বাংলাদেশে সাহিত্যচর্চার ক্ষেত্রে দুটো প্রধান মাধ্যমকে শনাক্ত করা যায়। একটি হলো লিটল ম্যাগাজিন বা ছোটকাগজ এবং অন্যটি হলো দৈনিক পত্রিকার সাহিত্যপাতা। বহু বছর যাবত এ দুটো মাধ্যম পরস্পর সমান্তরালভাবে এগিয়ে চলেছে এবং বাস্তবতা হলো এই যে এ দুটো মাধ্যম অনেক সময়ই একে-অন্যের প্রতিদ্বন্দ্বী আবার বহু ক্ষেত্রেই এরা একে-অন্যের পরিপূরকও। কবি এবং কথাসাহিত্যকদের কাছ থেকে মিশ্র মন্তব্য পাওয়া যায় দৈনিকের সাহিত্যপাতা বিষয়ে। অন্যদিকে লিটল ম্যাগাজিন তার চরিত্রগত বৈশিষ্ট্যের কারণেই লেখকদের কাছ থেকে পেয়ে থাকে অকুণ্ঠ সমর্থন ও ভালোবাসা। একটি লিটল ম্যাগাজিন প্রকাশিত হওয়ার পেছনে থাকে এর সম্পাদকের অক্লান্ত শ্রম, স্বপ্ন-সাধের সর্বোচ্চ প্রতিফলন। এখানে বাণিজ্যিক অভিলাষ থাকে না বললেই চলে, সাহিত্যের প্রতি প্রবল টানই প্রধান নিয়ন্ত্রকের ভূমিকা পালন করে। বর্তমান সময়ে আমাদের দেশে বিপুলসংখ্যক ছোটকাগজ প্রকাশিত হয়। এদের আঙ্গিক ও আকার-আয়তন ও প্রকরণের বিভিন্নতা লক্ষণীয় অবশ্যই এবং ঢালাওভাবে শুধুই সাহিত্যের প্রতি ভালোবাসা থেকে এদের জন্ম ও টিকে থাকা—এমনটা বলার সুযোগ কমে এসেছে। বিভিন্ন বিষয় বা ফ্যাক্টরকে বিবেচনা করতে হচ্ছেই। কেননা দেখা যাচ্ছে যে, নিখাদ স্বর্ণের মতো ভালোবাসার উপাদানকে পেছনে ফেলে অনেক ক্ষেত্রেই বিভিন্ন স্বার্থসিদ্ধির ধারাপাত পঠিত হচ্ছে।
এই লেখাটির মূল লক্ষ্য হলো সাম্প্রতিক সময়ে প্রকাশিত কিছুসংখ্যক ছোটকাগজকে পাঠকের সামনে উপস্থাপন করা। কিন্তু মাছি মারা কেরানির মতো করে এসব কাগজের সূচিপত্র তুলে ধরলে পাঠক সন্তুষ্ট হবেন না নিশ্চয়ই। বরং এ সকল কাগজের বিশেষ বিশেষ দিগগুলোর ওপর আলোকপাত, সাহিত্যের অঙ্গনে কোথায় কতটা ফলপ্রসূ নাকি বিষবৃক্ষেরই মতো, এসব কাগজের সম্পাদকদের আশা-আকাঙ্ক্ষা, দায়িত্বপালনে স্বতঃস্ফূর্ততা অথবা অপরাগত কেমন রয়েছে, এমনই নানা দিককে উপলব্ধি করে তা পাঠকদের জানানো গেলেই একটি যথার্থ কাজ হয়। এ প্রসঙ্গে নিরপেক্ষতা ও নির্মোহতার প্রশ্নটি এসে যায়। উচ্চরবে প্রশংসা করা বা একে-অন্যের পিঠ চাপড়ানোর অনেক ঘটনা আমরা সাহিত্যের ক্ষেত্রে প্রত্যক্ষ করি, কিন্তু এসব কিছু চূড়ান্ত বিচারে সাহিত্যের জন্য ক্ষতিকরই হয়ে দাঁড়ায়। এক-একটি ছোটকাগজ অবশ্যই প্রভাব বিস্তারের ক্ষমতা রাখে, সে কারণে ভালো ও মন্দ—দুটো দিকই শনাক্ত করা জরুরি।
প্রতি দশকেই উল্লেখযোগ্য-সংখ্যাক প্রতিশ্রুতিশীল কবি ও কথাশিল্পীর আগমন ঘটে আমাদের সাহিত্যের অঙ্গনে। মেধাবী তরুণদের নতুন নতুন চিন্তা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার উপযুক্ত জায়গা হচ্ছে লিটল ম্যাগাজিন। আমরা দেখি যে, দৈনিকের সাহিত্য সাময়িকী নির্দিষ্ট প্যাটার্ন বা ছক অনুযায়ী চলে। একটা প্রচলিত বা উপযুক্ত মানদণ্ড মেনে চলার অঙ্গীকার আছে দৈনিকের সাহিত্য সম্পাদকের, এর বাইরে তিনি যেতে চান না। কিন্তু লিটল ম্যাগাজিন মুক্ত ও স্বাধীন বিচরণ ক্ষেত্র, এখানে শব্দসংখ্যা গুনে গল্প বা প্রবন্ধ লেখার প্রয়োজন পড়ে না। লেখক হাত খুলে লিখতে পারেন, প্রয়োজনবোধে গলাবাজিও করতে পারেন। সমালোচনার হুলও ফোটাতে পারেন অন্যের লেখার মূল্যায়ন করতে গিয়ে। সাহিত্যচর্চা বলতে প্রকৃত অর্থে যা বোঝায়, অর্থাত্ চর্চা বা অনুশীলনের মাধ্যমে উত্তরোত্তর মান বৃদ্ধিও পরিপূর্ণতা অর্জন অথবা সহজ কথায় বলা যায়, হাত মকশ করা, এটা কিন্তু প্রধানত ঘটে থাকে লিটল ম্যাগাজিনের মাধ্যমেই। একজন লেখক তৈরি হলে বা প্রতিষ্ঠিত হলে তখন তার কদর দৈনিকের কাছে। কিন্তু কাঁচা বয়স পেরোনোর বসতবাড়ি হচ্ছে লিটল ম্যাগ।
লিটল ম্যাগের এসব সাধারণ বৈশিষ্ট্য আমরা কম-বেশি জানিই। সুতরাং, এ নিয়ে বেশি কথা বলা বাহুল্য হয়ে উঠতে পারে। আমরা বরং বাস্তবাতাগত দিকগুলো বেশি লক্ষ করব। ঠিক এ সময়ে কী হচ্ছে লিটল ম্যাগকে ঘিরে। এই যে এত বেশিসংখ্যক লিটল ম্যাগ প্রকাশিত হচ্ছে, এটা তো সাহিত্যের নদীতে জোয়ারের কথাই জানান দিচ্ছে। কিন্তু তারপরও সংশয়ের কালো মেঘ দেখা যাচ্ছে কেন? বর্তমান সময়ে একটা বিষয়কে আমরা গুরুত্ব দেব। তা হচ্ছে সামর্থ্য। কয়েক দশক আগে দেখা যেত কিছুসংখ্যক কবি মিলে অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে কষ্টেসৃষ্টে একটি ছোটকাগজ হয়তো বের করল। টগবগে তারুণ্য নিবিড় ভালোবাসা, নিরলস পরিশ্রম ও অনেক স্বপ্নের ফসল সেই ছোটকাগজটি হয়তো হতো দুই-তিন ফর্মার। তাতে এক-একজন কবির একটি বা দুটি করে কবিতা হয়তো ছাপা হতো, সেই একটি-দুটি কবিতা ছাপা হওয়ার আনন্দ ছিল তরুণ কবিটির জন্য অপরিসীম। এ রকম একটি কাগজ অনেক লেখকের জন্যই ছিল যুগান্তকারী ঘটনা, কেননা সেখানে তার একটি লেখা ছাপা হয়েছে হয়তো জীবনের প্রথম প্রকাশিত হওয়া কবিতা বা গল্প সেটি। কিংবা বহুদিন পর ছাপা হওয়া একটি স্বার্থক কবিতা বা গল্প। এর পাশাপাশি কাব্য বা গল্পগ্রন্থও প্রকাশিত হতো খুবই সীমিতসংখ্যক। বহু কবিরই সারা জীবন প্রকাশিত হতো একটি বা দুটি কাব্য এবং স্বভাবতই এই প্রকাশ হওয়ার আনন্দের কোনো সীমা-পরিসীমা অঙ্কন করা যেত না। কিন্তু এখন আমরা দেখছি কেমন চিত্র। যখন-তখন হুটহাট করে কয়েক শ পৃষ্টার লিটল ম্যাগাজিন বের করে ফেলছেন অনেকজন। অনেক কবিরই পনেরো-বিশটা করে কাব্য রয়েছে, কবির বয়স পঞ্চাশ পেরোবার আগেই বের হয়ে যাচ্ছে কবিতাসমগ্র। কবিতা গল্প প্রবন্ধ যেন তখন যন্ত্রচালিত কারখানায় উত্পাদিত পণ্য। বাজার ছেয়ে গেছে এইসব পণ্যে।
পাঁচ-ছয় শ পৃষ্ঠার যে ছোটকাগজটি বের হচ্ছে তার নাম লিটল ম্যাগাজিনই থাকছে। এই অভিধানটি খুবই আদুরে নিঃসন্দেহে। কিন্তু এই বিশাল আকারের ছোটকাগজে প্রকৃতপক্ষে কয়টি ভালো লেখা থাকছে? প্রযুক্তির কল্যাণে ই-মেইলে বা পেনড্রাইভ কিংবা সিডির আশ্রয়ে দূর-দূরান্ত থেকে লেখা এসে পৌঁছে যাচ্ছে সম্পাদকের কাছে। তিনি চটজলদি ছাপিয়ে ফেলছেন তাঁর পত্রিকা। কম্পোজ করা, প্রুফ দেখার ঝামেলা নেই, প্রাপ্ত লেখাগুলো পচ্ছন্দমতো একটার পর একটা সাজিয়ে নিয়ে ছাপাখানায় পৌঁছে দিলেই হলো। ‘ফেলো কড়ি, মাখো তেল’-এর মতো কারবারে ক-দিনেই বের হয়ে আসবে চমত্কার ঝকঝকে ছাপা আর সুন্দর বাঁধাই করা পত্রিকা। প্রশ্ন হচ্ছে সামর্থ্যের এই রুপায়ণ কতটা যৌক্তিক?
