ভরা বর্ষা মৌসুমেও রাজশাহী মহানগরীতে চলছে পানি সংকট। ফলে রমজানে পানি সংকটে দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন নগরবাসী।
রাজশাহী ওয়াসা সূত্র জানায়, মহানগরীর ৩০টি ওয়ার্ড এলাকায় বর্তমানে ৭ লাখ ৮৭ হাজার ১৮০ জন মানুষ বসবাস করেন। কিন্তু পাইপ লাইনে পানি সরবরাহের আওতাভুক্ত এলাকার জনসংখ্যা ৫ লাখ ২৭ হাজার ৪১০ জন। সূত্র মতে মহানগরীর অধিবাসীদের জন্য প্রতিদিন গড়ে ১ লাখ ১৮ হাজার ৭৭ ঘনমিটার পানির চাহিদা রয়েছে। উক্ত চাহিদার বিপরীতে নবগঠিত ওয়াসা কর্তৃপক্ষ প্রতিদিন গড়ে ৫৫ হাজার ৪৪০ ঘনমিটার পানি সরবরাহ করছে। অর্থাত্ শতকরা হিসেবে ওয়াসা কর্তৃপক্ষের প্রতিদিনের পানি সরবরাহ মোট চাহিদার মাত্র ৪৭ ভাগ। এর মধ্যে জনসংখ্যাভিত্তিক পানির প্রাপ্যতা পাইপ লাইনের মাধ্যমে ৬৭ ভাগ এবং হস্তচালিত নলকূপের মাধ্যমে ৩৩ ভাগ। দৈনিক পানি সরবরাহের সময়কাল ১২ ঘণ্টা এবং প্রতিদিন জনপ্রতি পানির ব্যবহার ৬৭ দশমিক ১৭ লিটার। অবশ্য রমজান উপলক্ষে সেহেরি ও তারাবিহ নামাজের বর্ধিত সময় পানি সরবরাহ করছে ওয়াসা কর্তৃপক্ষ।
সূত্র জানায়, রাজশাহী মহানগরী এলাকার ৩৩ ভাগ মানুষ এখনো ওয়াসা কর্তৃপক্ষের পানি সরবরাহের আওতার বাইরে। মহানগরীর পূর্ব-উত্তর ও পশ্চিমপার্শ্বের পিছিয়ে পড়া ওয়ার্ডের প্রায় ২ লাখ ৬২ হাজার মানুষ ওয়াসার পানি সরবরাহ সুবিধা থেকে বঞ্চিত। ঐসব মানুষ প্রতিদিন পানির অভাবে চরম দুর্ভোগের শিকার হন। ভুক্তভোগীরা হস্তচালিত নলকূপ অথবা পার্শ্ববর্তী এলাকা থেকে অতিকষ্টে পানি সংগ্রহ করে দিনযাপন করেন বলে জানা যায়।
এদিকে মহানগরীর সাগরপাড়া, রানীনগর, বালিয়াপুকুর, মিঞাপাড়া, দরগাপাড়া ও কাদিরগঞ্জসহ কয়েকটি এলাকার অধিবাসীরা জানান, কয়েক মাস যাবত্ ঐসব এলাকায় পাইপ লাইনে পানি সরবরাহে মারাত্মক বিঘ্ন ঘটছে। কখনো সকালে, কখনো দুপুরের আগে, আবার কখনো সন্ধ্যার আগে প্রায় দিনই পানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটছে। অর্থাত্ পাম্প (গভীর নলকূপ) চালু থাকা সত্ত্বেও পাইপ লাইনে পানি সরবরাহ হচ্ছে না। উপরন্তু লোডশেডিংয়ে পাম্প বন্ধ থাকলে তো কথাই নেই। তখন দুর্ভোগ চরমে ওঠে।
রাজশাহী ওয়াসার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. পারভেজ মামুদ বলেন, সারাদেশেই সরবরাহ পানির সংকট রয়েছে। রাজশাহী মহানগরীও ব্যতিক্রম নয়। তা সত্ত্বেও নবগঠিত ওয়াসা কর্তৃপক্ষ পানি সরবরাহে সাধ্যমত ও আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করছে। মহানগরীতে ৭০টি পানি উত্পাদক নলকূপের সবগুলোই বর্তমানে চালু রয়েছে। শুধু কাদিরগঞ্জ এলাকার একটিতে সমস্যার কারণে স্বাভাবিক গতিতে পানি সরবরাহ হচ্ছে না। খুব শিগগিরই সেখানে নতুন উত্পাদক নলকূপ বসানো হবে। এছাড়া অন্য এলাকার বিষয়টি তার জানা নেই। খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান তিনি।
