অর্থনীতিতে নিরাপত্তা বেষ্টনীর গুরুত্ব

আপডেট : ১২ জুলাই ২০১৩, ১৭:১০
নিরাপত্তা বেষ্টনীর ধারণাটি বাংলাদেশে নতুন নয়। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতা পরবর্তী যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশে জনগণের দুর্দশা লাঘবে এটি সর্বপ্রথম চালু করেছিলেন। তিনি রেশন, খোলাবাজারে ভোগ্যপণ্য বিক্রি ও রিলিফ বিতরণ কর্মসূচি শুরু করেন। জনগণের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতে কৃষি উত্পাদন বৃদ্ধিকে অগ্রাধিকার দেন। ১৯৭৪ সালে ভয়াবহ বন্যার কারণে জনগণ নতুন করে দুর্ভোগে পড়ে। মানুষ অর্থনীতিতে অবদান রাখার পরিবর্তে জীবনধারণই প্রধান করণীয় হিসেবে বেছে নেয়। সরকার রিলিফ দেয়ার পাশাপাশি গরিব ও দুঃস্থদের বিভিন্ন সহায়তা প্রদান কার্যক্রম চালু করে। তখন জনগণের ঘুরে দাঁড়ানোর প্রচেষ্টায় বিরাট অবদান রাখে এই নিরাপত্তা বেষ্টনী কর্মসূচিগুলো। পরবর্তীতে জাতিসংঘ এ ধারণা গ্রহণ করে। তারাও একমত হয় যে, মানুষের কর্মশক্তিকে উজ্জীবিত রাখতে তাদের খাদ্যের নিশ্চয়তা দিতে হবে। তাই আশির দশকে জাতিসংঘের উদ্যোগে কাজের বিনিময়ে খাদ্যসহ বিভিন্ন কর্মসূচি দরিদ্র দেশগুলোতে বাস্তবায়নের জন্য গ্রহণ করা হয়। ধনী দেশগুলো এতে সহায়তা করে। ইউএনডিপি’র এসব কর্মসূচি আজও অনেক দেশে বাস্তবায়িত হচ্ছে। দারিদ্র্যকে সহনীয় করছে। দারিদ্র্য বিমোচনে অবদান রাখছে। মানুষের স্বাভাবিক কর্মশক্তি প্রয়োগ-সামর্থ্যকে টিকিয়ে রাখছে। অর্থনীতিতে অবদান রাখার প্রয়াশ পাচ্ছে। একটি দেশ যত দ্রুত দারিদ্র্য থেকে বেরিয়ে আসবে জাতীয় উত্পাদনশীলতা তত তাড়াতাড়ি বাড়বে। উচ্চতর প্রবৃদ্ধি অর্জনের পথ সুগম হবে। তাই দারিদ্র্যপীড়িত সব দেশই দারিদ্র্যের দুষ্টচক্র থেকে বেরিয়ে আসতে চায়। বাংলাদেশও সেই চেষ্টা করে যাচ্ছে। নব্বইয়ের দশকের দ্বিতীয়ভাগ থেকে দারিদ্র্র্য বিমোচন প্রচেষ্টায় গতি আসে। সেইসাথে অর্থনৈতিক অগ্রগতিও দ্রুততর হয়। সরকারের এ প্রচেষ্টায় সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী কর্মসূচিগুলো বিশেষ অবদান রেখেছে। বাংলাদেশে আশির দশকে কাবিখা, ভিজিডি, ভিজিএফ, টেস্ট রিলিফ প্রভৃতি সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়। এসব কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের মূল সমস্যা দারিদ্র্য দূর হয়নি। এটি লক্ষ্যও ছিল না। দারিদ্র্যকে সহনীয় করাই ছিল মূল কাজ। এসব সহায়তার বড় অংশটাই মধ্যস্বত্বভোগীদের কাছে চলে যেত। প্রকৃত উপকারভোগীরা খুব সামান্যই পেত। এর ফলে দারিদ্র্য কমেনি। অর্থনীতিতেও গতি আসেনি। যদিও এসব কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য প্রতি বছরের বাজেটে কর্মসূচিভিত্তিক বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। নব্বইয়ের দশক থেকে বিশেষ করে দশকের দ্বিতীয়ভাগে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী কর্মসূচিতে নতুন মাত্রা যোগ হয়। বেঁচে থাকার পাশাপাশি মানুষের কর্মশক্তিকে কাজে লাগানোর উদ্যোগ নেয়া হয়। দরিদ্র, বৃদ্ধ, দুঃস্থ, বিধবা, স্বামী পরিত্যক্তাসহ অবহেলিত জনগোষ্ঠীর জন্য মাসিক ভাতা কার্যক্রম চালু করা হয়। গরিব শিক্ষার্থীদের শিক্ষার সুযোগ করে দিতে বৃত্তি ও উপবৃত্তি চালু করা হয়। তবে এসব কর্মসূচি গ্রহণ, উপকারভোগী শনাক্তকরণ ও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সমন্বয়ের ঘাটতি ছিল। পরবর্তীকালে সরকার এক্ষেত্রে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে উদ্যোগী হয়। রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে পরাক্রমশালী মধ্যস্বত্বভোগীদের হাত থেকে তা বের করে আনা ছিল একটি দুরূহ কাজ। এটি আরও কঠিন হয়েছে উচ্ছিষ্টভোগী আমলাশ্রেণির বাধার জন্য। তারপরও সরকার আজ এ লক্ষ্যে অনেকটাই সফল হয়েছে। কার্যকর সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি গ্রহণ, প্রকৃত উপকারভোগী চিহ্নিতকরণ এবং বরাদ্দের সিংহভাগ দরিদ্র জনগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছার ব্যবস্থা করার ক্ষেত্রে বর্তমান সরকার অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করেছে। কর্মসূচি গ্রহণের ক্ষেত্রে একটি কাঠামোগত পরিবর্তন এনেছে। এতে সরকারের কল্যাণধর্মী রাজনীতির প্রতিফলন ঘটেছে। সরকার কর্মসূচিগুলোকে দারিদ্র্য বিমোচনের হাতিয়ার হিসেবে নিয়েছে। তাই এগুলোকে সামাজিক নিরাপত্তা ও সামাজিক ক্ষমতায়ন এই দুই ভাগে চিহ্নিত করেছে। সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর অন্ন, বস্ত্র, শিক্ষা, বাসস্থান ও স্বাস্থ্যসেবা— এই পাঁচটি মৌলিক চাহিদা পূরণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সরকার সেভাবে উপকারভোগী চিহ্নিতকরণ ও বাস্তবায়ন কৌশল নির্ধারণ করেছে। সরকার বুঝতে পেরেছে যে, বহু বছর ধরে বিভিন্ন ভাতা ও কাবিখা, ভিজিডি, ভিজিএফ-এর মতো সামাজিক নিরাপত্তামূলক কর্মসূচিগুলো দারিদ্র্যকে সহনীয় করেছে। কিন্তু অধিকাংশ জনগোষ্ঠী দরিদ্রতার অভিশাপ থেকে মুক্তি পায়নি। সামাজিক উন্নয়নে আশানুরূপ অগ্রগতি হয়নি। এটা অনেকটা বেসরকারি সংস্থাগুলোর উচ্চ সুদে দেয়া ক্ষুদ্র ঋণের মতো। গ্রামের দরিদ্র নারী-পুরুষ পাঁচ হাজার টাকা ক্ষুদ্র ঋণ নেয়ার সময় থেকে উচ্চ সুদ ও আসল পরিশোধ করা শুরু করে। এ সামান্য টাকা দিয়ে অভাবের সংসারে কোনো উত্পাদনমুখী খাতে বিনিয়োগের সুযোগ থাকে না। কিন্তু সপ্তাহ শেষে সুদাসল ফেরত দিতে হয়। তাই বাধ্য হয়ে তারা আরেকটি এনজিও থেকে ৫ হাজার টাকা ঋণ নেয়। দুই এনজিও’র সুদাসল দেয়ার চাপ থেকে মুক্ত হতে এক সময় তৃতীয় এনজিও থেকে ঋণ নেয়। এভাবে গ্রামের অধিকাংশ ঋণ গ্রহীতা পাঁচ-সাতটি এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়ে। দারিদ্র্য বিমোচন সেই তিমিরেই থাকে। উপরন্তু বংশানুক্রমিকভাবে ঋণগ্রস্ত থাকা নিশ্চিত হয়। তাই সরকার সামাজিক নিরাপত্তামূলক কর্মসূচি বাস্তবায়নের পাশাপাশি সামাজিক ক্ষমতায়নমূলক কর্মসূচি বাস্তবায়নের উপর বেশি গুরুত্ব দেয়। এর মধ্যে নামমাত্র সার্ভিস চার্জের বিনিময়ে ক্ষুদ্র ঋণ কর্মসূচিও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সরকার গত চার বছরে পল্লী কর্মসহায়ক ফাউন্ডেশন ও ১৯৭টি সহযোগী সংস্থার মাধ্যমে মোট ৭ হাজার ৭৬ কোটি টাকা ক্ষুদ্র ঋণ বিতরণ করেছে। ৭০ লক্ষ ৪০ হাজার মানুষ এ ঋণ নিয়েছে। এর মধ্যে ৬৪ লক্ষ ৭৬ হাজার নারী ক্ষুদ্র ঋণ গ্রহীতা। সামাজিক ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে