শিল্পীদের আস্থা হারিয়েছে অডিও কোম্পানি!

আপডেট : ১১ জুলাই ২০১৩, ১৭:৪৭
ক্রমশ বিশ্বাস হারাচ্ছে অডিও প্রতিষ্ঠানগুলো। তাই যারা নিজের গাঁটের পয়সা খরচ করে সৌখিনভাবে অডিও অ্যালবাম করে নিজেদের পরিচয়ের তকমায় ‘শিল্পী’ হিসেবে নাম লেখাতে চাইছেন, তারাই শুধু নামকাওয়াস্তে অডিও প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে যাচ্ছেন। এর বিপরীতে ক্রমাগতভাবে শীর্ষ তারকা শিল্পীরা হতাশ হয়ে চলে যাচ্ছেন অন্যদিকে। কারণ জি-সিরিজ, লেজার ভিশন, সিডি চয়েস—এই প্রতিষ্ঠানগুলোর সাথে শীর্ষ তারকারা কেউই খুব একটা সন্তুষ্ট হয়ে কাজ করতে পারছেন না। পাশাপাশি রকমারি, রিংটোন ডেভেলপার কোম্পানিগুলো থেকে শুরু করে বিভিন্ন অনলাইন সার্ভিস চালু হওয়ায় এখন শিল্পীরা সরাসরি সেখানেই ছুটছেন। সর্বশেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী হূদয় খান একটি মুঠোফোনের রেডিওর সাথে কন্ট্রাক্ট থেকে মোটা অংকের সম্মানী পেয়েছেন। এভাবেই অডিও প্রতিষ্ঠানগুলো ক্রমাগতভাবে হারাচ্ছেন শীর্ষ শিল্পীদের। কারণ অ্যালবাম প্রকাশনা অনুষ্ঠান, গানের প্রচার, বড় বাজেটের মিউজিক ভিডিও তৈরি থেকে শুরু করে সব ধরনের খরচ ও ইনভেস্টমেন্ট সবকিছু্ই একজন শিল্পীকেই করতে হয়। পাছে শুধুই যেন লাভের অংক গোনার জন্যই বসে থাকে কিছু কোম্পানি। সাম্প্রতিক এই প্রবণতা প্রসঙ্গে ফাহিম মিউজিকের মনির হোসেন বলেন, ‘এটার এখন একটা সমন্বয় প্রয়োজন। নয়তো এই আস্থাহীনতা চলতে থাকলে একসময় আমাদের এই ট্রেড ছেড়ে অন্য কোনো উপায় দেখতে হবে। শিল্পীদের সাথে সবসময় সু-সম্পর্ক রাখারই চেষ্টা করেছি। এরপরও যখন পারিনি, তখন নিজেরাই আমরা নাটক প্রযোজনা করে তা বাজারজাত করণের চেষ্টা করি। এখন হয়তো অন্য দু-চারটে কোম্পানির কৃতকর্মের দায়ভার সবাইকেই ভোগ করতে হচ্ছে। আমাদের ব্যানার থেকে ব্যান্ড দল ‘শূন্য’ উঠে এসেছে। তাদেরকে আমরাই তৈরি করেছি এই দুর্মূল্যের বাজারে। তাদের সাথে তো আমাদের সম্পর্কের এতটুকু অবনতি হয়নি। এ ছাড়া আমরা যাদের সাথে শুরু থেকে কাজ করে আসছি, তাদের কারও সাথেই আমাদের সম্পর্কের কোনো হেরফের হয়নি।’ তবে সম্পর্কের এই মানদণ্ডে শিল্পী তৌসিফ গেল বছর ছেড়েছেন জি-সিরিজ। ব্যান্ড দল শিরোনামহীন একই কোম্পানি ছেড়ে এবারে অনলাইন মার্কেটিংয়ের দিকে ঝুঁকেছে। তরুণ শিল্পী জুয়েল মোর্শেদ তার প্রথম অ্যালবাম ‘কোথায় যাবি’র সফলতার পরও পরবর্তীতে তিনি আর সেই একই ব্যানারে কাজ করতে চাইছেন না। নতুনভাবে অনলাইন মার্কেটিংয়েই ঝুঁকছেন। শিল্পী বাপ্পা মজুমদার তার পরবর্তী অ্যালবাম নিজের তত্ত্বাবধানে অনলাইন ডাউনলোড ও ডেলিভারি পদ্ধতিতেই রিলিজ দেওয়ার কথা ভাবছেন। এ ছাড়া বেশ ক’জন শিল্পীর কাছে ইগল মিউজিকসহ ছোটখাটো প্রতিষ্ঠান অ্যালবামের কথা বললেও তাদের মার্কেটিংয়ের দুর্দশা দেখে সে যাত্রায়ও পিছপা হচ্ছেন শিল্পীরা। তরুণ শিল্পী জয় শাহরিয়ার নিজ উদ্যোগে একটি-দুটি গান নিয়েই বাজারজাত করছেন ডিজিটাল পদ্ধতিতে। ফলে এবারের ঈদ থেকেই একাধিক শিল্পীরা সচেতন হচ্ছেন নিজের গানের স্বত্ব নিয়ে। এ প্রসঙ্গে ব্যান্ড তারকা হামিন আহমেদ বলেন, ‘তাদেরকে প্রডিউসার বলাটা অন্যায়। কারণ তারা তো শিল্পীদের যত্ন নিতে জানেন না। শিল্পীদের মাথায় কাঁঠাল ভেঙে খাওয়ার দিন শেষ। এখন নতুন একজন শিল্পীও তার কপিরাইট নিয়ে যথেষ্ট সচেতন। কারো মেধায় ভালো একটি গান তৈরি হলে তার রেভিনিউ আর কোনো প্রযোজক মাথায় হাত বুলিয়ে কেড়ে নিতে পারবে না।’ অডিও বাজারের এই অবস্থায় এখন তাই রকমারি, অ্যানেক্সসহ বিভিন্ন হোম ডেলিভারি প্রতিষ্ঠান খুবই সক্রিয়ভাবে অডিও সিডি নিয়ে ডোর টু ডোর মার্কেটিং শুরু করেছে। প্রত্যেক শিল্পীদের কাছেই তাই একই কথা যে, তারা নিজেরা প্রডাকশন, প্রচার করেও বিনামূল্যে অপাত্রে আর নিজের গানের বিকিকিনি করতে চান না।