কবির কথাসাহিত্য

আপডেট : ১১ জুলাই ২০১৩, ১৮:১৪
আল মাহমুদ কবি হিসেবে পাঠক সাধারণের কাছে পরিচিত। তবে তাঁর বড় কৃতি গল্পে না কবিতায়—এ নিয়ে একচোট বিতর্ক হতে পারে। বাংলা সাহিত্যে যে কজন কবি সফল গল্প লেখক হিসেবে পরিচিত, তাঁদের মধ্যে আল মাহমুদের স্থান ওপরের সারিতেই। ‘বখতিয়ারের ঘোড়া’, ‘সোনালি কাবিন’, ‘আরব্য রজনীর রাজহাঁস’, ‘মায়াবী পর্দা দুলে ওঠে’, ‘প্রহরান্তের পাশফেরা’-র মতো কাব্যগ্রন্থ যেমন আল মাহমুদ লিখেছেন তেমনি সমানতালে লিখেছেন—পানকৌড়ির রক্ত, কালোনৌকা, গন্ধবণিক, খনন, জলবেশ্যার মতো অসাধারণ সব গল্প। লিখেছেন সার্থক উপন্যাসও। এত লেখালেখি, সাহিত্যের দুটি প্রধান মাধ্যমে সফলতা; কিন্তু কবির স্বস্তি কোথায়? রায় কবিতার দিকেই। তিনি নিজেই বলেছেন, ‘আমি কবি হিসেবেই খ্যাতি অর্জন করেছি। আমি কবি তো বটেই। উপন্যাসও আমি লিখেছি। সার্থক উপন্যাসই লিখেছি। গল্প তো আছেই। সব মিলিয়ে কবিতাই আমাকে তৃপ্তি দিয়েছে বেশি।’ (পৃষ্ঠা-৪৬ স্বকৃত নোমান, গুণীজন কহেন) ‘বাংলাদেশে আল মাহমুদের সমতুল্য অন্য কোনো কবির হাত থেকে এত কয়টা ভালো গল্প বেরিয়েছে বলে আমার জানা নেই। এটা তাঁর সাহিত্যিক গুরুত্বে ঈর্ষণীয় এক মাত্রা যোগ করবে বলে আমার বিশ্বাস।’ মন্তব্য করেছেন প্রখ্যাত কথাশিল্পী আবু রুশদ। তিনি বোধহয় একটু বাড়িয়েই বলেছেন। সম্ভবত এ মন্তব্য করার সময় তিনি রবীন্দ্রনাথের কথা কিছুমাত্র ভুলে গিয়ে থাকবেন। যা হোক স্বীকৃতি মিলেছে আরও; কবি জসীম উদ্দীন আল মাহমুদের গদ্যভঙ্গির প্রশংসা করে এক চিঠিতে লিখেছিলেন, ‘...একটি কথা তোমাকে বলব, তোমার গদ্য লেখার বেশ ভালো ক্ষমতা। এদিকটা যদি আরও অনেকখানি প্রসারিত কর...।’ জসীম উদ্দীনের কথা বৃথা যেতে দেননি তিনি। লিখেছেন বেশ কিছু অসাধারণ গল্প। সেই সাথে সার্থক উপন্যাস। পঞ্চাশের দশকে একদল কবি বাংলা কবিতার বাঁক বদল করলেন। নিরন্তর সাধনার মধ্য দিয়ে নতুন নতুন আঙ্গিকের জন্ম দিলেন। তাঁদের মধ্যে আল মাহমুদ অন্যতম। আরও ছিলেন শামসুর রাহমান কিংবা শহীদ কাদরী। গল্পকার আল মাহমুদের আবির্ভাব বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের পরে, সত্তরের দশকে। দেশে তখন নব নব সংকট-সমস্যা। অথচ আশ্চার্যজনকভাবে তাঁর লেখায় সেসকল ফিরিস্তি সেভাবে উঠে এল না। সস্তা প্রেমও তাঁর গল্পের ভাষা কিংবা কাহিনি হয়ে ধরা দেয়নি। তিনি নির্মাণ করলেন নিজস্ব গল্প-ভুবন। তাতে মুখ্যত প্রাধান্য পেল নর-নারীর কামোজ উদ্দীপনা। সেই সাথে শৈল্পিক দেহলীলা। লিবিডোতাড়িত মানুষের অজস্র ভঙ্গিমা তাঁর গল্পে প্রায়শই ধরা দিল কাহিনির আবরণে। প্রেম তাঁর চোখে প্রধানত জৈবিক তাড়না। এর অন্য কোনো রূপ তাঁর পক্ষে অকল্পনীয় ছিল বলে তাঁর রচনায় তরুণ-তরুণীর মুগ্ধ ভালোবাসা বা তীব্র আকর্ষণ প্রায় কখনোই চিত্রিত হয়নি, হলেও এমন