এক মলাটে এত বেশি লেখা হাজির করে সম্পাদকের ফায়দা কী? দেখা যাচ্ছে পাঁচটা ভালো লেখার সঙ্গে পরিবেশিত হচ্ছে পঁচিশটা নিম্নমানের লেখা। এতে শুধু পাঠকই বিভ্রান্ত হচ্ছেন এমন নয়, সাহিত্যকর্মের মানদণ্ড বজায় রাখাও কঠিন হয়ে পড়ছে। সবাইকেই এক কাতারে ফেলা হচ্ছে। কোনটা পরিত্যজ্য আর কোনটা গ্রহণীয়, জোরগলায় বলা যাচ্ছে না। মেধাহীনরা আশ্রয়-প্রশ্রয় পাচ্ছে, তাদের লেখাই বেশি বেশি ছাপা হচ্ছে। এদের উচ্চকণ্ঠের সামনে প্রকৃত মেধাবীর কণ্ঠস্বর শোনার উপায়ই থাকছে না। এ রকম হলে বা এমনটা চলতে থাকলে আমাদের সাহিত্যের গতি কোন দিকে যাবে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।
কোনো কোনো ছোটকাগজকে দেখা যায় সাহিত্যের চাইতে অন্য কিছুর প্রতি বেশি আকর্ষণ। পদস্থ আমলা বা ব্যাংকারদের এলেবেলে ধরনের লেখা এনজিও ওয়ালাদের রির্পোট ধরনের লেখা, নানা রকম গবেষণার তথ্য ও বিবৃতি—এমনি সব লেখায় ভরা থাকে এসব কাগজ। ছোটকাগজের আদর্শ থেকে দূরে সরে যায় সম্পাদক। সুদৃশ্য ঝকঝকে লিটল ম্যাগে নিজের লেখাটি দেখতে পেলে খুশি হন এই সব অলেখকেরা, যাঁরা আবার পেশাগত জীবনে খুবই সফল। কোনো কোনো লিটল ম্যাগে দেখা যায় প্রবল গোষ্ঠীপ্রীতি। খুবই উদ্দেশ্যমূলকভাবে লেখক নির্বাচন করা হয় এসব কাগজে। আবার কখনো কখনো দেখা যায় সম্পাদকের এবং সম্পাদকের ঘনিষ্টজনের গুণকীর্তন। বই আলোচনা বা প্রবন্ধ লিখে একেবারে উচ্চস্থানে অধিষ্ঠিত করা হয় লেখককে। অনেক কাগজে দশকবিচারি কাজ থাকে। নব্বই দশক বা শূন্য দশক—এ রকম নির্দিষ্ট করে বিশেষ সংখ্যা বের করা হয়। এবং প্রায়শই দেখা যায় নিরপেক্ষতা থাকে না এ ক্ষেত্রে, অনেক মেধাবী কবিকে রাখা হয় না দশকের আলমারিতে। অথচ যদু-মধুকে জায়গা দেওয়া হয়। এক দশক ফুরোবার আগেই যদু-মধুদের কবিতাচর্চার সমাপ্তি ঘটে, তখন আপনা থেকেই এসব কাগজ ও সম্পাদকের দৈন্যদশা ফুটে ওঠে। লিটলম্যাগের ক্ষেত্রে এ রকম ঋণাত্মক দিক যেমন আছে, তেমনি আবার আছে অজস ভালো দিক। লিটল ম্যাগের পেছনে থাকে মহত্ মানবিক প্রেরণা। সাহিত্য মানবসমাজকে যা দান করে, তার তাত্ক্ষণিক মূল্যায়ন করা যায় না। শত বছর ধরে নীরবে ও সরবে কাজ করে যায় সাহিত্য। একটি সমাজের সমৃদ্ধির পেছনে থাকে সাহিত্যগত ঐতিহ্য। ভাষার বিবর্তন যেমন লেখা হয়ে যায় তেমনি আবার মানুষের মানবিক চেতনায় দ্রুত ও ধীর—দু-রকমের পরিবর্তন ঘটে শিল্প ও সাহিত্যের আশ্রয়ে। সাহিত্যকে নিয়ে কয়েকজন মানুষের স্বপ্ন-সাধকে রূপায়ণের গল্পই হচ্ছে এক একটি লিটলম্যাগ। নিবিড় আন্তরিকতায় কিছুসংখ্যক লেখকের লেখা মলাটবদ্ধ করা হয়। সময়ের সে াতকে ভয় না পেয়ে তাতে স্বচ্ছন্দে সাঁতার কাটে এসব লেখা। বহুবছর পরও এক-একটি ছোটকাগজ ও তাতে প্রকাশিত লেখাটি উজ্জ্বল হয়ে ধরা দেয়।
