বাংলা একাডেমীতে নিম্নবর্গের ইতিহাস সম্পর্কে এক বক্তৃতা অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, নিম্নবর্গের ইতিহাস চর্চায় সাহিত্য, দর্শন, ন্যায়শাস্ত্র, ধর্ম, বর্ণ ইত্যাদি সমান গুরুত্বপূর্ণ। অনুষ্ঠানে সভাপতির ভাষণে বাংলা একাডেমীর সভাপতি অধ্যাপক আনিসুজ্জামান বলেন, নিম্নবর্গের ইতিহাস আমাদের সামগ্রিক ইতিহাস চর্চার ধারায় গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন কারণ নিম্নবর্গের ইতিহাসকাররা সমাজবিজ্ঞান-দর্শন-ভাষাবিজ্ঞান প্রভৃতি নানান জ্ঞানবিদ্যার সামগ্রিক দৃষ্টিতে ইতিহাস ও মানব সম্পর্ককে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেন। শনিবার সকালে একাডেমীর কবি শামসুর রাহমান সেমিনার কক্ষে একক বক্তৃতানুষ্ঠানে স্বাগত ভাষণ দেন বাংলা একাডেমীর মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান। অনুষ্ঠানে ‘ নিম্নবর্গের ইতিহাস : পুনর্বিচারের রূপরেখা’ শীর্ষক বক্তৃতা প্রদান করেন প্রখ্যাত ইতিহাসবিদ, গবেষক গৌতম ভদ্র। অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, ভাষা-সংগ্রামী আহমদ রফিক, কমরেড অজয় রায়, কবি বেলাল চৌধুরী, অধ্যাপক পারভীন হাসান, কথাশিল্পী সেলিনা হোসেন, কবি সাংবাদিক আবুল মোমেন, অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন, অধ্যাপক এম এম আকাশ, অধ্যাপক সোনিয়া নিশাত আমিন, মোনায়েম সরকার, অধ্যাপক শরীফউদ্দিন আহমেদ, অধ্যাপক মোফাখখারুল ইসলাম, অধ্যাপক শফি আহমেদ, রাষ্ট্রদূত মসয়ূদ মান্নান, অধ্যাপক গোলাম মুস্তাফা, লেখক সুব্রত বড়ুয়া, সংস্কৃতি সচিব রণজিত্ কুমার বিশ্বাস এবং শিক্ষা সচিব কামাল চৌধুরী প্রমুখ এতে উপস্থিত ছিলেন। স্বাগত শামসুজ্জামান খান বলেন, গৌতম ভদ্র ঊনিশ শতকের জনসংস্কৃতি বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা করেছেন। তার চিন্তার ক্ষেত্র পুঁথিসংগ্রহের রাজনীতি থেকে জাল রাজার ইতিহাসের পরিসর পর্যন্ত বিস্তৃত। তার কাছ থেকে আমরা নিম্নবর্গের ইতিহাসের তাত্ত্বিক ভিত্তি ও পদ্ধতি নিয়ে নতুন করে ভাবনার উপাদান পাবো। একক বক্তা গৌতম ভদ্র বলেন, নিম্নবর্গের ইতিহাস কোন পৃথক জ্ঞানকাণ্ড নয়। নিম্নবর্গ একটি সম্পর্কের নাম। ক্ষমতাবিন্যাসের নানা ধরন উচ্চ এবং নিম্ন উভয় বর্গকে নির্ধারণ করে। অবস্থানভেদে বর্গের ধরনও পাল্টায়। কারণ আমরা দেখি সতীনাথ ভাদুড়ীর ঢোঁড়াই চরিতমানস উপন্যাসে তাত্ত্বিক ব্যাখ্যার চেয়ে গভীরতাসম্পন্ন নিম্নবর্গীয় উপাদন বিদ্যমান। তিনি বলেন, আবদুল করিম, মমতাজুর রহমান তরফদার, আহমদ শরীফ, আনিসুজ্জামান প্রমুখের অবদান সত্ত্বেও বাঙালির মধ্যযুগের ইতিহাস এখনও নির্মাণ সম্ভব হয়নি। তবে আরজ আলী মাতুব্বর-মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদীর মতো প্রান্তিয় দার্শনিকবৃন্দ যেভাবে যুক্তিবাদের আলোকে সমাজ-ধর্ম-ইতিহাসকে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেছেন তা এ অঞ্চলের নিম্নবর্গের মানুষের উদার দৃষ্টিভঙ্গিরই প্রমাণবহ। একক বক্তৃতা শেষে অধ্যাপক গৌতম ভদ্র উপস্থিত শ্রোতাদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন।
