায় রাজপথ অবরোধ? আর রাজপথে নামলেই যেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের টনক নড়ে। হয় দাবি মেনে নেন, অথবা আলোচনায় বসেন। অবরোধের আগ পর্যন্ত কর্তৃপক্ষের হুশ হয় না। ততক্ষণে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ যা হওয়ার তাই হয়। গতকাল বুধবার ৩৪তম বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষার ফল পুনর্মূল্যায়নের দাবিতে সকাল সাড়ে ১০টায় শাহবাগ মোড় অবরোধ করেন কয়েক শ’ শিক্ষার্থী। ঠিকই সড়ক অবরোধের পর টনক নড়ে পাবলিক সার্ভিস কমিশনের (পিএসসি)। ফল স্থগিত করে পুনর্মূল্যায়নের সিদ্ধান্তও দেয়া হয়। ততক্ষণে রাজধানীবাসী দুর্ভোগে পড়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা রাস্তায় সময় পার করেন। দুপুরে গোটা রাজধানী স্থবির হয়ে পড়েছিল। অনেক জায়গায় এক বিন্দুও নড়েনি গাড়ি। ছাত্র হোন বা শ্রমিক হোন অথবা রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী হোন, দাবি আদায়ের মোক্ষম উপায় রাজপথ অবরোধ, গাড়ি ভাংচুর। কিন্তু সাধারণ মানুষের দিকে নজর নেই কারো। এমনিতেই জনবহুল এই শহরে যানজট লেগেই থাকে। তারপর যদি কোন সড়ক কিছুক্ষণের জন্য বন্ধ থাকে তাহলে যানজট কি পরিমাণ বেড়ে যায় তা সাধারণভাবেই ধারণা করা যায়। দাবি আদায়ের জন্য রাজপথ অবরোধের এই কৌশলটি অনেক পুরনো। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সবকিছু বদলে গেলেও দাবি আদায়ে সড়ক অবরোধের পুরনো এই পদ্ধতি থেকে আমরা যেন কোনভাবেই বের হতেই পারছি না। এখন সময়ের দাবি- কথায় কথায় রাজপথ অবরোধ বন্ধ করতে হবে। এখানেও যেন সরকারি ঊর্ধ্বতন আর আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কোন দায় নেই? কেউ রাজপথ অবরোধ করলে তাদের তুলে দেয়ার চেষ্টা যে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী করে না এমনটিও নয়। পুলিশের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, কেউ তো আর ঘোষণা দিয়ে রাজপথে নামে না। হুট করেই কোন একটি সড়ক বন্ধ করে দেয়। এরপর তাদের বুঝিয়ে উঠিয়ে দেয়ার দিকেই বেশি মনোযোগ থাকে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর। কারণ অবরোধকারী ওই গ্রুপটি কোনভাবে উত্তেজিত হলেই শুরু করে ভাংচুর। অন্তত ভাংচুর থেকে রক্ষার সার্বত্মক চেষ্টা থাকে।