লিটল ম্যাগকে ঘিরে আরও কিছু কাজ হয়ে থাকে—যেমন লিটল ম্যাগ মেলা, সম্মাননা প্রদান, ক্রোড়পত্র বা বিশেষ সংখ্যা প্রকাশ—ইত্যাদি। স্বদেশের সাহিত্যের সঙ্গে পার্শ্ববর্তী দেশের সাহিত্যের মেলবন্ধন তৈরি, লেখকদের যোগাযোগ বৃদ্ধি, কখনো কখনো বই প্রকাশ করা—ইত্যাদি কাজও হয় লিটল ম্যাগকে উপলক্ষ করে। লিটল ম্যাগ নিয়ে এসব সাধারণ বিবেচনার পাশাপাশি আমরা অতিসাম্প্রতিক প্রকাশিত কয়েকটি লিটলম্যাগের প্রতি দৃষ্টি দেব।
ছোটকাগজ ‘চর্যাপদ’ প্রকাশিত হয়েছে ফেব্রুয়ারি ২০১৩-এ। এর সম্পাদক আযাদ নোমান। চর্যাপদের সম্পাদক ‘বিনম্র কথন’ শিরোনামে পত্রিকাটির একটি ভূমিকা জুড়ে দিয়েছেন যা আসলে সম্পাদকীয়ই। বিনম্র কথন থেকে জানা যাচ্ছে যে, পূর্বে বেশ কিছু সংখ্যা বের হয়েছিল চর্যাপদের। এরপর দীর্ঘ বাইশ বছরের বিরতি। পুনরায় বের হয়েছে ছোটকাগজটি। নতুন করে আত্মপ্রকাশটি নেহায়েত মন্দ হয়নি। চর্যাপদের বর্তমান সংখ্যার সূচিপত্র বেশ ঋদ্ধই বলা যায়। প্রবন্ধ এবং কবিতাবিষয়ক গদ্য রয়েছে মোট আটজন লেখকের। চর্যাপদ সম্ভবত কবিতাবিষয়ক ছোটকাগজ। এর বিষয়-আশয় সবই কবি কবিতা ও কাব্য ঘিরে। এই সংখ্যাতে কবিতা রয়েছে মোট বত্রিশ জন কবির। সবারই গুচ্ছকবিতা। কাজেই প্রচুর কবিতা জায়গা পেয়েছে এই কাগজে। গ্রন্থ আলোচনা অংশে চারটি গ্রন্থের ওপর লিখেছেন চারজন আলোচক। শুধুই কবিতা নিয়ে আরেকটি ছোটকাগজ ‘কবি’; প্রকাশিত হয়েছে জানুয়ারি ২০১৩-এ। সম্পাদক সজল আহমেদ। ১৫০ পৃষ্ঠার এই কাগজটিতে কবিতা-সংশ্লিষ্ট সাহিত্যের প্রচলিত আঙ্গিকগুলোই স্থান পেয়েছে। প্রবন্ধ, কবিতা, আনূদিত কবিতা এবং বইয়ের আলোচনার বাইরে এতে রয়েছে প্রয়াত কবি সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি। শ্রদ্ধাঞ্জলি অংশটিতে রয়েছে সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের কবিতা। সুনীলকে নিয়ে মাসুদুল হকের লেখা গদ্য এবং কবিকে নিবেদন করে মহাদেব সাহা, হাবীবুল্লাহ সিরাজী, জয় গোস্বামী প্রমুখের কবিতা। কবির অংশটি বেশ সমৃদ্ধ। বাংলাদেশের ও পশ্চিমবঙ্গের লেখকদের মিলিয়ে প্রবন্ধ রয়েছে আট-নয়টি। রয়েছে প্রচুর কবির কবিতাসহ টি এস এলিয়ট, মাহমুদ দারবিশ এবং রুবেন দারিয়োর কবিতার অনুবাদ। কবি পত্রিকাটিতে বাংলাদেশের পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গের লেখকদের সংখ্যাও লক্ষণীয়।