প্রতিবন্ধীদের ভাতা, শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থান, প্রান্তিক চাষিদের বিনামূল্যে বীজ ও সার দিয়ে চাষাবাদ করার সুযোগ, নামমাত্র সুদে নারীদের ক্ষুদ্র ঋণ প্রদান, ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প উদ্যোক্তা সৃষ্টিতে প্রশিক্ষণ প্রদান ও মূলধন যোগান দেয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। মাতৃস্বাস্থ্য, পুষ্টির নিশ্চয়তা বিধান, জেলেদের পুনর্বাসন, সমন্বিত দুর্যোগ মোকাবিলা, একটি বাড়ি একটি খামার, শহরের জনগণের পরিবেশগত স্বাস্থ্য উন্নয়ন, ভূমিহীনদের জন্য আশ্রয়ণ, চর উন্নয়ন, কমিউনিটি ভিত্তিক স্বাস্থ্য পরিচর্যা, উত্তরবঙ্গের বেকার যুবশ্রেণির কর্মসংস্থান, শহরাঞ্চলে প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরিচর্যা সেবা, ন্যাশনাল সার্ভিস, অতি দরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান ইত্যাদি কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। সামাজিক নিরাপত্তামূলক কর্মসূচিতেও নতুন নতুন ক্ষেত্র অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যাতে সমাজের সব ধরনের ক্ষত ও অবহেলাকে বিবেচনায় নেয়া যায়। যেমন-দুই বছর ধরে দলিত, হরিজন, বেদে এবং হিজড়া সম্প্রদায়ের জীবনমান উন্নয়নে কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে অনেক অবাঙালি মানবেতর জীবনযাপন করছে। বিভিন্ন কারণে তারা নাগরিক সুবিধা প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত রয়েছে। সরকার এই অবাঙালিদেরও পুনর্বাসনের উদ্যোগ নিয়েছে। দুর্যোগের সময় অর্থ ও ত্রাণসামগ্রীর অভাবে অনেক মানুষকে ভোগান্তি পোহাতে হয়। এমনকি অনেকে মারাও যায়। তাই সরকার এবার দুর্যোগকবলিত মানুষের সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে ১০০ কোটি টাকা থোক বরাদ্দ দিয়েছে। অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে দারিদ্র্যকে পরাজিত করার লক্ষ্যে আরও কিছু কর্মসূচি নেয়া হয়েছে, যা এ সারণীতে দেখানো হয়েছে। সারণী: বিশেষ সামাজিক ক্ষমতায়ন কর্মসূচি (কোটি টাকায়) বিশেষ কর্মসূচির নাম ২০১২-১৩ ২০১৩-১৪ গৃহ নির্মাণ সহায়তা ৫২.১০ ৬২.১৫ ক্ষুদ্র ঋণ ৩৪২.৭০ ৩৪৯.৫০ দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও প্রতিবন্ী তহবিল ৭৪.২৪ ১২৬.৪৯ অতি দরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান ১২০০ ১৪০০ দরিদ্র নারীদের জন্য সমন্বিত পল্লী কর্মসংস্থান সৃষ্টি ১০ ২৪ বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার মাধ্যমে দারিদ্র্য বিমোচন ১.৩ ১৫০ দারিদ্র্য হ্রাসে বাংলাদেশ অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জন করেছে। দারিদ্র্যের হার ২০০৫ সালের ৪০ শতাংশ থেকে ২৬ শতাংশে নেমে এসেছে। বিশ্বব্যাংক সম্প্রতি বাংলাদেশের এ অর্জনকে বিরল ও চমকপ্রদ বলে আখ্যা দিয়েছে। এর ফলে বাংলাদেশ সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যগুলোর প্রথম লক্ষ্য তথা দারিদ্র্যের হার অর্ধেকে কমিয়ে আনার লক্ষ্য পূরণ করেছে দুই বছর হাতে রেখেই। জাতিসংঘ ২০১৫ সালের মধ্যে এ লক্ষ্য পূরণের সময় বেঁধে দিয়েছিল। দারিদ্র্য