কবি হিসেবে খ্যাতি তাঁর কিন্তু গুণে ও সামর্থ্যে তিনি আরও অনেকটা এগিয়ে। ‘কালের কলস’ , ‘সোনালী কাবিন’ কিংবা ‘মায়াবী পর্দা দুলে ওঠে’-র কবি হিসেবে প্রসিদ্ধি পেলেও অন্তত চারটি গল্পগ্রন্থ রয়েছে তাঁর। আমাদের অসতর্ক দৃষ্টি ছাপিয়ে অলক্ষে এগিয়ে থাকা এই কবি ও কথাকারের নাম আল মাহমুদ। ‘পানকৌড়ির রক্ত’, ‘সৌরভের কাছে পরাজিত’, ‘গন্ধবণিক’, ‘ময়ূরীর মুখ’ ছাড়াও ‘আল মাহমুদের গল্প’ শিরোনামে একটি বড় সংকলন প্রকাশিত হয়েছে। প্রশংসা বা স্তোকবাক্যে যে যা নয় তাকে তা-ই বানানো আমাদের স্বভাবের অংশ। এ অঞ্চলের মানুষ চোখে দেখা মানুষকে রাতারাতি মহামানব বানিয়ে ফেলে আবার পরিস্থিতি প্রতিকূল বলে মনে হলে সেই মহামানবকে আবার ইতর শ্রেণীতে টেনে নামাতে দ্বিধা করে না। তাই দ্বিধা না রেখেই বলতে চাই, আল মাহমুদের সব গল্পই গল্প নয়, কালের কষ্টিপাথরে সব গল্প টিকবেও না। এমনকি সাধারণ কিংবা সচেতন পাঠক সব গল্প পড়তে আগ্রহও বোধ করবে না। এটাই তো স্বাভাবিক—রবীন্দ্র-নজরুলের অনেক লেখাও তো অনেক সময় পড়তে মন চায় না, সময়ই বলবে তাঁদের কোন লেখাগুলো একদিন প্রত্ন-রচনায় পরিণত হবে। পথ ভিন্ন হলে মতেরও ভিন্নতা হয়। যে পথে যাত্রা শুরু হয়েছিল শক্তিমান আল মাহমুদের, সেই পথ থেকে তিনি অন্য পথ খুঁজে নিয়েছেন। সাহিত্য শাস্ত্রশাসিত কিংবা তত্ত্ববন্দি হলে তার সর্বজনগ্রাহ্যতা থাকে না। সব পাঠক সেই তত্ত্বের এলাকায় যেতে আগ্রহ বোধ করে না। আল মাহমুদের গল্পসমগ্র পড়ে সেই গল্পগুলোই বেছে নিয়েছি, যেগুলোকে গল্প হিসেবে আলাদা পঙিক্তভুক্ত করা যায়। আমি নির্বাচন করেছি সেই রকম কয়েকটি গল্প, বাংলাদেশের গল্পে তথা বাংলা গল্পের আলোচনায় যেগুলোর নাম ঘুরেফিরে আসবে, কারও সাধ্য নেই সেগুলোকে বাতিল করে দেওয়ার। পানকৌড়ির রক্ত, জলবেশ্যা, কালো নৌকা, রোকনের স্বপ্নদোলা কিংবা ঈভের ছায়া গল্পগুলো আল মাহমুদের সেইরকম কয়েকটি লেখা যার জন্য পাঠকেরা খুঁজে নিবে তাঁর গল্পবিশ্বকে। মধ্যবিত্তের নাগরিক দুঃখ কিংবা সুখবিলাসের কাহিনি নয়, আল মাহমুদ প্রবেশ করেছেন যৌন-মনোলোকের গহীন প্রদেশে। সেই জীবনকে আমরা ঢেকে রাখি মানবীয় ভব্যতা দিয়ে কিন্তু লিবিডোচেতনা আমাদের অস্তিত্বের এক সার্বভৌম জায়গা, যাকে জীবন থেকে বাদ দেওয়া যায় না। এই লিবিডোজগত্ আমাদের দেহের মধ্যেই যেন অন্য এক প্রবাস। জীবনের সঙ্গে প্রবলভাবে যুক্ত বলে এবং শিল্পের দারুণ পরিচর্যায় বিম্বিত হয়েছে বলেই এই গল্পগুলো কথাকার হিসেবে তাঁকে পৌঁছে দিয়েছে স্বতন্ত্র উচ্চতায়।