একুশে বইমেলা ২০১৩-তে একটি লিটলম্যাগ প্রকাশিত হয়েছে একদম ভিন্ন ধরনের বিষয় নিয়ে। নাম ‘ধমনি’। সম্পাদক আবদুল মান্নান স্বপন। ধমনির এ সংখ্যাটি বের করা হয়েছে বেশ্যা সংখ্যা হিসেবে। ‘বেশ্যা’ শব্দটিকে নিদারুণ গালি হিসেবেই আমরা জানি। সাহিত্যে এই শব্দের ব্যবহার হয় অনেক কিছু বিচার-বিবেচনা করে তবেই। মানুষের প্রতি শুধু সম্মান জ্ঞাপনের ক্ষেত্র থেকে হলেও অজস্র লেখক এই শব্দটি সরাসরি ব্যবহার করেন না। ধমনির সম্পাদকীয়তে এ ব্যাপারে বলা হয়েছে যে, ঘুণেধরা সমাজকে নাড়া দেবার উদ্দেশ্যে এই নাম ব্যবহার করা হয়েছে। নিগৃহীত-নির্যাতিত নারীদের অসম্মান করার জন্য নয়। যাহোক, ধমনির এই সংখ্যাটি অবশ্যই একটি সমৃদ্ধ সংখ্যা। শুধু কল্পনার মাধ্যমে সৃষ্টি নয় বরং এখানে লেখকেরা উপস্থাপন করেছেন ঘোর বাস্তবকে। সম্পাদক সম্ভবত বিভিন্ন জনকে দায়িত্ব দিয়েছিলেন বিভিন্ন অঞ্চলের পতিতাপল্লি নিয়ে লেখার জন্য। সেসব লেখার ইতিহাস, সমাজব্যবস্থা, মানসিক বিবেচনা অনেক কিছুই ঔজ্জ্বল্য পেয়েছে, অনেক লেখাই বহুসংখ্যক মানুষের নস্টালজিয়ালকে জাগিয়ে তুলবে। পরিকল্পনা ও পরিশ্রমের ফসল হিসেবে নানা স্বাদের নানা ধরনের লেখা এখানে জায়গা পেয়েছে।। পতিতাবৃত্তি নিয়ে সাহিত্যেক ঘরানার প্রবন্ধ আছে সাতটি। ‘স্বদেশের বেশ্যা’ শীর্ষক অংশে প্রবন্ধ আছে বেশ কটি। এই অংশে বিভিন্ন অঞ্চলের পতিতাবৃত্তির ইতিহাস, বর্তমান অবস্থা—এসব নিয়ে প্রবন্ধ রয়েছে। এ ছাড়া ‘পরদেশের বেশ্যা’ অংশে রয়েছে কয়েকটি দেশের পতিতাবৃত্তি ও পতিতালয় নিয়ে লেখা ছটি প্রবন্ধ। এর বাইরে রয়েছে পতিতাবৃত্তির মেজাজে লেখা গল্প পাঁচটি এবং কবিতা। ধমনির পৃষ্ঠাসংখ্যা ৩১০। বোঝা যায়, আয়তন বেশ বড়ই।
একুশের বইমেলা ২০১৩-এ প্রকাশিত হয়েছে আরেকটি লিটল ম্যাগ ‘সপ্তক’। সপ্তকের সম্পাদক—শিকদার ওয়ালিউজ্জামান। এটি সপ্তকের তৃতীয় সংখ্যা। ইতিমধ্যে অতিক্রম করেছে ছোটকগজটি তিন বছর। সপ্তকের এই সংখ্যায় বিশেষ আয়োজন আছে। তা হলো কবি শহীদ কাদরীর ওপর ক্রোড়পত্র। বাংলা কবিতায় শহীদ কাদরী একটি বিশেষ জায়গা দখল করে আছেন, যদিও বর্তমানে তিনি লিখেন না বলেই চলে এবং থাকেনও স্বদেশ থেকে বহু দূরে। তবু কবিতার অঙ্গনে তাঁর নাম প্রায়ই উচ্চারিত হয় এবং এই ক্রোড়পত্রটি তাঁর কবিসত্তার প্রতি যথার্থ অর্ঘ্য নিবেদন হিসেবেই চিহ্নিত করা যায়। শহীদ কাদরীরর কবিতাবিষয়ে গদ্য লিখেছেন মোট নজন। রয়েছে শহীদ কাদরীর নির্বাচিত কবিতা। এ ছাড়া আকর্ষণীয় বিষয় হচ্ছে, শহীদ কাদরীর দীর্ঘ সাক্ষাত্কার। সাক্ষাত্কারটি গ্রহণ করেছেন শামস আল মমীন। শহীদ কাদরী খোলামেলাভাবে বলেছেন কবিতাবিষয়ে তাঁর চিন্তা-ভাবনা, স্বদেশের কবি ও কবিতার মূল্যায়ন প্রভৃতি নিয়ে। ক্রোড়পত্রের বাইরে সপ্তক-এ জায়গা পেয়েছে পঞ্চাশের অধিক কবির কবিতা। রয়েছে অনুবাদ কবিতা ও গল্প। গল্প রয়েছে পাঁচ গল্পকারের। সপ্তকের এই আয়োজনটি দশ ফর্মার।
