শ্রম আইনের সংশোধনী পাস হলে বিদ্যমান যে সুযোগ আছে ক্ষেত্রবিশেষে তাও শ্রমিকরা হারাবে। সংশোধনীতে শ্রমিকদের স্বার্থ পরিপন্থি বেশকিছু ধারা যুক্ত করা হয়েছে, যা আগের আইনে ছিল না। এ আইন পাস রোধ ও শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার আদায় করতে হলে শ্রমিক সংগঠনগুলোকে রাজনৈতিক লেজুড়বৃত্তি ছেড়ে আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। শুক্রবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত গোলটেবিল বৈঠকে সংশোধিত শ্রম আইনের উপর আলোচনা করতে গিয়ে বক্তারা এসব কথা বলেন। ওয়ার্ল্ড ফেডারেশন অব ট্রেড ইউনিয়নস (ডব্লিউএফটিইউ), বাংলাদেশ কমিটি এ বৈঠকের আয়োজন করে। ‘শ্রমিক স্বার্থ: বাংলাদেশ শ্রম আইন’ শীর্ষক এই বৈঠকে প্রধান অতিথি ছিলেন বিচারপতি সৈয়দ আমিরুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ডব্লিউএফটিইউ’র আহবায়ক ও বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক ডা. ওয়াজেদুল ইসলাম খান।
বিচারপতি সৈয়দ আমিরুল ইসলাম বলেন, ২০০৬ সালের শ্রম আইনটিও শ্রমিক বান্ধব হয়নি। তখনও শ্রমিক সংগঠনগুলো সঠিকভাবে সেই শ্রম আইনের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে পারেনি। ট্রেড ইউনিয়নগুলো রাজনৈতিক দলগুলোর লেজুড়বৃত্তি করে - এমন অভিযোগ করে তিনি শ্রমিকদের স্বার্থ সংরক্ষণ করতে হলে দলীয়করণের এই বলয় থেকে বেরিয়ে আসার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, সুখের পায়রা হয়ে ট্রেড ইউনিয়ন করা যাবে না। তাই শ্রম আইন শ্রমিক স্বার্থের পক্ষে নিয়ে আসতে হলে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।
ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন এমপি বলেন, আমাদের সংসদ মালিকপক্ষ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। এই সংসদ শ্রমিক স্বার্থের পক্ষে কিছু করবে, সেটা আশা না করাই ভালো। শ্রমিকদের দাবি আদায় করতে হলে শ্রমিক আন্দোলনকে মাঠে নামাতে হবে।
মূল প্রবন্ধে ওয়াজেদুল ইসলাম খান সংশোধিত শ্রম আইনের বেশকিছু অসঙ্গতি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বর্তমান সংসদে শ্রম আইনের যে সংশোধনী পেশ করা হয়েছে, তা শ্রমিক স্বার্থের পরিপন্থি। এ আইনে ট্রেড ইউনিয়ন গঠন এবং অবাধ ট্রেড ইউনিয়ন ও পছন্দমতো নেতা নির্বাচনের ক্ষেত্রে যে প্রতিবন্ধকতা রাখা হয়েছে, তা দূর করতে হবে। তিনি বলেন, প্রস্তাবিত আইনে অংশগ্রহণকারী কমিটির বিধান রাখা হয়েছে। এটি বাংলাদেশকে ট্রেড ইউনিয়ন মুক্ত করার সুদূরপ্রসারী ষড়যন্ত্র ও চক্রান্তের অংশ। এ ছাড়া নারী শ্রমিকদের মাতৃত্বকালীন ছুটি চার মাসের পরিবর্তে ছয় মাস করার তিনি দাবি জানান।
বৈঠকে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্টের (ব্লাস্ট) নির্বাহী পরিচালক ব্যারিস্টার সারা হোসেন, জাতীয় শ্রমিক জোটের সভাপতি শিরিন আখতার, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিসের (বিলস) সহকারী নির্বাহী পরিচালক সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহমেদ, এ্যাডভোকেট নাসিম, এ্যাডভোকেট রেজা আহমেদ প্রমুখ।
