এমনিতেই কোনো মানুষের মুখে একটানা কটু কথা বা গালিগালাজ শুনলে মেজাজ ধরে রাখা কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। তার উপর এই গালমন্দ যদি ভেসে আসে মিষ্টি কথায় মানুষের অনুকরণে বিখ্যাত কোনো তোতার মুখ থেকে তাহলে তো কথাই নেই। আর বাজে কথা কইয়ে এমনই এক তোতার যন্ত্রণায় এখন রীতিমতো জীবন অতিষ্ট হয়ে উঠেছে স্কটল্যান্ডের প্রাণীরক্ষা বিষয়ক সংগঠন এসপিসিএ’র পশ্চিম লোথিয়ান শহর শাখার কর্মীদের। কিছুদিন আগে লিভিংস্টোন এলাকার একটি বাগানে অসহায়ভাবে আটকা পড়ে থাকতে দেখে তোতাপাখিটিকে উদ্ধার করে আনেন প্রাণী অধিকার বিষয়ক দাতব্য সংস্থা এসপিসিএ’র কর্মীরা। কিন্তু তোতাটিকে নিজেদের জিম্মায় নেবার পর থেকেই একে একে নিজের শেখা বুলি থেকে কটু থেকে কটুতর গালাগাল বর্ষণ করতে শুরু করে তোতাটি। অধিকাংশ তোতা পাখির মালিক যেখানে তার পোষা তোতাটিকে নানা ধরনের সাদর সম্ভাষণ শেখান কিংবা তোতাগুলো যেখানে খুব বড়জোর দৈনন্দিন জীবনের সাধারণ কিছু কথা শুনে শুনে শেখে সেখানে এই তোতার মুখ থেকে এমনতর গাল শুনে বিস্ময়ে রীতিমতো বোকা বনে গিয়েছিলেন এসপিসিএ’র কর্মীরা। প্রথমটায় বিষয়টার মাঝে কেউ কেউ আনন্দ খুঁজে পেলেও খুব দ্রুতই তোতার একটানা গালিগালাজে মেজাজ বিগড়ে যেতে শুরু করে তাদের। শুধু তাই নয়, মনোযোগ না পেলে নেচে নেচে শিষ বাজানোর কাজটিও বেশ দক্ষতার সাথেই করতে পারে এই তোতাটি। এসব কিছু মিলিয়েই এখন প্রাণীটিকে নিজেদের জিম্মায় রাখার চাইতে এটিকে তার মালিকের কাছে ফিরিয়ে দেয়ার জন্যই বেশি মরিয়া হয়ে উঠেছেন উদ্ধারকারী কর্মীরা। এদিকে এসপিসিএ’র পশ্চিম লোথিয়ান শহর শাখার সহকারী ম্যানেজার কেনি শার্প জানিয়েছেন, তোতাটির পায়ে এর মালিকের নাম সংবলিত কোনো রিং না থাকায় এটিকে দ্রুত তার মালিকের কাছে ফিরিয়ে দিতে পারছেন না। তবে তিনি আশা করেন যে, কেউ হয়তো অচিরেই ব্যতিক্রমী এই তোতাটিকে সনাক্ত করে তাদের কাছ থেকে নিয়ে যাবে এবং সেই সাথে রেহাই দেবে তাদেরকেও।
