তিন বিদ্যুেকন্দ্রে গ্যাসের নিশ্চয়তা নেই

আপডেট : ১১ জুলাই ২০১৩, ২৩:২০
পেট্রোবাংলার অনুমোদন না নিয়ে তিনটি বিদ্যুেকন্দ্র স্থাপনের চুক্তির পর গ্যাস চাইছে পিডিবি। তবে তাদের এই চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস দেয়ার নিশ্চয়তা দেয়নি পেট্রোবাংলা। গতকাল বিদ্যুেকন্দ্রে গ্যাস সরবরাহ বিষয়ে অনুষ্ঠিত এক সভায় এ অনিশ্চয়তার কথা জানান পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান ড. অধ্যাপক হোসেন মনসুর। প্রতিমন্ত্রী মোহম্মদ এনামুল হকের সভাপতিত্বে অন্যদের মধ্যে বৈঠকে বিদ্যুত্ সচিব মনোয়ার ইসলাম, পিডিবির চেয়ারম্যান আব্দুল ওয়াহাবসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সরকারি খাতের শাহাজীবাজার ৩০০ মেগাওয়াট, ঘোড়াশাল ৩০০-৪০০ মেগাওয়াট কম্বাইন্ড সাইকেল পাওয়ার প্লান্ট এবং বেসরকারিখাতের সিরাজগঞ্জ ৩০০-৪৫০ মেগাওয়াট দ্বৈত জ্বালানিভিত্তিক বিদ্যুেকন্দ্রের জন্য গ্যাস চেয়েছে পিডিবি। চলতি বছরের মে মাসে শাহাজীবাজার ও ঘোড়াশাল বিদ্যুেকন্দ্রের চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। ২০১৫ সালের মধ্যেই তিনটি কেন্দ্র উত্পাদনে আসার কথা রয়েছে। বৈঠক সূত্র জানায়, তিন কেন্দ্রের মধ্যে সরকারি দুই কেন্দ্রে মোট ৯৪ মিলিয়ন ঘনফুট এবং বেসরকারি কেন্দ্রটিতে ৩৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের প্রয়োজন হবে। এরমধ্যে প্রথম দু’টি কেন্দ্রের জন্য এখনই গ্যাসের নিশ্চয়তা চেয়েছে পিডিবি। বাকী কেন্দ্রটির বিষয়ে নতুন গ্যাস প্রাপ্তি সাপেক্ষে অনুমোদন দেয়ার কথা বলা হয়েছে। পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান হোসেন মনসুর বলেন, পিডিবি থেকে একের পর এক গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুেকন্দ্রের চুক্তি করা হচ্ছে। চুক্তির পর গ্যাসের জন্য অনুমোদন চাইছে। পেট্রোবাংলা গ্যাস দিতে পারবে কিনা তা যাচাই না করেই এসব কেন্দ্রের চুক্তি স্বাক্ষরিত হচ্ছে। তিনি বলেন, সব গ্যাস শুধু বিদ্যুতে দিলে তো চলবে না। সার, শিল্প, আবাসিকেও গ্যাস দিতে হবে। আমরা যতটুকু পারবো ততটুকুই প্রতিশ্রুতি দিতে পারি। এরচেয়ে বেশি গ্যাস দেয়া তো সম্ভব নয়। বিশেষজ্ঞরা বলেন, একটি ১৫০ মেগাওয়াট ক্ষমতার কম্বাইন্ড সাইকেল বিদ্যুেকন্দ্রে ২২ থেকে ২৫ মিলিয়ন ঘনফুট এবং অন্য কেন্দ্রগুলোতে ১০০ মেগাওয়াটে ২৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের প্রয়োজন হয়। বিদ্যুত্ বিভাগ সূত্র জানায়, ২০১৬ সালের মধ্যে ৩ হাজার ২৮৪ মেগাওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন ৮টি গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুেকন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। সরকারি খাতের কেন্দ্রগুলো হচ্ছে সিদ্ধিরগঞ্জ ৩৩৫ মেগাওয়াট কম্বাইন্ড সাইকেল বিদ্যুেকন্দ্র, আশুগঞ্জ ৪৫০ মেগাওয়াট কম্বাইন্ড সাইকেল, বিবিয়ানা ৪৫০ মেগাওয়াট কম্বাইন্ড সাইকেল, ভোলা ২২৫ মেগাওয়াট কম্বাইন্ড সাইকেল, শিকলবাহা ২২৫ মেগাওয়াট কম্বাইন্ড সাইকেল এবং কড্ডা গাজীপুর ১৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুেকন্দ্র। বেসরকারি খাতে রয়েছে কালিয়াকৈর ১৪৯ মেগাওয়াট পিকিং পাওয়ার প্লান্ট, কেরানীগঞ্জ ১৫০ মেগাওয়াট, ভোলা (ইউনিট ২) ২২৫ মেগাওয়াট কম্বাইন্ড সাইকেল, ফেঞ্চুগঞ্জ ১০০ মেগাওয়াট কম্বাইন্ড সাইকেল বিদ্যুেকন্দ্র। ২০১৬ পর্যন্ত নতুন বিদ্যুত্ কেন্দে প্রতিদিন প্রায় ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের প্রয়োজন হবে।