‘এই কোচিং দলের রয়েছে অভিজ্ঞতার বিশাল ভাণ্ডার। ফেলিপাও (লুই ফেলিপে স্কলারি) একজন বিশ্বচ্যাম্পিয়ন এবং আমিও। দলের প্রত্যেকে ফিটনেস কোচ, ডাক্তার এবং ফিজিও সবাই একেকজন বিশ্বচ্যাম্পিয়ন এবং তারা সবাই জানে আমাদের কি প্রয়োজন, আমরা কি চাই।’
মাত্র কিছুদিন আগেও ব্রাজিলকে চেনাই যাচ্ছিল না। মাঠের খেলায় পুরনো ছন্দের ছিটেফোটাও ছিল না, প্রীতি ম্যাচগুলোতে শুধু জার্সি দেখেই চিনতে হতো নেইমার-হাল্কদের। তবে ঘরের মাঠে কনফেডারেশন্স কাপে ব্রাজিলকে দেখা গেল সেই চিরচেনা রূপেই। জোগো বনিতোর ছন্দে স্পেনকে দিশেহারা করে তারা টানা তৃতীয়বারের মতো জিতলো টুর্নামেন্টের শিরোপা। তবে দলের টেকনিক্যাল ডিরেক্টর কার্লোস আলবার্তো পাহেইরা মনে করছেন, বিশ্বকাপ জিততে দলগতভাবে যতটা শক্তিশালী হওয়া দরকার, ব্রাজিল দল এখনো সেই পর্যায়ে পৌঁছাতে পারেনি। ফিফা ডট কমের সঙ্গে এক দীর্ঘ সাক্ষাত্কারে সাবেক বিশ্বকাপজয়ী এই কোচ কথা বলেন দলের ভবিষ্যত্ পরিকল্পনাসহ বিভিন্ন বিষয়ে।
দু’দিন আগেও দলের হতাশাজনক পারফরম্যান্সে যেই সমর্থকরা শুধু দুয়োই দিচ্ছিল, তারাই এখন জাতীয় দলকে ধন্য ধন্য করছেন। প্রশংসার জোয়ারে ভাসছেন কোচিল স্টাফরাও। তবে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা থেকে পাহেইরা বুঝতে পারছেন, অদূর ভবিষ্যতেই কোচদের কোন সিদ্ধান্তে আবারো উচ্চকিত হতে পারেন সমর্থক-সমালোচকরা। প্রশ্ন উঠতে পারে কনফেডারেশন্স কাপে এই অনায়াস জয় দলের জন্য কোন চাপ হয়ে আসবে কি-না, দল আত্মতুষ্টিতে ভুগছে কি-না প্রভৃতি বিষয়ে। এক্ষেত্রে পেরেইরা আস্থা রাখতে বলছেন কোচিং স্টাফদের উপর। দক্ষিণ আফ্রিকার কোচ হিসেবে সর্বশেষ বিশ্বকাপে অংশ নেয়া পেরেইরা বলেন, ‘এই কোচিং দলের রয়েছে অভিজ্ঞতার বিশাল ভাণ্ডার। ফেলিপাও (লুই ফেলিপে স্কলারি) একজন বিশ্বচ্যাম্পিয়ন এবং আমিও। দলের প্রত্যেকে ফিটনেস কোচ, ডাক্তার এবং ফিজিও সবাই একেকজন বিশ্বচ্যাম্পিয়ন এবং তারা সবাই জানে আমাদের কি প্রয়োজন, আমরা কি চাই।’
২০০২ সালের বিশ্বকাপজয়ী কোচ স্কলারির অধীনে বর্তমানে দলের টেকিনিক্যাল ডিরেক্টরের কাজ করা পেরেইরা আরো বলেন, ‘আপনি যখন পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন একটা দলের দায়িত্বে থাকবেন তখন সমস্যা খুঁজে বের করতে আপনাকে খুব একটা কষ্ট করতে হবে না। (কনফেডারেশন্স কাপের) ফাইনালের পর সংবাদ সম্মেলনে ফেলিপাও বলেছে আমরা সঠিক পথে আছি, এটা আমাদের প্রক্রিয়ারই একটা অংশ। মূল ব্যাপারটা আসলে সেটাই। আমরা সমর্থক এবং বিশ্ববাসীকে জানিয়ে দিয়েছি যে আমরা কতটা ভয়ঙ্কর হয়ে উঠতে পারি এবং আমাদের দলটাও উন্নতি করছে। তবে আমরা এখনো পুরোপুরি প্রস্তুত নই। আমরা অনেকদূর এগিয়েছি তবে এখনো কিছু ঘষামাজার দরকার আছে।’
পেরেইরা কথা বলেছেন দলের ভবিষ্যত্ পরিকল্পনা নিয়েও। ১৯৯৪ সালের বিশ্বকাপজয়ী ৭০ বছর বয়সী এই কোচ বলেন, ‘অবশ্যই আমাদের একটা নতুন চক্র শুরু করতে হয়েছে। এবং একারণেই আমরা একটা নতুন পরিকল্পনা করেছি। আপনি যদি ইংল্যান্ডের সাথে আমাদের প্রথম প্রীতিম্যাচের দলের দিকে তাকান (গত ছয় ফ্রেব্রুয়ারি), তাহলে দেখবেন সেটা এখনকার দলের চেয়ে অনেক ভিন্ন ছিল। আমাদের লক্ষ্য ছিল একটা নতুন ধারা খুঁজে পাওয়া এবং আমরা সেটা পেয়েছি।’ আর নতুন এই ছন্দই সেলেসাওদের জেতাতে পারে তাদের ষষ্ঠ বিশ্বকাপ। পেরেইরার বিশ্বাস কনফেডারেশন্স কাপ সাফল্য ব্রাজিলকে এই নতুন ধারার বিষয়ে আরো বেশি আত্মবিশ্বাসী করে তুলবে। তবে তিনি একবারের জন্যও ভুলে যাচ্ছেন না বিশ্বকাপ জিততে হলে নিজেদেরকে আরো সমৃদ্ধ করার কোন বিকল্প নেই। তিনি বলেন, ‘কনফেডারেশন্স কাপকে আমরা আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনার সুযোগ হিসেবে নিয়েছিলাম। এটা সমর্থকদের সঙ্গে আমাদের রসায়নকে আরো জোড়ালো করেছে। (সমর্থকদের এমন ভালবাসা) আমি আগে কখনোই দেখিনি। তবে আমরা এটাও জানি দ্রুতই এটা পাল্টে যেতে পারে। এটা কারোরই মাথায় থাকা উচিত নয় যে, আমরা আমাদের সাম্প্রতিক সাফল্যেই সন্তুষ্ট থাকবো। কারণ আমরা জানি, লক্ষ্য থেকে আমরা এখনো দূরে আছি।’