‘গল্প ও গল্প ভাষ্যের অর্ধবার্ষিকী’ হিসেবে ঘোষণা দেওয়া ছোটকাগজ ‘গল্পকথা’র চতুর্থ সংখ্যা বের হয়েছে ফেব্রুয়ারি ২০১৩-এ। এর সম্পদক চন্দন আনোয়ার। গল্পকথার এই সংখ্যাটি একটি বিশেষ সংখ্যা—আবদুশ শাকুর সংখ্যা। বহুমাত্রিক প্রতিভাসম্পন্ন লেখক ছিলেন আবদুশ শাকুর। তিনি মৃত্যুবরণ করেছেন ১৫ জানুয়ারি ২০১৩ তারিখে। এই সংখ্যাটি প্রয়াত লেখকের প্রতি নিবেদন হয়ে উঠলেও তাঁর জীবদ্দশাতেই তাঁর ওপর সংখ্যা করার উদ্যোগ নিয়েছিলেন সম্পাদক। সে অনুযায়ী অনেক লেখা সংগৃহীত হয়েছিল। দুর্ভাগ্য যে, এই সংখ্যাটি তিনি দেখে যেতে পারলেন না। মৃত্যুর ও শোকের কালো আবরণ মেখে সংখ্যাটি বের হলো। যেহেতু তিনি জীবিত থাকতেই সংখ্যার কাজ প্রায় শেষপর্যায়ে ছিল, সে জন্য অনেক লেখাতেই তাঁকে জীবিত অবস্থায় মূল্যায়ন করা হয়েছে। সমসাময়িক থেকে অতীত হয়ে ওঠার বিষয়টি খুব মর্মস্পর্শী। আবদুশ শাকুর শুধু কথাসাহিত্যকই ছিলেন না, তিনি ছিলেন গবেষক, সংগীতশিল্পী ও চিন্তক। তাঁর ওপর গদ্য লিখেছেন উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সাহিত্যিক। ‘শাকুর-মানস’ মূল্যায়ন করেছেন জিল্লুর রহমান সিদ্দিকী, সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, সনত্কুমার সাহা, আবুল আহসান চৌধুরী, আহমাদ মাযহার প্রমুখ। আবদুশ শাকুরের গল্প নিয়ে গদ্য লিখেছেন এগারো জন আলোচক। তাঁর উপন্যাস নিয়ে আলোচনা করেছেন ছয় আলোচক। আবদুশ শাকুরের রম্যরচনা বিষয়ে গদ্য লিখেছেন পাঁচজন। এসব আলোচকের মধ্যে যেমন এ দেশের বিশিষ্ট জনেরা আছেন, তেমনি আছেন পশ্চিমবঙ্গের লেখকগণ।
নির্বাচিত বিষয় অথবা পূর্ব পরিকল্পনাভিত্তিক কাজ দেখা যায় কবিতাবিষয়ক ছোটকাগজ ‘কবিতাপত্র’-এ। এর সম্পাদক ডা. দেলোয়ার হোসেন। ফেব্রুয়ারি ২০১৩-তে প্রকাশিত হয়েছে কবিতাপত্রের ষষ্ঠ বর্ষ, প্রথম সংখ্যাটি। এই সংখ্যার বিষয়বস্তু হচ্ছে দীর্ঘকবিতা। দীর্ঘকবিতা বিষয়ক বেশ কটি মুক্তগদ্য রয়েছে। মুক্তগদ্যগুলো বিষয়ে সাধারণভাবে বলা যায় যে লেখকগণ নিজ নিজ সাধ্যমতো এবং নিজে যেভাবে অনুভব করেন, সেভাবে দীর্ঘকবিতার চরিত্র চিত্রণ করবার চেষ্টা করেছেন। আরেকটি বিষয় উল্লেখ করা উচিত যে, দীর্ঘকবিতা বিষয়ে গদ্য লিখেছেন এমন কজনের লেখা দীর্ঘকবিতাও জায়গা পেয়েছে পত্রিকাটিতে। গদ্যের বক্তব্য এবং নিজস্ব সৃষ্টির (কবিতায়) ফারাক পাঠক ধরতে পারবেন। তবে অনেক দীর্ঘকবিতাতেই মনে হয়েছে অকারণে টেনে লম্বা করা হয়েছে, তাও আবার ঘটানো হয়েছে জটিল সব বাক্যের মিশ্রণ। কয়েক পঙিক্তর পরই পাঠক এসব কবিতায় মনোযোগ হারিয়ে ফেললে দোষ দেওয়া যাবে না। সম্পাদকের উচিত প্রকৃত সমর্থবান কবির কাছ থেকে কবিতা সংগ্রহ করা। যা-তা লিখে কয়েক পৃষ্টা ভরে দেওয়া সম্ভব, তাতে দুর্বোধ্যতা ও চমত্কারিত্বও আনা সম্ভব, কিন্তু তা উত্তীর্ণ কবিতা করে তোলা সকল কবির পক্ষে সম্ভব নয়। বাংলা কবিতার ক্ষেত্রটি অত্যন্ত সুবিস্তৃত। সম্পাদকের উচিত এ ধরনের দুরূহ কাজ সম্পাদনের ক্ষেত্রে উদার দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে সকল স্তরের মেধাবী কবিদের সাথে যোগাযোগ করা। ভুল সৃষ্টি দিয়ে একটি সংখ্যা করার চেয়ে না করা ভালো। কোনো একটি বিষয়কে সহজ-সরল অথচ হূদয়স্পর্শী ভাষায় বর্ণনা করা যায়, আবার একই বক্তব্যকে ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে কথার মারপ্যাঁচ দিয়ে জটিল বাক্য ব্যবহার করে পাঠকের নিকট হাজির করা যায়। কোনটি উত্তম, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। ‘প্রতিশিল্প’ নামের ছোটকগজটি পড়তে গিয়ে এই ভাবনার মুখোমুখি হতে হলো। প্রতিশিল্পের আলোচ্য সংখ্যাটি বের হয়েছে ফেব্রুয়ারি ২০১৩-এ। সম্পাদক, মারুফুল আলম। ২৫০ পৃষ্টার এই পত্রিকাটিতে নানা ধরনের আয়োজন আছে। কিন্তু এর সম্পাদকীয় থেকে শুরু করে অনেক লেখকের লেখাতেই পাওয়া যাবে অকারণে কঠিন করে ফেলা বাক্যের সমারোহ।
প্রতিশিল্পের বর্তমান সংখ্যায় প্রবন্ধের তুলনায় কবিতা, দীর্ঘকবিতা, গুচ্ছকবিতা ও গল্পের পরিমাণ বেশি। বেশ কয়েকটি লেখা পুনর্মুদ্রিত হয়েছে। এর মধ্যে আছে তপন বড়ুয়ার গল্প এবং প্রয়াত চলচ্চিত্রনির্মাতা তারেক মাসুদের তিনটি চিত্রনাট্য। মাসুমুল আলমের নভেলটিতে ভিন্ন স্বাদ পাওয়া যাবে। টিম হলের গদ্যের অনুবাদ ‘আন্ডারগ্রাউন্ড সাহিত্যে হিরো হওয়ার পদ্ধতি’ লেখাটিতেও পাওয়া যাবে ভিন্নতর স্বাদ। এটি অনুবাদ করেছেন কবি শুভঙ্কর দাশ। আরেক প্রয়াত লেখক তারেক শাহরিয়ারের প্রকাশিত গল্পগ্রন্থের ওপর মূল্যায়নধর্মী গদ্য লিখেছেন সেলিম মোরশেদ।
আবু মকসুদ সম্পাদিত লিটল ম্যাগ ‘শব্দপাঠ’ বরাবরই ঢাউস আকারে বের হয়। এবারের সংখ্যাটি প্রকাশিত হয়েছে একুশে বইমেলা ২০১৩-এ। এটি গল্পসংখ্যা হিসেবে বের হয়েছে। শব্দপাঠের বর্তমান সংখ্যায় প্রবন্ধ রয়েছে মোট তিনটি। সবই গল্পবিষয়ক। প্রবন্ধ তিনটি লিখেছেন কামরুজ্জামান জাহাঙ্গীর, বিশ্বজিত্ পাণ্ডা এবং মোহাম্মদ নূরুল হক। শব্দপাঠে নানা আঙ্গিকের ও বৈচিত্র্যের গল্প স্থান পেয়েছে। লেখকসূচিটি কম দীর্ঘ নয়। বাংলাদেশের গল্পকারদের পাশাপাশি রয়েছে ওপারবাংলার গল্পকারদের গল্প। এ ছাড়া রয়েছে পাঁচটি অনুবাদগল্প। চারটি গল্পগ্রন্থের ওপর চারজনের আলোচনা রয়েছে শব্দপাঠে। এ ছাড়া রয়েছে কথাসাহিত্যিক নাজিব ওয়াদুদের দীর্ঘ সাক্ষাত্কার। ৪১৬ পৃষ্টার এই ছোটকাগজের মূল্য ধরা হয়েছে ১০০ টাকা। বীরেন মুখার্জী সম্পাদিত ছোটকাগজ ‘দৃষ্টি’ বের হয়েছে ফেব্রুয়ারি ২০১৩-এ। দেখা যাচ্ছে, এ পত্রিকাটি উনিশ বছরে পা দিয়েছে এবং মোট সংখ্যা বের হয়েছে এগারোটি। দৃষ্টিতে শিল্প-সাহিত্যের প্রতি বিশুদ্ধ নিবেদনের ভঙ্গিটি বিশেষভাবে দেখতে পাওয়া যায়। সম্পাদক সম্ভবত সাহিত্যের সরল আঙ্গিকগুলো বেছে নেওয়ার প্রতি জোর দেন। তাঁর পত্রিকায় এর বাইরে সমসাময়িক লেখকদের ওপর