যারা কোটা বাতিল চায় তারা সাধারণ ছাত্রের নামধারী জামায়াতের দোসর

আপডেট : ১১ জুলাই ২০১৩, ২৩:১৮
চাকরিতে বিদ্যমান কোটা বাতিলের বাহানা তুলে রাস্তা অবরোধ ও জনদুর্ভোগ সৃষ্টিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ‘আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান কেন্দ্রীয় কমিটি’। সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ গতকাল প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলেন, কোন মহলের ইন্ধনে বা গুটি কয়েক লোকের অযৌক্তিক দাবির মুখে চাকরিতে বিদ্যমান মুক্তিযোদ্ধা কোটায় হাত দিলে সারা বাংলায় মুক্তিযোদ্ধা এবং তাদের সন্তানরা কোনভাবেই তা মেনে নেবে না। বিবৃতিতে বলা হয়, সাধারণ ছাত্রদের নাম দিয়ে যারা মুক্তিযোদ্ধা ও নারী কোটা বাতিল চায় তারা কোনভাবেই সাধারণ নয়। সাধারণ ছাত্রের লেবাসে শিবিরের নেতাকর্মী এবং পশ্চাত্পদ কিছু লোক এই আন্দোলনে নেতৃত্ব দিচ্ছে। এতে বলা হয়, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে যখন যুদ্ধাপরাধের দায়ে গোলাম আযম ও মুজাহিদের রায় অপেক্ষমাণ তখন আন্দোলনের নামে শাহবাগে তরুণ প্রজন্মের গণজাগরণ মঞ্চের জায়গায় অবস্থান নেয়াটিও তাদের একটি বিশেষ উদ্দেশ্যে রয়েছে। একটি স্পর্শকাতর বিষয়কে সামনে নিয়ে এসে তারা যুদ্ধাপরাধীদের বিরুদ্ধে গড়ে উঠা চলমান আন্দোলনকে ব্যহত করতে চায়। কোটার বিষয়টি নতুন কোন ধারণা নয়, পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতসহ বিশ্বের অনেক দেশেই এই প্রথার প্রচলন রয়েছে। মুক্তিযোদ্ধাদের সর্বোচ্চ ত্যাগের প্রতি সম্মান দেখিয়ে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এই কোটা প্রবর্তন করন। জাতির জনককে হত্যার পর দীর্ঘ একুশ বছর এই কোটায় কোন মুক্তিযোদ্ধার চাকরি হয়নি। এই কোটা না মানায়, তা ভোগ করেছে অমুক্তিযোদ্ধারা। জাতির জনকের কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতাসীন হয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের দুঃখ দুর্দশার কথা বিবেচনা করে এই কোটা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান এবং পরবর্তীতে তাদের প্রজন্মের জন্য বরাদ্দ করেন। বিবৃতিতে বলা হয়, এই কোটা কারো দয়ার দানে প্রাপ্ত নয়। এটি মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের সাংবিধানিক অধিকার। শাহবাগে কিছু সংখ্যক জামায়াত-শিবির মার্কা লোকের চাপের কাছে নতি স্বীকার করে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় হাত দিলে সারা বাংলার লাখ লাখ মুক্তিযোদ্ধার সন্তান রাস্তায় নেমে আসতে বাধ্য হবে।