যৌন হয়রানির মতো সামাজিক ব্যাধিকে দূর করার জন্য সবার আগে দরকার সচেতনতা। এক্ষেত্রে পরিবার থেকে শুরু করে রাষ্ট্রীয় পর্যায় পর্যন্ত সকল পর্যায়ে সচেতনতা দরকার। সচেতনতা বৃদ্ধি নির্যাতন প্রতিরোধ করার স্পৃহা জাগিয়ে তোলে। এজন্য শুধুমাত্র মাধ্যমিক পর্যায়ে স্কুলের শিক্ষার্থীদের সাথে কাজ না করে উচ্চ মাধ্যমিক ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়েও কাজ করা দরকার। পাশাপাশি প্রতিটি জেলায় পাড়া-মহল্লা পর্যায়েও এ ধরনের উদ্যোগ ছড়িয়ে দেয়া দরকার।
ব্র্যাকের জেন্ডার জাস্টিস অ্যান্ড ডাইভারসিটি বিভাগের মেয়েদের জন্য নিরাপদ নাগরিকত্ব (মেজনিন) কর্মসূচির আয়োজনে গতকাল ৩ জুলাই সিলেট জেলার শিক্ষক প্রশিক্ষণ কলেজের মিলনায়তনে যৌন হয়রানি নির্মূলকরণের লক্ষ্যে শিক্ষক প্রশিক্ষণ কলেজের শিক্ষক ও প্রশিক্ষণার্থীদের সাথে কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীরা এমন মন্তব্য করেন।
অংশগ্রহণকারীরা আরও বলেন, শুধুমাত্র শিক্ষার্থী নয়, নারী শিক্ষকরাও যৌন হয়রানির শিকার হচ্ছে। এক্ষেত্রে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে যৌন হয়রানি নির্মূলকরণ কমিটি কার্যকর থাকলে এ ধরনের সমস্যা থেকে রেহাই পাওয়া যেত। অনেকেই পারিবারিক শিক্ষা, শালীন পোশাক, ধর্মীয় মূল্যবোধ, অভিভাবকদের সচেতনতা, আইনের কঠোরতা, সুষ্ঠু রাজনৈতিক পরিবেশ ইত্যাদির উপর এ ক্ষেত্রে গুরুত্বারোপ করে বক্তব্য রেখেছেন।
অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক শেখ মতিয়ার রহমান বলেন, আমাদের সমাজে হয়রানিকারীর সংখ্যা খুব বেশি নয়। আমরা সকলে যদি আমাদের বিবেকবোধ জাগ্রত করে তাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলি তাহলে এ ধরনের সমস্যা মোকাবিলা করা সম্ভব হবে। আমাদের সকলের আত্মমর্যাদাবোধ বাড়াতে হবে। সমাজে মানুষের মধ্যে আত্মিক সম্পর্ক জাগিয়ে তোলার জন্য বিভিন্ন সম্প্রীতি সংঘ গড়ে তোলা দরকার।
জেলা শিক্ষা অফিসার মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, যৌন হয়রানি একটি অপরাধ। এই সমস্যা থেকে পরিত্রাণের জন্য জন্য আত্মোপলব্ধি বাড়াতে হবে।
শিক্ষক প্রশিক্ষণ কলেজের উপাধ্যক্ষ চৌধুরি মামুন আকবর বলেন, এই সমস্যাকে হালকাভাবে না দেখে বিষয়টিকে গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করে প্রতিরোধে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। আমাদের প্রত্যেকের অবস্থান থেকে মূল্যবোধের শিক্ষা দিতে হবে। জনগুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে আইন-শৃঙ্খলাবাহিনীর মনিটরিং বাড়াতে হবে।
শিক্ষক প্রশিক্ষণ কলেজের অধ্যক্ষ নিতাই চন্দ চন্দ বলেন, সাধারণত দেখা যায় বেকার যুবক তাদের কর্মসংস্থান বা বিনোদনের কোনো ব্যবস্থা নেই তারাই যৌন হয়রানির ঘটনায় জড়িত থাকে। এজন্য বেকার সমস্যার সমাধানের পাশাপাশি মানসিকতা পরিবর্তনের জন্য সচেতনতা বাড়াতে হবে। শিক্ষকদের পাশাপাশি প্রশাসনের ভূমিকাও বাড়াতে হবে।
এছাড়া অংশগ্রহণকারীরা হেল্পলাইন নাম্বার, আইন ও শাস্তি সম্বলিত ফ্লায়ার জনগুরুত্বপূর্ণ স্থান ও স্কুলের সামনে টানানো, শিক্ষার্থীদের কাউন্সিলিং করা, প্রতিষ্ঠানে যৌন হয়রানি নির্মূলকরণ কমিটি কার্যকর করা, পাড়া-মহল্লা পর্যায়ে সচেতনতা কার্যক্রম করাসহ বিভিন্ন সুপারিশ তুলে ধরেন। প্রাণবন্ত এ কর্মশালায় বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রায় একশ’ শিক্ষক-শিক্ষয়িত্রী অংশ নেন।