মূল্যায়ন-গদ্য লেখার প্রতি তাঁকে বেশ উদ্যোগী বলে মনে হয়। অবশ্য পূর্বঘোষাণা অনুযায়ী তিনি মূল্যায়ন-গদ্য সংগ্রহ করেছিলেন, কিন্তু সেই সংখ্যাটি বের কার যায়নি বলে সেই লেখাগুলোর কয়েকটি দৃষ্টির বর্তমান সংখ্যায় পত্রস্থ করা হয়েছে—এমনটা বলা হয়েছে সম্পাদকীয়তেও। যাহোক মূল্যায়ন-গদ্যগুলো লিখেছেন যথাক্রমে মতিয়ার রাফায়েল, তমিজউদ্দিন, ড. হাসান ফরিদ, মঈন শেখ এবং ড. ফজলুল হক সৈকত। দৃষ্টিতে গুচ্ছকবিতা রয়েছে মোট ২৬ জন কবির। একক কবিতা রয়েছে ২১ কবির। রয়েছে গল্প, অনুগল্প, ফ্লাশ ফিকশন, অনুবাদ ও বই আলোচনা। এ ছাড়া রয়েছে মুক্তগদ্য এবং দুই কবির সাক্ষাত্কার। একই রকম প্রশ্নের ওপর সাক্ষাত্কার দিয়েছেন দুজন কবি। কবিতাবিষয়ে তাঁদের চিন্তাভাবনা পাঠক মিলিয়ে নিতে পারবেন নিজের ভাবনার সঙ্গে।
এই লেখার শুরুতে যা বলা হয়েছিল, ছোটকাগজ এবং দৈনিকের সাহিত্যপাতার তুলনামূলক বৈশিষ্ট্য—এই দুটি মাধ্যম আমাদের সাহিত্যের অঙ্গনে সমান্তরালভাবে বিচরণশীল। দৈনিকের পাঠকসংখ্যা বেশি, কিন্তু তা সংরক্ষণ করা যায় না। অন্যদিকে ছোটকাগজ আর বই আকারের কারণে অনেক বছর ধরে পাঠকের কাছে থাকতে পারে, আদান-প্রদান ঘটতে পারে তা অনেকের মধ্যে। কিন্তু বহিরাঙ্গ পৃথক হলেও উভয় মাধ্যম তো সাহিত্য নিয়েই প্রকাশিত হয়। এবং একটি কবিতা ছোটকাগজে প্রকাশিত হলে তা দৈনিকে প্রকাশিত হবে না, এমন কথাও নেই। কিন্তু তা সত্ত্বেও একটা বিভেদরেখা জ্বলজ্বলে হয়ে আছে। অনেক কবি-সাহিত্যিকই আছেন, যাঁরা জোরগলায় বলেন যে, তাঁরা শুধু ছোটকাগজেই লেখেন—কখনোই দৈনিকে তাঁদের লেখা ছাপতে দেন না। এরই মধ্যে কিছু সংখ্যক আছেন যাঁরা একধাপ এগিয়ে বলেন যে, তাঁরা শুধু নির্দিষ্ট একটি বা দুটি ছোটকাগজে লেখেন, আর কোথাও লেখেন না। এভাবে লেখা প্রকাশের ক্ষেত্রে কিছু চরম মত আমরা দেখি। কিন্তু অধিকাংশ লেখকই বাছ-বিচার করেন না। তাঁদের কাছে লেখাটাই আনন্দ, সেই আনন্দ আরও বেশি হয় যখন দেখেন তা পাঠকের কাছে পৌঁছেছে। ছোটকাগজের ক্ষেত্রে সম্পাদক ও লেখকদের মধ্যে এক ধরনের অন্তরঙ্গতার অবকাশ থাকে, এর ফলে সাহিত্যচর্চার অনুকূল পরিবেশ গড়ে ওঠে বা সাহিত্যবিষয়ক বিভিন্ন মতবাদ বা নতুনতর আঙ্গিক গড়ে ওঠার সম্ভবনা তৈরি হয়। ছোটকাগজের সম্পাদক এ ক্ষেত্রে অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারেন। নিজের এবং অন্যের সাহিত্যকর্ম সম্পর্কে যথাযোগ্য মূল্যায়নের সুযোগ তৈরি করে দিতে পারেন। তবে চরম মতবাদ বা একমুখী দৃষ্টিভঙ্গি পরিহার করাই ভালো। অনেক লিটলম্যাগ-কর্মী উচ্চস্বরে দৈনিকের সাহিত্যপাতার বিরুদ্ধে বলেন আবার খুবই আগ্রহী থাকেন দৈনিকে নিজেদের লিটলম্যাগাজিনটির আলোচনা ছাপার বিষয়ে; এদের মূল্যবোধসম্পর্কিত ধারণা সম্ভবত দ্বৈত সত্ত্বা দ্বারা গঠিত।
