শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার ঘড়িষার ও কেদারপুর ইউনিয়নে ব্যাপক নদী ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। গত সাতদিনে এ এলাকার ২০টি বসতবাড়ি পদ্মার ভাঙ্গনে বিলীন হয়েছে। ভাঙ্গনের হুমকির মধ্যে পড়েছে দুটি বিদ্যালয় ও একটি কলেজ। ভাঙ্গন রোধে বাঁধ নির্মাণের দাবিতে গতকাল বৃহস্পতিবার সুরেশ্বর এলাকায় মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।
নড়িয়া উপজেলার ঘড়িষার ইউনিয়নের সুরেশ্বর গ্রাম ও কেদারপুর ইউনিয়নের সাহেবের চর গ্রামে ব্যাপক নদী ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। গত এক সপ্তাহে গ্রাম দুটোর ২০টি পরিবারের বসতবাড়ির জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ভাঙ্গনের হুমকির মধ্যে রয়েছে সুরেশ্বর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সুরেশ্বর উচ্চ বিদ্যালয়, সুরেশ্বর কলেজ ও সুরেশ্বর বাজার।
সুরেশ্বর বাজার, সুরেশ্বর গ্রাম, বিদ্যালয় ও কলেজ ভাঙ্গনের কবল থেকে বাঁচানোর জন্য এলাকাবাসী পদ্মা নদীর তীরে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে। গতকাল সকাল ১০টা হতে দুপুর ১২টা পর্যন্ত সুরেশ্বর দরবার শরীফ থেকে সুরেশ্বর লঞ্চঘাট পর্যন্ত কর্মসূচি পালন করা হয়। মানববন্ধন কর্মসূচিতে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, বাজারের ব্যবসায়ী ও গ্রামের মানুষ অংশ নেয়।
সুরেশ্বর উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক হাসানুজ্জামান খোকন বলেন, এ বিদ্যালয়টি গত কয়েক বছরে তিনবার ভাঙ্গনের শিকার হয়েছে। বর্তমানে বিদ্যালয় হতে পদ্মা নদীর দূরত্ব দুইশ’ মিটার। এখন বাঁধ নির্মাণ করা না হলে স্কুল-কলেজের পাকা ভবনগুলো বিলীন হয়ে যাবে।
ঘড়িষার ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রব হাওলাদার বলেন, নদী ভাঙ্গন রোধে ব্যবস্থা নিতে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের অনুরোধ করা হয়েছে। গত বছর এ এলাকার প্রায় তিনশ’ পরিবার নদী ভাঙ্গনে গৃহহীন হয়েছে।
শরীয়তপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল খালেক বলেন, নড়িয়া উপজেলার চণ্ডিপুর এলাকায় দুই কিলোমিটার পদ্মা নদীর তীর সংরক্ষণের কাজ চলছে। আরো কিছু এলাকায় বাঁধ নির্মাণের পরিকল্পনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের রয়েছে।