আল মাহমুদের গল্পগুচ্ছ একধরনের দেহগীতি, দেহের আদিম তটরেখা ধরে তিনি মগ্ন হয়েছেন প্রবৃত্তির প্রত্ন-প্রদোষে। সেখানে আলো-আঁধারির দ্বৈত ভুবন, দেহকে আশ্রয় করে প্রবল হয়ে উঠেছে কামনার উদ্বেলতা। আল মাহমুদের গল্পে রোমান্টিকতার ওড়াল ডানায় ভর করে ব্যক্তি কখনো চোরাবালিতে ডুব দেয়নি, গড়ে তুলেনি আবেগের স্বপ্নবাসর। তিরিশের গল্পকারদের লেখায় যৌনতা ও লিবিডোর যে উচ্ছ্বাস, তাকে কৃত্রিম কিংবা গায়েবি মনে হতে পারে কারও কারও কাছে। তারাশঙ্কর, মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়, কমলকুমার, আলাউদ্দিন আল আজাদ অনেকেই আছেন এই ধারায়। আল মাহমুদ সেই লিবিডোকেই গল্পে প্রধান করে তুললেন কিন্তু এই রূপায়ণটি মেধাবী এবং মূলত প্রতীকমনস্ক। ভারতীয় এবং সেমিটিক মিথের অনুষঙ্গে তাঁর গল্পের পরিপ্রেক্ষিত উজ্জ্বল ও বর্ণাঢ্য।
আল মাহমুদের গল্পকে মনে হয় দেহকাব্য। সত্তর ও আশির দশকে প্রকাশিত হয় তাঁর গল্পগ্রন্থ ‘পানকৌড়ির রক্ত’ (১৯৭৫), ‘সৌরভের কাছে পরাজিত’ (১৯৮৩), ‘গন্ধবণিক’ (১৯৮৬), ‘ময়ূরীর মুখ’ প্রভৃতি। সত্তরের দশকে প্রকাশিত পানকৌড়ির রক্ত লিখে বাংলাদেশের গল্পে তিনি নিজের জায়গাটি চিহ্নিত করে দিলেন। পানকৌড়ির রক্ত স্বাধীনতা উত্তর সময়ে প্রকাশিত হলেও তাতে যুদ্ধকালীন কথা নেই। বুলেট ও বেয়নেটের খোঁচায় অদম্য বাঙালির শরীর থেকে যে রক্ত চুইয়ে পড়েছে, সেই রক্তের কথা বলা হয়নি এখানে। পানকৌড়ির রক্ত যৌনবীজের গল্প, রতিকালীন নিঃসৃত রক্তের আবাহন। যৌন-মনস্তত্ত্বের অজানা রহস্যে আচ্ছন্ন তাঁর প্রধান গল্পগুলো। লিবিডোচেতনার বহুমাত্রিক উদ্ভাসনে আল মাহমুদের গল্প বাংলা সাহিত্যে স্বাতন্ত্র্যের দাবিদার। ব্যক্তি-মানুষের কামনা-বাসনা-রিরংসা-যৌনপ্রবৃত্তির তীক্ষ প্রকাশে তাঁর গল্পের শরীর ভিন্ন মাত্রা পেয়েছে। অদম্য যে-যৌনাবেগ ভেঙে দেয় সমাজ-নীতি-নৈতিকতার শৃঙ্খলা, সেই বিনাশী প্রবৃত্তির রূপ প্রধান অংশ জুড়ে রয়েছে তাঁর গল্পে। রতিবাসনা ব্যক্তির মনোজগতে গোপনে তৈরি করে ক্ষয় ও বিকৃতি, মনোবিকলনের দুর্জ্ঞেয় পথে অন্তর্জগতে