পপি, আশমানি আর মিম। বয়স যথাক্রমে এগার, সাত ও চার বছর। এ তিন কন্যার বাবা মাছ ব্যবসায়ী খলিলুর রহমান বেপারী ওরফে কলু (৩৫)। তিনি মাছের টাকা তুলতে বাসা থেকে বের হন সন্ধ্যার দিকে। কথাছিল ফেরার সময় তিন কন্যার জন্য আইসক্রিম কিনে নিয়ে যাবেন। কিন্তু তিনি আর বাসায় ফেরেননি। অপেক্ষায় থাকা কন্যারা বার বার বাবার মোবাইল ফোনে রিং দিয়েছে। কিন্তু প্রতিবারই বন্ধ পেয়েছে ফোন। মা ও চাচাদের কাছে জানতে চেয়েছে তাদের বাবা কোথায়? কিন্তু তারাও তাদের প্রশ্নের উত্তর দিতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত ৬ দিন পর তিন কন্যা তাদের বাবাকে ফিরে পেল ঠিকই। তবে মৃত অবস্থায়। মাথা থ্যাঁতলানো বিকৃত লাশ উদ্ধার হলো বাসারই অদূরের এক নর্দমা থেকে। তিন কন্যার বেদনার্ত চিত্কারে উপস্থিত অনেকেই চোখের পানি ধরে রাখতে পারেনি। বার বার মূর্ছা যান তিন কন্যার মা।
ঘটনাটি রাজধানীর পল্লবী এলাকার। এ নিয়ে থানায় মামলা হয়েছে ঠিকই। কিন্তু মামলা এন্ট্রি করেই পুলিশ দায়িত্ব শেষ করেছে। খলিলুর রহমানের পরিবার অভিযোগ করেছেন, তারা গরীব বলেই, মামলা তদন্ত নিয়ে পুলিশের কোন ধরনের আগ্রহ নেই। তদন্তকারী কর্মকর্তা মামলা দায়েরের পর একবারই পরিবারের সঙ্গে দায়সারাভাবে কথা বলেছেন। এমনকি হত্যা মামলা নিতেও গড়িমসি করেছে পুলিশ। খলিলুর রহমান কলুর বাসা ১১/ই, রোড-১৩, বাসা-৮ আদর্শনগর, মিরপুর ১১, পল্লবী ঢাকা-১২১৬। গ্রামের বাড়ি শরিয়তপুর জেলার সখিপুর থানার তারাবুনিয়ায়। ১০ ভাইয়ের মধ্যে ষষ্ঠ। পল্লবী এলাকার বিভিন্ন বাসা বাড়িতে মাছ সরবরাহ করতেন কলু।
কলুর বড় ভাই বাচ্চু বেপারী বলেন, গত ২১ জুন সন্ধ্যার দিকে কলু মাছের টাকা সংগ্রহের জন্য বের হন। এরপর আর বাসায় ফেরেননি। তবে রাত দশটার দিকেও কলু তার মেঝ মেয়ে মিমের সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা বলেছেন। এরপর থেকে বন্ধ পাওয়া যায় মোবাইল ফোন। এ অবস্থায় রাতে না ফেরায় বিভিন্ন স্থানে খোঁজ-খবর নেয়া হয়েছে। পরের দিনও বাসায় না ফেরায় তিনি নিজে বাদী হয়ে পল্লবী থানায় একটি সাধারণ ডাইরি করেন এবং এলাকায় মাইকিংও করেন। কিন্তু কেউ কলুর সম্পর্কে কোন তথ্য দিতে পারেনি। ৬ দিন পর কলুর লাশ উদ্ধার করা হয় স্থানীয় মদিনা নগর এলাকার একটি নর্দমা থেকে। লাশে ছিল অসংখ্য আঘাতের চিহ্ন, মাথা ছিল থ্যাঁতলানো। লাশ উদ্ধারের পর ময়না তদন্তের জন্য পাঠানো হয় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ মর্গে। ময়না তদন্ত শেষে লাশ দাফন করা হয় কালসী কবরস্থানে। লাশ উদ্ধারের পর পল্লবী থানায় দায়ের করা হয় হত্যা মামলা। মামলায় নাম উল্লেখ করে কাউকে আসামি করা হয়নি। তবে হত্যার পেছনে কয়েকজনের হাত থাকতে পারে বলে তারা ধারণা করছেন। বিষয়টি তারা পুলিশকেও জানিয়েছেন। কিন্তু হত্যার রহস্য উদঘাটন ও আসামি গ্রেফতারের ব্যাপারে পুলিশের কোন তত্পরতা নেই বললেই চলে। তিনি অভিযোগ করে বলেন, আমরা (মামলার বাদী) গরীব বলেই মামলা তদন্তে পুলিশের আগ্রহ কম। মামলা দায়েরের পর এক সপ্তাহ হয়ে গেলেও তদন্ত কর্মকর্তা একবারই দায়সারাভাবে কথা বলেছে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পল্লবী থানা সাব-ইন্সপেক্টর এবাদ আলী বাদী পক্ষের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, খলিলুর রহমান কলুকে কিভাবে হত্যা করা হয়েছে এ ব্যাপারে তিনি নিশ্চিত হতে পারেননি। কলুর মৃত দেহে আঘাতের চিহ্ন সম্পর্কে তিনি বলেন, আমার জানা মতে কোন আঘাতের চিহ্ন ছিল না। ফলে কলুর মৃত্যুর ব্যাপারে কোন সিদ্ধান্তে আসা এখনও সম্ভব হয়নি। ময়না তদন্ত ও ভিসেরা রিপোর্ট পাওয়ার পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে।
