রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) এমবিএ’র ছাত্রী নাজমুন নাহার নিজ বাসায় গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। শুক্রবার রাতে মহানগরীর উপ-শহর এলাকায় শিল্পপতি পিতা নুরুন্নবীর ভাড়া বাসা থেকে পুলিশ তার লাশ উদ্ধার করে।
মৃত নাহারের ছোট ভাই মোবাশ্বির হুসাইন (১৬) পুলিশ ও সাংবাদিকদের কাছে দাবি করেন, দীর্ঘদিন ধরে তার বাবার সঙ্গে অন্য এক মহিলার পরকীয়া চলছে। এ নিয়ে মায়ের পক্ষ নেয়ার জেরে প্রায় প্রতিদিনই তাদের মাকে ও দুই ভাই-বোনকে মারপিট করতেন শিল্পপতি পিতা। শুক্রবারও একই কারণে পিতা তাদের বেত দিয়ে পেটান। এ সময় তিনি (পিতা) আর তাদের ভরণ-পোষণ চালাতে পারবেন না বলেও জানিয়ে দেন। মোবাশ্বির আরো দাবি করেন, ‘এক পর্যায়ে আম্মুর শাড়ি নিয়ে এসে আপু আমাকে বলেছিল, নে এটা দিয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে হয় তুই মর, নইলে আমিই মরবো। কিন্তু আমি মরতে পারিনি। শেষে আপু গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করলো।’ এদিকে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রীর আত্মহত্যার খবর পেয়ে রাত সাড়ে ৯টার দিকে নগরীর বোয়ালিয়া মডেল থানা পুলিশ শিল্পপতি নুরুন্নবীর উপ-শহরের ভাড়া বাসা থেকে তার বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া মেয়ের লাশ উদ্ধার করে।
অন্যদিকে মহানগরীর বোয়ালিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউর রহমান জিয়া বলেন, শিল্পপতি নুরন্নবী নিজে দুর্গাপুরে বসবাস করলেও ছেলেমেয়েদের লেখাপড়ার জন্য শহরে বাসা ভাড়া করে রাখতেন। এই সুযোগে ছেলেটি (মোবাশ্বির) নেশায় আসক্ত হয়ে পড়েছে। এ নিয়ে ছেলেকে শাসন করায় মেয়ে তা সহ্য করতে না পেরে আত্মহত্যা করেছে। এ ব্যাপারে থানায় একটি ইউডি মামলা হয়েছে।