একটা শ্লেষ ও বিদ্রুপের মধ্যে দিয়ে তা এসেছে যে, প্রেম বা ভালোবাসা মুহূর্তের মধ্যেই শুকিয়ে খটখটে হয়ে গেছে। প্রেম তাঁর গল্পে প্রায় সকল সময়ই কামে নিমজ্জিত। এ সকল গল্পের লিবিডোতাড়িত এক একটি চরিত্র সহজেই আমাদের মনে করিয়ে দেয় প্রাগৈতিহাসিকের ভিখুকে। পৃথিবীর সমস্ত নারী একা ভোগ করতে না পারলে যার শান্তি ও স্বস্তির কোনোটাই নাই। কিংবা প্রেম বুভুক্ষু কুবেরকে। ভালোবাসার মানুষটিকে কাছে পেতে যে কিনা নৌকা চালায় সমাজ-সংসারের উজানে। ষাটের পরে সত্তরের দশকে যখন আখতারুজ্জামান ইলিয়াস একের পর এক নির্মাণ করছেন পুরান ঢাকা কেন্দ্রিক নব্য শহুরে জীবন। হাসান আজিজুল হকের গল্পে তখন দেশ ভাগের প্রবল যন্ত্রণা। আবদুশ শাকুর তখনই লিখে চলছেন ব্যাঙ্গের ছলে নগর গাঁথা। সেসময় আধুনিক নগর জীবনের জটিলতাও কারও কারও লেখার প্রধান উপজীব্য। কিংবা সমকালীন গল্পের যাত্রা যখন প্রায় এ ঘরানার তখন আল মাহমুদের এ প্রচেষ্টাই বা মন্দ কী? স্বীকার করতেই হবে বাংলা সাহিত্যে ব্যাপারটা নতুন। সাংবাদিক হিসেবে কর্মজীবন শুরু কবি আল মাহমুদের। মুক্তিযুদ্ধের পর তিনি দৈনিক ‘গণকণ্ঠ’ পত্রিকার সহকারী সম্পাদক হিসেবে যোগ দেন। জাসদ যখন বাংলাদেশে সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের স্বপ্ন দেখছে, তখন কবি আল মাহমুদও দেখছেন একই স্বপ্ন। কিন্তু বিপ্লবের নামে ভণ্ডামিকে প্রশ্রয় দেননি। ঠিকই তিনি সেসব ভণ্ডামির চিত্র তুলে ধরেছেন গল্পে। আল মাহমুদের গল্পের নায়িকারা রাতে ব্লাউজ-ব্রেসিয়ার পরে ঘুমাতে পারে না। তাদের নাভিমূল সুন্দর। ফিগার চমত্কার। স্তনযুগল পাকা আতাফলের মতো। নায়কেরা প্রচণ্ড যৌনাবেগ দ্বারা তাড়িত। নায়িকার শরীরেই তাদের সমস্ত স্বস্তি। দেহ বলিষ্ঠ। মনে হয়, আল মাহমুদের গল্পের যেকোনো পুরুষ কিংবা নারী চরিত্র সম্বন্ধে এই রকম একটি বা দুটি বাক্যের সংক্ষিপ্তসার বলে দেওয়া যায়। কিন্তু কখনোই, কোনো অবস্থাতেই মনে করার কারণ নেই যে, শুধু এজন্যেই আল মাহমুদের গল্পগুলো নিকৃষ্ট রচনা। বরং ঠিক উল্টো। পৃথিবীর অনেক মহত্ রচনাই এরকম। তাঁর গল্পের মূল সুর প্রেম নয়, প্রণয় নয়—কাম। সরাসরি দেহবৃত্তি। কোথাও কোথাও কামই সরাসরি তাঁর গল্পের টোন হয়েছে। তবে তাতে গল্পের সৌন্দর্যগুণ কিছুমাত্র ক্ষুণ্ন হয় না। বরং নতুন এক অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে নতুন পথে আমরা এগিয়ে চলি। ঘরে সদ্য বিবাহিতা স্ত্রী আদিনাকে রেখে পাখি শিকার করতে গিয়ে পানকৌড়ির মধ্যে তাই প্রিয়ার সৌন্দর্য খুঁজে পান আনোয়ার। স্ত্রীর ঋতু চলায় বিয়ের পর সাত দিন পেরিয়ে গেলেও যাকে কাছে পাওয়া হয়নি আপন করে। সে কারণেই আনোয়ারের এমন অবস্থা? পাখি আর নারীকে এক করে গুলিয়ে ফেলা? পাখি শিকার যেমন তেমন; ঘরে ফিরে সে কারণেই হয়তো আসল শিকার