[‘দো দিন কে লিয়ে মেহমান য়্যাঁহা, মালুম নেহি মনজিল হ্যয় কাঁহা।’]
রূপসী তো ঢের আছে,—চিরায়ত সুন্দরের ছবি এঁকে দিতে
নেমে এসেছিলে তুমি তারকাচিহ্নিত এই ভুল পৃথিবীতে।
নীলিমাকে ক্ষুণ্ন করে মানবজন্মকে ভালোবেসে
নক্ষত্রের আলো থেকে নেমে এসেছিলে তুমি মর্ত্য-মানবীর ছদ্মবেশে।
তোমাকে খুঁজতে এসে জোনাকির ছদ্মবেশে নক্ষত্রেরা আজও ঘোরে ফেরে
পৃথিবীর অন্ধকারে;
আজও তারা ফিরে নাই নীলিমার নীড়ে।
তুমি তো জ্যোতির কন্যা,—পার্থিব রমণী তুমি নও।—
ঘুমভাঙা পৃথিবীর তুমি শুকতারা ,
সূর্য নিভে গেলে পরে জেগে-থাকা স্নিগ্ধ সন্ধ্যাতারা।
তোমার ঘুমের দৃশ্য পবিত্র জ্যোতির মতো
অন্ধকেও চক্ষুষ্মান করে,
উদগ্রীব কুসুমেরা চক্ষু মেলে মাটির কবরে,
মৃতেরাও চক্ষু মেলে, জীবিতেরা ধ্যানে চোখ বোঁজে;
অনাদি রহস্যময় সৌন্দর্যের অন্তহীন খোঁজে।
কালোসাদা মানুষেরা রুদ্ধবাক দেখেছে সকলে
যখন কামিনী হয়ে প্রস্ফুটিত হলে তুমি নির্জন ‘মহলে’
রাত্রিজাগা ঘড়ির মতন,
তেমনি আছো আজও—
এখনও হূিপণ্ডে বসে ধমনীর প্রতি শব্দে বাজো।
তোমাকে পাওয়ার জন্য কালো জর্জেটের রাত্রি ফালা ফালা করে
তোমাকে অন্ধের মতো ভালোবেসে ছুটে ছুটে এসে
চিরসবুজের মতো শোকহীন অশোক কুমার
মরে গেছে।
মরে গিয়ে, তোমাকে পাওয়ার জন্য জন্ম নিয়েছে বারবার,
তবুও অধরা ছিল মায়াবতী লাবণ্য তোমার।
যখন আনারকলি হলে,
মোমের মতন গলে গলে
ব্যথিত রাতের বুকে স্নিগ্ধতা রচনা করে দিলে।
শুধু একটি রাতে—তার পরে, চলে যেতে হবে চিরতরে—
এ কথা জেনেও তুমি সর্বশেষ রাত্রির সীমায়
পাথর বেঁধেছো বুকে পবিত্র প্রেমের মহিমায়।
সম্রাটের চে’ও ক্রুর অর্থলোভী তোমার পিতার
নির্মম চোখের দৃষ্টি ক্যামেরার চে’ও বেশি পাহারা দিয়েছে,—
শোনে নাই বেদনার বিষণ্ন সেতার।
চোখের সমস্ত জল গোপন করেছো তুমি ফুসফুসের জলীয় প্রদাহে;
ঘাতক প্লুরিসি ক্রমে তোমাকে করেছে অধিকার।
ধীরে ধীরে শেষে, তুমিও মৃত্যুকে ভালোবেসে
চলে গেলে; রেখে গেলে পূজনীয় স্মৃতির সম্ভার।
তুমি নাই, তবু তাই আছো আরও বেশি
অন্তরলোকের প্রতিবেশী।
বুঝিয়ে দিয়েছ তুমি—রূপ আর সুন্দরতা এক কথা নয়।
রঙের জৌলুস মেখে রূপসীরা সাবানের মোড়ক হয়েছে,
উন্মোচন শেষে যার অনিবার্য পরিণাম :ক্ষয়।
চারদিকে ঝলমল কেবল শরীর-প্রদর্শনী ,
আগ্রাসী মাংসের ক্ষুধা, শীত্কারের ধ্বনি।
সারাদেহে জ্বালা ধরে, জমে ওঠে লালা,—
তখনই পবিত্র হই, যখন তোমাকে দেখি আজও মধুবালা।
