বিয়ানীবাজারে ছাত্রলীগের দু’গ্রুপের সংঘর্ষ, আহত ৪

আপডেট : ১১ জুলাই ২০১৩, ২১:৫৭
বিয়ানীবাজার সরকারি কলেজে বিবদমান ছাত্রলীগ আবারো নিজেদের মধ্যে সংঘর্ষে জড়িয়েছে। গত মঙ্গলবার তাদের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে পৌর শহর রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। পুলিশ সংঘর্ষ থামাতে কয়েক রাউন্ড গুলি বর্ষণ ও টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে। সংঘর্ষে গুরুতর আহত ৪ জন এখনো সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিত্সাধীন রয়েছেন। পুলিশ বাদী হয়ে ছাত্রলীগের অজ্ঞাতনামা ১০০-১৫০ জনকে আসামি করে একটি এসল্ট মামলা দায়ের করেছে। সংঘর্ষের দিন র্যাবের একাধিক টিম শহরে টহল দেয়। শহরজুড়ে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। জানা যায়, বিয়ানীবাজার সরকারি কলেজের একাদশ এবং স্নাতক শ্রেণীর ওরিয়েন্টেশন ক্লাস এবং শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের সম্মানে আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের শুরুতে ছাত্রলীগের জামাল হোসেন সমর্থিত গ্রুপ এবং মূলধারা গ্রুপ প্রথম সংঘর্ষে জড়ায়। সংঘর্ষের দিন বিজ্ঞান ভবনের প্রধান ফটকে অবস্থান দখলকে কেন্দ্র করে মূলধারা গ্রুপ জামাল গ্রুপের কলিম আহমদকে (২৪) মারধর করে। এতে উভয় পক্ষে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরবর্তীতে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ প্রধান অতিথির বক্তব্যে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের এ লজ্জাজনক কর্মকাণ্ডের নিন্দা জানিয়ে বক্তব্য রাখেন। তার বক্তব্য শেষে জামাল গ্রুপ মিছিল নিয়ে পৌর শহরের দক্ষিণ বাজারে গিয়ে অবস্থান নেয়। মূলধারা গ্রুপও মিছিল নিয়ে দক্ষিণ বাজারে গেলে উভয় পক্ষে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। এক পর্যায়ে কলেজ ক্যাম্পাস থেকে ছাত্রলীগের পাভেল মাহমুদ গ্রুপ পৃথক আরেকটি মিছিল নিয়ে পৌর শহর প্রদক্ষিণ করতে চাইলে কলেজ রোড মোড়ে আসা মাত্র পুলিশ বাঁধা দেয়। কিন্তু অনুমতি নিয়ে মিছিল করছেন জানিয়ে তারা সামনের দিকে এগিয়ে যেতে চাইলে পুলিশ লাঠিচার্জ শুরু করে। পুলিশের দাবি, সহকারী পুলিশ সুপারকে (জকিগঞ্জ সার্কেল) ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা ধাক্কা দেয়ার পর পুলিশ লাঠিচার্জ শুরু করে। এসময় পরিস্থিতির অকনতি হয় এবং ছাত্রলীগের ৩টি গ্রুপের মধ্যেই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ কয়েক রাউন্ড গুলিবর্ষণ ও টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে।