ইরাকে সহিংসতায় দুইদিনে নিহত শতাধিক

আপডেট : ১৩ জুলাই ২০১৩, ২২:৩০
ইরাকে গত বৃহস্পতিবার এবং শুক্রবার ব্যাপক সহিংসতায় শতাধিক ব্যক্তি নিহত হয়েছে। দেশটির উত্তরাঞ্চলীয় শহর কিরকুকের একটি চা পানের দোকানে শুক্রবার রোজাদারদের ওপর আত্মঘাতী বোমা হামলায় ৩১ জন নিহত হয়েছে। এছাড়া বৃহস্পতিবার ইরাকজুড়ে সহিংসতায় নিহত হয়েছে ৭৬ জন। ইরাকের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় মিশ্র গোত্র অধ্যুষিত শহর কিরকুকের ওয়াহেদ হুজেইরান এলাকায় ভয়াবহ এ হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্রগুলো। এলাকাটি রাজধানী বাগদাদ থেকে ২৫০ কিলোমিটার উত্তরে অবস্থিত। রোজাদাররা ইফতার শেষে ওই চায়ের দোকানে জমায়েত হলে বোমাটির বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। এতে দোকানটি পুরোপুরি উড়ে যায়। তাত্ক্ষণিকভাবে এ হামলার দায়িত্ব কেউ স্বীকার করেনি। তবে সংখ্যাগরিষ্ঠ শিয়াদের প্রভাব কমানোর লক্ষ্যে সংখ্যালঘু সুন্নিদের মধ্য থেকে সদস্য সংগ্রহ করে বিদ্রোহীরা একের পর এক হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ধারণা করা হচ্ছে। শুক্রবারের বোমা হামলার প্রত্যক্ষদর্শী মোহাম্মদ বলেন, ‘আমি দোকান (চায়ের দোকান) থেকে বের হয়ে অপর পাশে আমার দোকানে যাই, এর পরপরই প্রচণ্ড শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। আমি অল্পের জন্য বেঁচে যাই। বিস্ফোরণ স্থলে গিয়ে দেখি লাশ আর লাশ, এর মধ্যে কয়েকটি লাশ এমনভাবে ছিন্ন-বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে যে সেগুলো আর চেনাই যাচ্ছে না। এর আগেরদিন বৃহস্পতিবারও সন্ধ্যা পর্যন্ত সারা দেশজুড়ে চালানো বিভিন্ন বোমা হামলা ও গুলিবর্ষণের ঘটনায় অন্তত ৪৪ জন নিহত হয়েছিল। কিন্তু রাতে বাগদাদ থেকে ৫০ কিলোমিটার উত্তরে দুজাইল শহরে একটি শিয়া মসজিদ লক্ষ্য করে আরো একটি গাড়িবোমা হামলা চালানো হয়। এতে আরো অন্তত ২২ জন নিহত হলে মোট নিহতের সংখ্যা অন্তত ৬৬ জনে গিয়ে দাঁড়ায়। রাতভর আরো কয়েকটি হামলায় আরো কয়েকজন নিহত হলে নিহতের মোট সংখ্যা রাত শেষে ৭৬ জনে গিয়ে ঠেকে বলে জানিয়েছে পুলিশ। জাতিসংঘের হিসাব মতে শুধু জুন মাসেই ইরাক জুড়ে এ ধরনের জঙ্গি হামলায় অন্তত ৭৬১ জন নিহত হয়েছেন।