চট্টগ্রামে সঠিক ওজনে পণ্য চাইলে হেনস্তা হচ্ছে ক্রেতা!

আপডেট : ১২ জুলাই ২০১৩, ২২:১৬
নগরীর বিভিন্ন মার্কেটে ওজন কম দেয়া এখন খোলামেলা বিষয়ে পরিণত হয়েছে। এই অনিয়ম মেনে নিতে বাধ্য হতে হচ্ছে ক্রেতাদের। কারণ সঠিক ওজনে পণ্য চাইলে তাদের সংঘবদ্ধ বিক্রেতাদের হাতে হেনস্তা হতে হচ্ছে। নগরীর কর্ণফুলি মার্কেট, রেয়াজউদ্দিন বাজার, কাজীর দেউড়ি বাজার, জোলার হাট-বাজার, কর্নেল হাট-বাজারসহ বেশ কয়েকটি বাজারে পণ্যের ওজন কম দেয়ার প্রবণতা সবচেয়ে বেশি। বিভিন্ন সময়ে সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে আলাদাভাবে দাঁড়িপাল্লা স্থাপন করে পণ্যের ওজন যাচাই করার ব্যবস্থা করা হয়েছে। কিন্তু বাজারের ব্যবসায়ীদের রোষের কারণে তারা টিকতে পারেনি। কয়েকদিনের মধ্যেই তা অকার্যকর হয়ে পড়েছে। বাজারের বিক্রেতাদের সাথে সিটি করপোরেশনের দাঁড়িপাল্লার দায়িত্ব পালনকারীদের কথা কাটাকাটি ও মারামারির ঘটনা ঘটছে। কারণ একজন ক্রেতা পণ্য ক্রয় করার পর আবার সিটি কর্পোরেশন স্থাপিত দাঁড়িপাল্লায় ওজন মেপে দেখছেন তিনি ওজনে ঠকেছেন কিনা। ওজনে ফাঁকি ধরা পড়ার পর বিক্রেতার সাথে ক্রেতা ও দাঁড়িপাল্লার দায়িত্ব পালনকারীর মধ্যে বিবাদ শুরু হয়। মাছ, মাংস, মুরগি, তরি-তরকারি, চাল বিক্রেতাসহ মুদিসামগ্রী বিক্রেতাদের অনেকেই ওজনে কম দিচ্ছেন । কিন্তু বিষয়টি সবাই আঁচ করতে পারলেও বিক্রেতারা এতই সংঘবদ্ধ যে ক্রেতারা তাদের কাছে অসহায়। প্রতিবাদ করলে লাঞ্ছিত হতে হবে। এমনকি গত বৃহস্পতিবার ম্যাজিস্ট্রেট অভিযান চালাতে গিয়ে ব্যবসায়ীদের রোষানলে পড়েন। চট্টগ্রামে মাংস বিক্রেতারা ওজনে কম দেয়ার ক্ষেত্রে শীর্ষে রয়েছেন। তাছাড়া নগরীর অধিকাংশ মাংস বিক্রেতা গরু মাংস বলে মহিষের মাংস বিক্রি করে থাকেন। এ ধরনের প্রতারণা অহরহ ঘটলেও প্রশাসন থেকে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয় না। প্রতিদিন সকালে নগরীর বিভিন্ন জবাইখানায় অসংখ্য মহিষ জবাই করা হয়। এসব মহিষের মাংসই ক্রেতারা গরুর মাংস হিসেবে কিনে প্রতারিত হন। একইভাবে তারা ছাগলের মাংসের পরিবর্তে ছাগির মাংস সরবরাহ করে থাকে। এদিকে অধিকাংশ মার্কেটে মূল্য তালিকা রয়েছে। তবে তালিকা অনুযায়ী পণ্য বিক্রির কথা বললে ক্রেতাকে অপমানজনক কথা শুনতে হয়।