ঘটে বিশৃঙ্খলা এবং আদিম ইন্দ্রিয়ানুভূতির অভিঘাতে নরনারীর অবচেতন সত্তায় সূচিত হয় সংকট। লিবিডোচালিত মানবচৈতন্যের নানা প্রান্ত উঠে এসেছে আল মাহমুদের গল্পে। পানকৌড়ির রক্ত, মাংসের তোরণ, মীর বাড়ির কুরসিনামা, রোকনের স্বপ্নদোলা, ঈভের ছায়া প্রভৃতি গল্প দেহ ও ইন্দ্রিয়প্রধান। প্রতীকতার অবগুণ্ঠনে তাঁর গল্প যেমন অভিজাত, পরাবাস্তবের ধূসর মায়াবী ছায়ায় তাঁর গল্প ব্যঞ্জনাধর্মী। মনোবিকলনের নানা নিরীক্ষাও তাঁর গল্পে স্পষ্ট।
পানকৌড়ির রক্ত আল মাহমুদকে বিশেষভাবে স্বতন্ত্র করে তুলেছে। একটি শিকার-কাহিনির প্রতীকে চিত্রিত হয়েছে আদিনা-আনুর লিবিডোতাড়িত জীবনের রক্তিম অভিজ্ঞতা। সদ্যোবিবাহিত আনুর স্ত্রী আদিনাকে কেন্দ্র করে তার মনোজগতে যে আবেগময় আলোড়ন ও ইন্দ্রিয়জ কামনার সৃষ্টি হয়, তার অনন্য প্রতীকী উপস্থাপনা ঘটেছে গল্পে। আদিনার প্রথম সঙ্গমকালীন রক্তময় অভিজ্ঞতার চিত্রণে লেখক নিপুণভাবে ব্যবহার করেছেন শিকারের অনুষঙ্গ :
মনে হল, পাখিটা যেখানে গুলি খেয়ে তড়পাচ্ছে সেখানে কেউ এক বালতি টাটকা রক্ত ঢেলে দিয়েছে। খালের মধ্যভাগে বেশ খানিকটা পানি রক্তে এমন রঙিন হয়ে গেল যে আমি ভেবে পেলাম না, একটা পানকৌড়ির শরীরে এত রক্ত কিভাবে থাকতে পারে। পাখিটা লাল রক্ত, সবুজ জল ও তার গাঢ় কালো পালকের আলোড়নে যন্ত্রণাদায়ক এক বর্ণের সমারোহ সৃষ্টি করে আমাকে স্তম্ভিত করে দিল।
ধনেশ পাখির গ্রীবাভঙ্গির সঙ্গে আদিনার ভাবভঙ্গির একটা মিল খুঁজে পায় আনু। আনুর লিবিডোতাড়িত মনোজগতে আদিনা পরিণত হয় ধনেশ পাখিতে। বন্দুকের গুলিতে ধনেশ পাখিকে বিদ্ধ করার প্রতীকে আল মাহমুদ কামতপ্ত আনু কর্তৃক আদিনাকে সম্ভোগ করার চিত্র রূপায়ণ করেছেন এবং গুলিবিদ্ধ ধনেশ পাখির সঙ্গে শ্যামবর্ণ নারীশরীরের বর্ণনা তাঁর গল্পে পেয়েছে শৈল্পিক সুষমা :
নদীটা যেখানে বাঁক নিয়েছে আমি সেখানে এসে পেশাদার শিকারির মতো হাঁটু গেড়ে বন্দুক বাগিয়ে বসলাম, আমার বসার সাথে সাথে কালো বেলুনের মতো একটা পানকৌড়ি পানির ওপর ভেসে উঠল। আমি মুহূর্তমাত্র বিলম্ব না করে গুলি ছুঁড়লাম। গুলির শব্দ আর বন্দুকের পাল্টা ধকলে আমার চোখের সামনে সমগ্র নিসর্গচিত্রটি ফেটে চৌচির হয়ে গেল। আমি দেখলাম, একটি শ্যামবর্ণ নারীশরীর নদীর নীলিমায় আপন রক্তের মধ্যে তোলপাড় করছে।
