সিরিয়ায় বিদ্রোহীদের মধ্যে অন্তর্কলহ বাড়ছে

আপডেট : ১৩ জুলাই ২০১৩, ২২:৩১
সিরিয়ায় প্রেসিডেন্ট আসাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধরত বিদ্রোহীদের মধ্যে অন্তর্কলহ বাড়ছে। এর জেরে আল-কায়েদা সংশ্লিষ্ট আরেকটি প্রতিদ্বন্দ্বী দলের হাতে নিহত হয়েছেন ফ্রি সিরিয়ান আর্মির (এফএসএ) এক শীর্ষ কমান্ডার। এফএসএর মুখপাত্র একথা জানিয়েছেন। আল-কায়েদার ইরাক শাখা ‘ইসলামিক স্টেট অব ইরাক’ ফ্রি সিরিয়ান আর্মির(এফএসএ) সুপ্রিম মিলিটারি কাউন্সিলের সদস্য কামাল হামামিকে হত্যা করেছে বলে জানিয়েছে বিবিসি। সিরিয়ার বন্দর নগরী লাতাকিয়াতে যুদ্ধ পরিকল্পনা নিয়ে হামামির সঙ্গে এক বৈঠকের পর তাকে হত্যা করা হয়। এফএসএর মুখপাত্র কাসেম সাদেদ্দিন জানান, কামাল চলমান আসাদ বিরোধী যুদ্ধের নীতি ও কৌশল নিয়ে ইরাকে ইসলামপন্থী গোষ্ঠীটির সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন। এফএসএর বাকি সব শীর্ষ নেতাকে হত্যা করা হবে বলেও ওই গ্রুপ হুমকি দিয়েছে বলে জানান তিনি। সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের বিরুদ্ধে লড়াইরত বিদ্রোহীদের মধ্যে গত কয়েকমাস ধরে অন্তর্দ্বন্দ্ব, অন্তর্কলহ এবং সহিংসতা প্রচণ্ডভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এ বিরোধের জের ধরেই সিরিয়ার বাইরে বিদ্রোহীদের গঠন করা অস্থায়ী সরকারের নেতৃত্বে একের পর এক পরিবর্তন আসতে দেখা যায়। সামপ্রতিক এই হত্যাকাণ্ডের ফলে যুদ্ধরত আধুনিক চিন্তা-চেতনায় বিশ্বাসী ও রক্ষণশীল ইসলামপন্থীদের মধ্যে বিরোধের বিষয়টি আরো ঘনীভূত হলো। ফ্রি সিরিয়ান আর্মি চায় সিরিয়ায় আসাদের পতনের পর একটি ধর্ম নিরপেক্ষ সরকার গড়তে। বিপরীতে ইসলামপন্থী একাধিক বিদ্রোহী গোষ্ঠী সেখানে আসাদকে হটিয়ে একটি ইসলামী শরিয়াভিত্তিক সরকার গঠনের দাবি তুলেছে। আধুনিক চিন্তায় বিশ্বাসী মুসলিম ও রক্ষণশীল ইসলামপন্থীদের মধ্যে বিরোধ ২০১১ সালে শুরু হওয়া আরব বসন্তের একটি উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য তিউনিশিয়া, লিবিয়া, মিসর, ইয়েমেনসহ আরব বসন্তের পর ক্ষমতার পালাবদল হওয়া দেশগুলোতেও একই সমস্যা লক্ষ্য করা গেছে। বিবিসির সংবাদদাতা পল উড বলছেন- গৃহযুদ্ধে লিপ্ত বিদ্রোহীদের নিজেদের ভেতরেই আরেকটা গৃহযুদ্ধের পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে। তাদের মধ্যে অন্তর্দ্বন্দ্ব কিছুটা আদর্শগত কারণে, কিছুটা তাদের আন্দোলনের ব্যর্থতার কারণ নিয়ে। এপ্রিল মাসে ইরাকে আল-কায়েদা ঘোষণা করেছিল তারা সিরীয় ইসলামপন্থী দল নুসরা ফ্রন্টের সঙ্গে যোগ দেবে এবং একটা একক ইসলামিক স্টেট গঠন করবে। আল-কায়েদা নেতা আইমান আল জাওয়াহিরি যোদ্ধাদের সিরিয়ায় একটা ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়েছেন। কিন্তু বিদ্রোহী গোষ্ঠির মধ্যে মধ্যপন্থীরা এর বিরোধী—তারা ধর্মভিত্তিক রাষ্ট্র চান না। এসব নিয়ে বিদ্রোহীদের মধ্যে অন্তর্দ্বন্দ্ব বাড়ছে।