দ্রুত হ্রাসের পিছনে বড় ভূমিকা রেখেছে বর্তমান সরকারের সামাজিক নিরপত্তা বেষ্টনী কর্মসূচিগুলো। সরকার ২০০৯-১০ অর্থবছরে ১৬ হাজার ৭০৬ কোটি টাকা ব্যয়ে ৬৩টি কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে। ২০১০-১১ অর্থবছরে ২৪ হাজার ৫৫৬ কোটি টাকা ব্যয়ে ৭৫টি কর্মসূচি, ২০১১-১২ অর্থবছরে ২১ হাজার ৯৭৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ৮৪টি কর্মসূচি এবং ২০১২-১৩ অর্থবছরে ২৩ হাজার ৯৭ কোটি টাকা ব্যয়ে ৮৬টি কর্মসূচি বাস্তবায়ন করেছে। ২০১৩-১৪ অর্থবছরে ২৫ হাজার ৩৭১ কোটি টাকা ব্যয়ে ৯৫টি কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য গ্রহণ করেছে। দারিদ্র্য দ্রুত হ্রাসের ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে অর্থনীতিতে। দেশ গত চার বছর ধরে উচ্চতর প্রবৃদ্ধি হার বজায় রেখেছে। গড়ে ৬ দশমিক ৩৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। এতে অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্যও পূরণ হয়েছে। মাথাপিছু আয় ২০০৮ সালের ৬৩০ ডলার থেকে ৯৩০ ডলারে উন্নীত হয়েছে। ধনী-গরিব বৈষম্য কমেছে। মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বেড়েছে। ফলে অভ্যন্তরীণ চাহিদা বেড়েছে, যা প্রবৃদ্ধি অর্জনে অত্যন্ত সহায়ক হয়েছে। উত্তরাঞ্চল মঙ্গামুক্ত হয়েছে। দারিদ্র্য থেকে উঠে আসা এই মানুষগুলো পূর্ণ উদ্যমে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নিয়োজিত হয়েছে। এক্ষেত্রে নারীদের অগ্রযাত্রা দ্রুততার সাথে হয়েছে। গ্রামের নারীরাও অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হচ্ছে। নারীর ক্ষমতায়ন হয়েছে। এর ফলে নতুন প্রজন্মের স্বাস্থ্য, পুষ্টি ও শিক্ষার ব্যাপারে মায়েরা অধিক যত্ন নিতে পারছে, যা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি দীর্ঘমেয়াদে টেকসই করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি মায়েরা নিজেদের ও পরিবারের স্বাস্থ্য রক্ষা ও অন্যান্য সামাজিক উন্নয়নে অবদান রাখতে পারছে। সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী কর্মসূচিগুলোর বাস্তবায়ন দক্ষতা আরও বাড়ানো সম্ভব হলে তা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে আরও বেশি অবদান রাখতে পারবে। বিশ্বব্যাংকও বলেছে, প্রকৃত দরিদ্রের কাছে সাহায্যের পুরোটা পৌঁছাতে পারলে দারিদ্র্য আরও দেড় থেকে দুই শতাংশ কমতো। তাহলে প্রবৃদ্ধি হার আরও বেশি অর্জিত হতো। তাই সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি বাস্তবায়নে অপচয় শূন্যে নামিয়ে আনার উদ্যোগ নিতে হবে। এ লক্ষ্যে প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ করতে হবে। বাস্তবায়ন দক্ষতা বাড়াতে হবে। ভাতাভোগী ও বিভিন্ন সামাজিক ক্ষমতায়নের সুবিধাভোগীদের একটি ড্যাটাবেইজ তৈরি করতে হবে, যাতে কেউ একাধিক কর্মসূচির সুবিধা পাচ্ছে আবার কেউ একটিও পাচ্ছে না এমন না হয়। দারিদ্র্যসীমার নিচে থাকা প্রতিটি মানুষকে নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় আনতে হবে। তাহলে সাহায্যের বাইরে থাকা মানুষগুলোও দারিদ্র্যের অভিশাপমুক্ত হবে। দেশ অর্থনৈতিকভাবে আরও দ্রুত সমৃদ্ধ হবে।