রমজানের শুরুতেই চট্টগ্রামে ফুটপাত হকারদের দখলে

আপডেট : ১২ জুলাই ২০১৩, ২২:৪০
রমজান মাসে নগরীতে যানজট কমাতে ফুটপাত অবৈধ হকারমুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন। এ কর্মসূচির ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হকারদের পুনর্বাসনেরও সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল। ফুটপাত খালি করার জন্য অবৈধ হকারদের শনাক্ত এবং উচ্ছেদ করতে একটি পর্যবেক্ষক কমিটি গঠন করা হয় সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে। এছাড়া হকারদের জন্য একটি স্বতন্ত্র নীতিমালা করারও ঘোষণা দেন সিটি মেয়ার এম মনজুর আলম। তবে সিটি কর্পোরেশনের সব উদ্যোগকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে চট্টগ্রাম মহানগরীর ব্যস্ততম সবগুলো সড়কের ফুটপাত ইতিমধ্যে দখল করে নিয়েছে হকাররা। নগরীর নিউ মার্কেট, রিয়াজউদ্দিন বাজার, জলসা মার্কেট, তিন পোলের মাথা, নাসিরাবাদে চিটাগং শপিং কমপ্লেক্সের সামনে, ষোলশহর, মুরাদপুর, জিইসি মোড়, আগ্রাবাদ বাদামতলি মোড়, আন্দরকিল্লা মোড়সহ নগরীর প্রায় সব ফুটপাতেই দোকান বসিয়ে ঈদের বেচাকেনা শুরু করেছে হকাররা। কোনো কোনো জায়গায় ফুটপাত ছাড়িয়ে রাস্তায় চলে এসেছে হকাররা। রাজনৈতিক দলের ছত্রচ্ছায়ায় থাকা সন্ত্রাসীরা ফুটপাত দখল করে ছোট ছোট অস্থায়ী দোকানঘর বানিয়ে ভাড়া দিয়েছে। দোকানদারদের সাথে কথা বলে জানা যায়, প্রতিটি দোকান একমাসের জন্য ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়েছে। এছাড়া প্রতিটি দোকান থেকে সমিতির ফান্ডের নামে দৈনিক ১০ টাকা করে চাঁদা আদায় করা হচ্ছে। একাধিক হকার্স সমিতি এই চাঁদা আদায় করছে। জানা গেছে, বছরের অন্যান্য সময় হকার্স সমিতি ফুটপাত বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ করলেও রমজানের আগে এসবের নিয়ন্ত্রণ নেয় রাজনৈতিক দলের নাম ভাঙানো সন্ত্রাসীরা। ফুটপাতের দখল এবং চাঁদা আদায় নিয়ে বিরোধের জের ধরে বিগত বছরগুলোতে ক্যাডারদের সাথে হকার্স সমিতির সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে। এ বছরও ফুটপাতের দখল ও চাঁদাবাজি নিয়ে বিভিন্ন গ্রুপের মধ্যে বিরোধ চলছে। যে কোনো সময়ে তাদের মধ্যে বড় ধরনের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, নগরীর নিউমার্কেট, বহদ্দারহাট, ষোলশহর দুই নম্বর গেট, মুরাদপুর, চকবাজার, কাজির দেউড়ি, দেওয়ান হাট মোড়, আগ্রাবাদ, আন্দরকিল্লা, নাসিরাবাদ, কর্ণফুলি নতুন ব্রিজ, লালদীঘির পাড়, তিন পোলের মাথা, বন্দর ফকিরহাট, পতেঙ্গা ইপিজেড এলাকা, অক্সিজেন মোড়সহ বেশির ভাগ গুরুত্বপূর্ণ এলাকার ফুটপাতে বছরের পর বছর ধরে অবৈধ ফুটপাত ব্যবসা চলে আসছে। সবচেয়ে বড় ফুটপাত ব্যবসা নগরীর নিউমার্কেট, আমতল ও স্টেশন রোড এলাকায়। এক হিসাবে দেখা যায়, চট্টগ্রামে ফুটপাত ও রাজপথে অস্থায়ী ও ভাসমান হকারের সংখ্যা ২০ হাজারের ওপরে। এদের নিয়ন্ত্রণ করে মেট্রোপলিটন হকার্স সমিতি, হকার্স লীগ, ফুটপাত হকার্স সমিতি নামে তিনটি সংগঠন। হকার্সদের নামে ফুটপাত দখলের কথা প্রচার হলেও প্রকৃত হকারদের দখলে রয়েছে মাত্র এক-তৃতীয়াংশ দোকান। ফুটপাত ও রাজপথ দখল করে দোকান বসানোর কারণে বঙ্গবন্ধু ল’ টেম্পল, মিউনিসিপাল মডেল হাইস্কুল ও বেশির ভাগ মার্কেট দেখা যায় না। এভাবে নগরীর অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভবন ও প্রতিষ্ঠান আড়াল করে রেখেছে ফুটপাত ব্যবসায়ীরা। এ ব্যাপারে অসংখ্যবার অভিযোগ করেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো প্রতিকার পাওয়া যায়নি। কোটি টাকা সেলামির বিনিময়ে দোকান নিয়েও হকারদের অত্যাচারে এখন লোকসানের মুখ দেখছেন নিউমার্কেট মোড়ের ব্যবসায়ীরা। একই অবস্থা নগরীর বহদ্দারহাট এলাকায়। এখানে কাঁচা বাজারের সামনে ফুটপাত ও গাড়ি পার্কিংয়ের স্থান দখল করে বসানো হয়েছে ৫০টি দোকান। নালার ওপরে অবৈধভাবে রয়েছে ৪০টি ফলের দোকান। তাছাড়া ওই এলাকায় সন্ধ্যার পর রাস্তার ওপরে বসে কাঁচাবাজার ও শতাধিক ভ্রাম্যমাণ দোকান। বহদ্দারহাট ফ্লাইওভার ঘেঁষে গড়ে উঠেছে প্রায় ৩০টি অবৈধ দোকান। একই অবস্থা কর্ণফুলী তৃতীয় সেতু এলাকায়। ফুটপাতের বিশাল জায়গা দখল করে গড়ে উঠেছে প্রায় ২৭টি ফলের দোকান। ফলে যানজট লেগেই রয়েছে এখানে। এছাড়া জিইসি মোড় এবং ওআর নিজাম রোডও অবৈধ দখলে চলে গেছে। ফুটপাতের দোকানদার এবং ক্লিনিকগুলোতে আসার গাড়ির চাপে এ সড়কে সারাবছরই যানজট লেগে থাকে।