বিসিএসসহ সরকারি চাকরিতে কোটা বাতিলের দাবিতে গতকাল শুক্রবার কোন কর্মসূচি পালন করতে পারেনি আন্দোলনকারীরা। একইসাথে ভাংচুরের অভিযোগে আটক ও পুলিশ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দায়ের করা মামলার প্রতিবাদ জানিয়েছেন তারা। কর্মসূচি পালনে বাধা, আটক ও মামলার প্রতিবাদে আজ শনিবার রাজধানীসহ দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশের ডাক দিয়েছে আন্দোলনকারী ‘বঞ্চিত পরীক্ষার্থী-শিক্ষার্থীরা’। রবিবার সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ধর্মঘটও ডেকেছে তারা। গতকাল এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ ঘোষণা দিয়েছে ‘বঞ্চিত পরীক্ষার্থী-শিক্ষার্থীরা’। তবে এ বিজ্ঞপ্তিতে কোন ব্যক্তির নাম কিংবা যোগাযোগের ঠিকানা উল্লেখ করা হয়নি।
গত বৃহস্পতিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে দিনভর পুলিশ ও ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের সঙ্গে পরীক্ষার্থীদের সংঘর্ষের পর শুক্রবার বিকাল তিনটায় শাহবাগ মোড়ে বিক্ষোভ কর্মসূচির ঘোষণা দেয় পরীক্ষার্থীরা। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের আগে থেকেই টিএসসি, বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ মসজিদ সংলগ্ন রাস্তা, নীলক্ষেত ও শাহবাগ মোড়সহ গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট ও সড়কে পুলিশ অবস্থান নেয়। এ সময় বিচ্ছিন্নভাবে কিছু শিক্ষার্থী শাহবাগ মোড়ে যেতে চাইলে পুলিশ তাতে বাধা দেয়। পরে শাহবাগ থানা পুলিশ পৃথকভাবে সন্দেহভাজন ৩৪ ছাত্রকে আটক করে। আটকের ঘটনার পর পরই ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষিপ্তভাবে ছড়িয়ে পড়ে পরীক্ষার্থীরা। আন্দোলনরত বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষার্থী বলেন, পুলিশ ও ছাত্রলীগকে ব্যবহার করে সরকার ও প্রশাসন শিক্ষার্থীদের দমাতে চাইছে। হলে ছাত্রলীগ হুমকি দিচ্ছে, মারধর করছে। রাস্তায় পুলিশ আটক করছে। যৌক্তিক আন্দোলনে এ আচরণ আমরা আশা করিনি। আটককৃতদের মুক্তি এবং নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলনের জন্য আমরা কর্মসূচি চালিয়ে যাবো। মামলা প্রত্যাহার এবং বিসিএসসহ সরকারি চাকরিতে কোটা বাতিল করতে সংশ্লিষ্টদের উদ্যোগী এবং আন্তরিক হওয়ার দাবি জানান তারা।
মিছিলে ছাত্রলীগের বাধা:এদিকে কোটা বাতিলের দাবিতে শাহবাগ মোড়ে বিক্ষোভ করতে ব্যর্থ হয়ে কার্জন হলের সামনে একটি মিছিল বের করে পরীক্ষার্থীরা। সেখানে বাধা দেন ছাত্রলীগের কর্মীরা। এসময় শিক্ষার্থীরা যাতে হল থেকে বের হতে না পারে সেজন্য শহীদুল্লাহ ও সলিমুল্লাহ হলের গেটে তালা লাগিয়ে দেয় ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা। এদিকে গত তিন দিনের আন্দোলন-কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষার্থীই ছাত্রলীগ নেতাদের হুমকিরমুখে ভীত-সন্ত্রস্ত সময় কাটাচ্ছেন বলে জানা গেছে। তাদের মধ্যে অনেকে হল ত্যাগও করেছেন বলে জানিয়েছে সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
কোটা বাতিল নয়, সুষ্ঠু বিন্যাস চায় ছাত্রদল:বিসিএসসহ সব সরকারি চাকরিতে বিদ্যমান কোটা ব্যবস্থার সুষ্ঠু বিন্যাস চায় ছাত্রদল। একই সঙ্গে কোটা পদ্ধতি বাতিলের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবি মেনে নেয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি। গতকাল বিকালে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ ীয় কার্যালয়ে ছাত্রদল আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ আহবান জানানো হয়।
ছাত্রদলের সভাপতি আবদুল কাদের ভুঁইয়া জুয়েল বলেন, শাহবাগে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনা সরকারের কেবল অদূরদর্শীতাই নয় বরং নিঃসন্দেহে রাষ্ট্র ও জনপ্রশাসনকে মেধাশূন্য করার এক সুদূরপ্রসারী ষড়যন্ত্র। সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক ও সংসদে বিরোধী দলের ভারপ্রাপ্ত চিফ হুইপ শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, সহ-ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রশিদ হাবিব, সহ-সভাপতি আনোয়ারুল হক রয়েল।