লিবিডোচেতনার নতুন মাত্রা নির্মাণে কালো নৌকা গল্পটি শক্তি ও সৌন্দর্যের সাক্ষ্য। শ্বশুর রাসু জলদাস এবং বিধবা পুত্রবধূ কালীর আদিম ইন্দ্রিয়জ আবেগের রূপায়ণ আমাদের নৈতিক ও মনস্তাত্ত্বিক বাস্তবতাকে নাড়া দেয়। আমাদের অভ্যস্ত চিন্তা ও মূল্যবোধের বিপ্রতীপে এ গল্পের অবস্থান। সামুদ্রিক তুফানে কালীর স্বামী দামোদর একদা চিরদিনের মতো নিখোঁজ হয়ে যায় এবং দামোদরহীন কালীর অবচেতন মনে গুহায়িত যৌনাকাঙ্ক্ষা সমুদ্রের জলের মেছো নোনতা গন্ধে উদ্দীপ্ত হয়ে ওঠে। ফলে লিবিডোতাড়িত কালীর অবচেতন মনে শ্বশুর রাসু জলদাস আবির্ভূত হয় স্বামী দামোদররূপে এবং পুত্রবধূ কালীর নগ্নদেহ প্রত্যক্ষ করার পর রাসুর মনোজগতে কালী দেখা দেয় মৃত স্ত্রী সতীর রূপে। তাই রাসু যখন যৌনকাতর পরিস্থিতিতে কালীর গলায় বুকে ঠোঁটের স্পর্শ দিতে দিতে বলে—‘তুই সতী, তুই সতী—তোর বুকে আমার সতীর গন্ধ। তুই সতী হয়ে যা কালী।’ তখন ‘রাসুর শক্ত বাহুর পেষণে কালী একবার শুধু অস্পষ্টভাবে আওয়াজ তুলে উচ্চারণ করল, ‘দামোদর।’ কালোনৌকা যৌনচেতনাতাড়িত রাসু-কালীর দেহনৌকারই প্রতীক। ‘জলবেশ্যা’য় আল মাহমুদ বেহুলা-লখিন্দরের সনাতন মিথকে ভেঙে চূর্ণ করেছেন। আবিদ বেপারীর সঙ্গে বেদেকন্যা বেউলা সুন্দরীর সম্পর্কের ধরনটি হার্দিক নয়, আর্থিক। লখিন্দরের প্রাণরক্ষার জন্য বেহুলাকে ইন্দ্রপুরীতে গিয়ে দেবকুলের মনোরঞ্জন করতে হয়েছিল, বেহুলা তার সতীত্বের মহিমা দিয়ে উজ্জ্বল করেছে ভারতীয় নারীর পরিচয়কে। লোকপুরাণের অসামান্য চরিত্র হিসেবে বেহুলা কীর্তিত কালে কালে। কিন্তু নব্যকালের বেহুলার কাছে সতীত্বের শাস্ত্রিক মূল্য নেই, বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজন অর্থ এবং বহমান নদীর বুকে ভাসমান নৌকায় নতুন টাকার মালিক আবিদ বেপারীর সঙ্গে বেউলা সুন্দরী গড়ে তোলে শরীরী সম্পর্ক। কিন্তু সেখানেও ছিল প্রতারণা। লোহার বাসরঘরের সামান্য ছিদ্র দিয়ে প্রবেশ করেছিল কালসাপ এবং তা দংশন করেছিল লখিন্দরকে। গল্পে লোহার বাসরঘর নয়, ঝাঁপি থেকে বেরিয়ে আসা সাপের কামড়ে প্রাণ দিতে হয় আবিদ বেপারীকে এবং প্রেমহীন বেউলা অচেতন বেপারীকে নৌকার ওপর ফেলে রেখে পাড়ি দেয় নতুন ঠিকানায়। লিবিডোনির্ভর গল্পের ধারায় আল মাহমুদ প্রতীকতার মেধাবী মাত্রা নির্মাণ করেছেন। মাংসের তোরণ গল্পে প্রতীকতার অনুষঙ্গে লেখক প্রবেশ করেছেন স্বদেশভূমির শিকড়ে। এ গল্পে লেখকের প্রতীকমনস্কতা নারীর শরীরী আয়তন অতিক্রম করে বৃহত্তর বাংলাদেশের পরিপ্রেক্ষিতে মূর্ত হয়ে উঠেছে। স্থপতি আনজামের দৃষ্টিতে পতিতাবৃত্তি দ্বারা জীবিকা নির্বাহকারিনী ‘দিলারার বিস্তৃত সবুজাভ নাভিমূলকে বাংলাদেশের মানচিত্র’ বলে মনে হয়—‘তার স্থিরনিবদ্ধ চোখে দিলারার বিস্তৃত সবুজাভ নাভীমূলকে বাংলাদেশের মানচিত্র বলে মনে হল কিনা, কে জানে। কারণ সেখানে এককালের সন্তান ধারণের ফাটল অর্থাত্ বলিরেখা সুস্পষ্ট থাকায় চিহ্নগুলো মাতাল চোখে পদ্মা, মেঘনা, যমুনা বা ধলেশ্বরী বলে ভাবা এখন আনজামের পক্ষে বিচিত্র নয়।’ দেহজীবী দিলারার দেহরূপ মাতৃময় হয়ে ওঠে, তার বেশ্যাসত্তার মধ্যে চিরন্তন জননীর প্রতিরূপ আবিষ্কার তাঁর গল্পের দেহজ আবেদনের মধ্যে স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য ফুটিয়ে তুলেছে। আমাদের গল্পের প্রতীকী ধারার মধ্যে আল মাহমুদের প্রতীকধর্মিতা নিঃসন্দেহে তৈরি করে স্বাদের ভিন্নতা। রোকনের স্বপ্নদোলা গল্পে স্বপ্নই হয়ে উঠেছে গল্পের আঙ্গিক। গভীর শীতের রাতে ধাবমান ট্রেনের কামরায় রোকনের স্বপ্নচারিতার মধ্যে গড়ে উঠেছে গল্পের কাহিনি। স্বপ্নই এ গল্পের নিয়ন্তা এবং স্বপ্নই গল্পের নায়ক। স্বপ্ন ও মনোবিকলনের এক অনবদ্য নিরীক্ষাধর্মিতার প্রকাশ ঘটেছে ঈভের ছায়া গল্পে। নিঃসঙ্গ বাড়ির ভৌতিক একাকিত্বে শোয়েবের মনস্তাত্ত্বিক ভীতি অনেকটা রবীন্দ্রনাথের ক্ষুধিত পাষাণ গল্পের আবহকে মনে করিয়ে দেয়। শোয়েবের লিবিডোশাসিত মনোবাস্তবতার সঙ্গে আদি মাতা হাওয়ার উল্লেখের মধ্য দিয়ে লেখক সেমিটিক মিথের নিপুণ প্রয়োগ ঘটিয়েছেন এ গল্পে। প্রতীকী-নিরীক্ষার মননে ও নতুনত্বে আল মাহমুদের এই গল্পগুলো তাঁর শক্তিমত্তাকে প্রমাণ করে। সাহিত্যে অক্ষয় আসন তৈরি করার জন্য বহুপ্রজ হওয়াটা অনিবার্য নয়। একাধিক অপুষ্ট শিশু জন্ম দেওয়ার চেয়ে একটি সুস্থ সন্তানের জন্মদান অনেক গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের গল্পে আল মাহমুদ তেমন কিছু সুস্থ পুষ্ট গল্পের জন্ম দিয়েছেন। পানকৌড়ির রক্ত তাঁকে বিপুল খ্যাতি দিলেও কালোনৌকা, জলবেশ্যা, ঈভের ছায়া গল্পগুলোও কোনোভাবেই পিছিয়ে নেই।
