এরশাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিলেন তদন্ত কর্মকর্তা

আপডেট : ১১ জুলাই ২০১৩, ২২:২১
জাতীয় পার্টি (জাপা) চেয়ারম্যান ও সাবেক রাষ্ট্রপতি এইচ এম এরশাদ যুক্তরাষ্ট্রের একটি কোম্পানির কাছ থেকে রাডার কেনায় আর্থিক সুবিধা নিয়েছিলেন বলে আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন বিমানের রাডার ক্রয়ে দুর্নীতি মামলার এক তদন্ত কর্মকর্তা। বৃহস্পতিবার ঢাকার বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালতে সাক্ষ্য দেন এ মামলার অন্যতম তদন্ত কর্মকর্তা দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) উপ-পরিচালক মঞ্জুর আহমেদ। সাক্ষ্য অসমাপ্ত রেখেই আগামী ১৪ আগস্ট পর্যন্ত মামলার কার্যক্রম মুলতবি করেন বিচারক মো. নূরুল ইসলাম। মামলার একাদশতম সাক্ষী মঞ্জুর তদন্তে পাওয়া বিষয়গুলোই তার সাক্ষ্যে উল্লেখ করেন। তিনি আদালতকে জানান, তত্কালীন বিমান বাহিনী প্রধান সদর উদ্দিন আহমেদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কাছে বিমান বাহিনীর জন্য যুগোপযোগী রাডার ক্রয়ের আবেদন করেন। জিয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক সভায় ফ্রান্সের থমসন সিএসএফ কোম্পানির নির্মিত উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন অত্যাধুনিক একটি রাডার ও দুটি লো-লেভেল রাডার কেনার প্রস্তাব অনুমোদিত হয়। সাবেক রাষ্ট্রপতি এরশাদসহ অপর আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে আর্থিক সুবিধাপ্রাপ্ত হয়ে ফ্রান্সের ওই প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে রাডার না কিনে বেশি দামে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্টিন কোম্পানির রাডার কিনে সরকারের ৬৪ কোটি চার লাখ ৪২ হাজার ৯শ ১৮ টাকার আর্থিক ক্ষতি করেছিলেন। আদালতের সাক্ষ্য গ্রহণকালে এরশাদ উপস্থিত ছিলেন না। তবে সাবেক সহকারী বিমান বাহিনীর প্রধান মমতাজ উদ্দিন আহমেদ ও সুলতান মাহমুদ আদালতে উপস্থিত ছিলেন। অপর আসামি একেএম মুসা পলাতক। একটি হাই-পাওয়ার এবং দুটি লো-লুকিং লেভেল রাডার কেনায় রাষ্ট্রের ৬৪ কোটি ৪ লাখ ৪২ হাজার ৯১৮ টাকার ক্ষতির অভিযোগে ১৯৯২ সালের ৪ মে তত্কালীন দুর্নীতি দমন ব্যুরো এ মামলা করে। ১৯৯৪ সালের ২৭ অক্টোবর চার্জশিট দাখিলের পরের বছর ১২ আগস্ট আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে আদালত।