করতে দেরি করে না আনোয়ার। স্ত্রীর মৃদু আপত্তি, দিনের ঝকঝকে আলো কিংবা নিজের প্রবল মাথা ধরা—কোনো কিছুই শেষ পর্যন্ত বাঁধা হয়ে দাঁড়ায় না আনোয়ারের এ কাজে। কালোনৌকা-য় দেখা য়ায় ছেলে বউয়ের মধ্যে শ্বশুর জলদাস খুঁজে পায় হারানো স্ত্রী সতীর স্বাদ। আবার সামুদ্রিক তুফানে স্বামী হারা কালীও খুঁজে ফেরে দেহের আস্বাদন। অবস্থার ফেরে পরে একাকার হয়ে যায় সমাজের বিধিবদ্ধতা। নিয়মের বেড়াজাল ভুলে তাই এক হয়ে যায় দুজন। শ্বশুর জলদাস যখন কালীর পরম আলিঙ্গনে তখন তার অভিপ্রায় ছিল এমন—‘তুই সতী, তুই সতী- তোর বুকে আমার সতীর গন্ধ। তুই সতী হয়ে যা কালী’ খনন গল্পের সুখানিও তেমনি একজন। তাই যৌনজীবী এক নারীর কাছে তাকে হতে হয় মানুষরূপী লোহা! ঘরে বৌ-বাচ্চা এবং তাদের প্রতি যথেষ্ট টান থাকা সত্ত্বেও সুখানির রোগ একটাই—‘গঞ্জের কাছে গেলেই তার গতর টনটন করে।’ লিবিডোতাড়িত মানব আখ্যানের এমন অজস্র উদাহরণ টানা যাবে আল মাহমুদের গল্প থেকে। ঈভের ছায়া গল্পটিও অসাধারণ। এর আগাগোড়া টানটান উত্তেজনা। গাঁ ছমছম করে ওঠার মতো বর্ণনা। আপাদমস্তক বোরখাবৃত দরবেশ আপার অন্তরালে লেখক যে দর্শনটি প্রচারণা করেছেন সেটি চমত্কার। মানব প্রবৃত্তির কু-দিকটাকে তুলে ধরাই যেন এখানে লেখকের উদ্দীষ্ট। ‘আপনার বুকের ভেতর শয়তান ঢোকার বিকট শব্দ আমি শুনতে পেয়েছিলাম শোয়েব মিয়া। মাত্র একটা রাত নিজের পূণ্যবতী বিবি কাছে না থাকলে বুকের দরজা শয়তানকে হাট করে খুলে দেওয়া কাপুরুষের কাজ। কেন আমার মুখ দেখতে চান বলুন?’ (পৃষ্ঠা-২৮৭)’ আল মাহমুদের গল্পের গঠনের দিকে খেয়াল করলে যে বিষয়টি খুব স্পষ্ট হয়ে ধরা দেয়, তা হলো তিনি গল্প ফাদার ক্ষেত্রে প্রায়ই উপকাহিনির আশ্রয় নিয়েছেন। গল্প বলার ভঙ্গি এমন যে, গল্পের মাত্র দু-চার-দশ লাইন বলেই তিনি ফিরে গেছেন পেছনে কিংবা ডুব দিয়েছেন ভিন্ন কাহিনিতে। শুনিয়েছেন কাহিনির অন্তরালের কাহিনি। এরপর আবার ফিরে এসেছেন গল্পে। অনেকটা কৈফিয়তের ভঙ্গি। প্রায় কোনো গল্পেই তিনি এক রেখায় গল্প বলে যাননি। গল্পের ছলে গল্প বলা কিংবা কথার ছলে কথা, তেমনটিও তিনি কখনোই করেননি। এই কৌশলে এগোতে গিয়ে আল মাহমুদকে অসাধারণ ভাষাশিল্পী হতে হয়েছে। সমাজের সবচেয়ে প্রিয়, পরিচিত ও সর্বজনীন আবেগ, বিশ্বাস, প্রত্যাশা ও আকাঙ্ক্ষাগুলোকে নিঃসংশয়ে জানতে হয়েছে। আর তাই তাঁর গল্পের ভাষা হয়েছে এত ঝরঝরে। ভাষা কখনো বক্তব্যকে অসাড় করে তোলেনি। তাঁর গল্পের পরিবেশ-প্রতিবেশ সমন্ধে নিঃসংশয়ে তেমন কোনো কথা বলা যায় না। এতে জীবন অনেকটা আধা গ্রামীণ কিংবা আধা শহুরে। ধরা দেয় আবার দেয় না। বর্ণনা এমন আঠালো যে, পড়তে পড়তে পাঠকের মনেই আসে না যে, কোন পরিবেশে তিনি গল্প বর্ণনা করেছেন। তবে অনভ্যস্ত পাঠকের চোখেও ধরা পড়বে, আল মাহমুদের গল্প লোক পরিপূর্ণ, প্রকৃতি সেখানে পরিপ্রেক্ষিত মাত্র। কয়েকটি গল্প আছে উত্তম পুরুষে বর্ণিত। এতে লেখক-জীবনের বাস্তব অভিজ্ঞতাই যেন চিত্রিত হয়েছে। পাঠক যেন ব্যক্তি আল মাহমুদকে অনেকখানি প্রত্যক্ষ করার সুযোগ পায় এসব গল্পে । সৌরভের কাছে পরাজিত গল্পে লেখক একজন পত্রিকা সম্পাদক। পত্রিকার জরুরি কাজে যাচ্ছেন চট্টগ্রাম। ট্রেনে। রাস্তায় আক্রান্ত হলেন কতগুলো ডাকাত দ্বারা। তরুণ ডাকাত। সম্পাদককে নিঃস্ব করে সব নিল তারা। এমনকি সম্পাদকের বন্ধুর দেওয়া পছন্দের বিদেশি পারফিউমটাও। ঘটনার একপর্যায়ে তরুণ ডাকাত দল কোনোভাবে জানতে পারে তাদের মক্কেল একজন পত্রিকা সম্পাদক। তাদের পছন্দসই পত্রিকারই সম্পাদক। ফলে ছেড়ে দেওয়া হয় সম্পাদককে। টাকা-পয়সা সব ফিরিয়ে দিলেও পারফিউমটা ফেরত দিতে নারাজ ডাকাত সরদার। কেননা পারফিউমের কাছে পরাজিত তিনি। গল্পের শেষ এখানেই। কিন্তু গল্পের শুরুটা ভিন্ন ব্যাখার দাবি রাখে। যুদ্ধপরবর্তী সময়কালের অস্থিরতা, সাংবাদিকতার আদর্শ এবং আদর্শহীনতা এখানে মোটাদাগে ফুটে উঠেছে। তৃষিত জলধি যেন আল মাহমুদের ব্যক্তি জীবনের বাস্তব অভিজ্ঞতার এক খণ্ডচিত্র। প্রেসিডেন্ট জিয়ার সমুদ্র ভ্রমণ সহযাত্রী হিসেবে এসেছেন কবি। সাথে আছে বিশ্ববিদ্যালয়ে মেধাবী শিক্ষার্থী, রাজনৈতিক নেতা এবং অন্যান্যরা। প্রেসিডেন্টের সমুদ্র ভ্রমণের উদ্দেশ্য তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী শিক্ষার্থী তথা ভবিষ্যত্ প্রজন্মের কাছে কিছু কথা তুলে ধরতে চান। চলতে শুরু করে জাহাজ। ভ্রমণের আনুষ্ঠানিতকাও চলতে থাকে নির্ভুলভাবে। একসময় প্রেসিডেন্ট জিয়া সকলের উদ্দেশে বলেন তার না বলা কথাগুলো। শুরু হয় প্রেসিডেন্টের বিষাদ। জাহাজে রাজনৈতিক নেতার অন্তঃসারশূন্যতাও লেখক তুলে ধরতে ভোলেননি। তৃষিত জলধি তাই হয়ে ওঠে আল মাহমুদের ব্যক্তি অভিজ্ঞতার এক নির্ভেজাল বয়ান। বাংলা কথাসাহিত্য এক বিপুল ঐশ্বর্যময় ভাণ্ডার। এ ধারায় একজন বিশুদ্ধ কবি হিসেবে আল মাহমুদের অবদান নানা কারণে নানা দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষত তাঁর সময়কাল ছিল বাঙালির এক উত্থান পর্ব বা পূনর্গঠনের কাল। আল মাহমুদ সে সময়কালে বসেই লিখেছেন এক একটি অসাধারণ লেখা। যদিও সময়ের সে অস্থিরতা তাঁর গল্পে মোটা দাগে চিত্রিত নয় তবুও যে খণ্ডচিত্র আমরা পাই, তাতেই মূর্ত হয় বাঙালির আত্মপরিচয়। তবে আল মাহমুদের গল্প সমন্ধে সবচেয়ে বড় কথাটি হলো, তিনি মানুষের ফ্যান্টাসিকে ধরতে পেরেছেন নিখুঁতভাবে। তাঁর গল্পসমূহের প্রধান নায়ক মানবশরীর। মানবশরীরের আবেদন তিনি বারবার গল্পে তুলে ধরেছেন। বাংলা কথাসাহিত্যের ইতিহাসে মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরে এতগুলো শিল্পসফল লিবিডোতাড়িত চরিত্র কোনো লেখকের গল্পে এসেছে কি না সন্দেহ।