কাঁচা বাজারে আগুন

আপডেট : ১৩ জুলাই ২০১৩, ২৩:১১
বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকারের মনিটরিং টিম, নিত্যপ্রয়োজনীয় কয়েকটি পণ্যের রপ্তানি বন্ধ কোন কিছুই কাজে আসল না। সবজি বাজারে বিভিন্ন পণ্যের দাম বাড়ছে হু হু করে। গতকাল শনিবার বাজারভেদে প্রতি কেজি কাঁচামরিচ বিক্রি হয় ২’শ থেকে ২২০ টাকা দরে। অথচ রমজানের আগেরদিনও প্রতি কেজি কাঁচামরিচ বিক্রি হয়েছে ১৩০ থেকে ১৪০ টাকা কেজিতে। একই অবস্থা বেগুনের ক্ষেত্রেও। প্রতি কেজি বেগুনে ৩০ থেকে ৪০ টাকা বেড়ে বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ১০০ টাকায়। ব্যবসায়ীরা বলেছেন, একেতো রমজানে চাহিদা বেশি তারপর উত্তরাঞ্চলসহ সারাদেশে বিভিন্নস্থানে বন্যায় সবজি বাগান নষ্ট হয়ে গেছে। ফলে চাহিদা অনুযায়ী যোগান আসছে না। ফলে দাম বাড়ছে হু হু করে। মাছের বাজারেও একই অবস্থা। ছোলা, চিনি, সয়াবিনও বিক্রি হচ্ছে না সরকার নির্ধারিত দরে। স্বল্প আয়ের মানুষ রীতিমতো দিশেহারা। শনিবার রাজধানীর কাওরানবাজার, নিউমার্কেটসহ কয়েকটি বাজারে বিভিন্ন পণ্যের বাজারদরে এই চিত্র পাওয়া যায়। গতকাল খুচরা বাজারে প্রতি কেজি বেগুন ৮০ থেকে ১০০ টাকা, গাজর ৪৫ থেকে ৫০ টাকা, শসা ৭৫ থেকে ৮০ টাকা, পটোল ৩০ থেকে ৩৫ টাকা, কাঁকরোল ৩০ থেকে ৩৫ টাকা, করলা ৪৫ থেকে ৫০ টাকা, কাঁচা পেঁপে ২৫ থেকে ৩০ টাকা, আলু ২০ টাকা, টমেটো ১৪০ থেকে ১৫০ টাকা, ধনে পাতা ২৮০ থেকে ৩০০ টাকা, ঢেঁড়শ ৩২ থেকে ৩৬ টাকা, ঝিঙে ৪০ থেকে ৪৫ টাকা ও বরবটি ৪০ থেকে ৪৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়। কিন্তু রমজানের আগের দিনও প্রতি কেজি বেগুন ৫০ থেকে ৬০ টাকা, গাজর ৩০ থেকে ৩৫ টাকা, শসা ৪০ থেকে ৪৫ টাকা, পটোল ২৫ থেকে ৩০ টাকা , কাঁকরোল ২৫ টাকা, করলা ৩০ থেকে ৩৫, কাঁচা পেঁপে ২০ টাকা, আলু ১৬ থেকে ১৭ টাকা, ঢেঁড়শ ৩০ থেকে ৩২ টাকা, ঝিঙে ৪০ টাকা, বরবটি ৪০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। সবজির দামের এই লাগামছাড়া বৃদ্ধি প্রসঙ্গে কাওরানবাজারের সবজি বিক্রেতা নজরুল বলেন, রমজানে সবজির চাহিদা বাড়ে। কিন্তু এবার হঠাত্ করে দেশের বিভিন্ন স্থানে বন্যায় অনেক সবজি বাগান নষ্ট হয়ে গেছে। ফলে চাহিদা অনুযায়ী বাজারে সবজির আমদানি নেই। এজন্য দাম বাড়ছে। তবে ব্যবসায়ীদের সাথে একমত নন এই বাজারে বাজার করতে আসা বেলায়েত হোসেন। তিনি বলেন, দাম বাড়ানোর বেলায় ব্যবসায়ীদের অজুহাতের অভাব পড়ে না। কখনো দাম কমেছে এমনতো হয় না। তিনি বলেন, যেভাবে বিভিন্ন পণ্যের দাম বাড়ছে তাতে মনে হয় না বাজারে সরকারের কোন নজরদারি আছে। এদিকে সবজির সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে মাছের দামও। গতকাল বাজারে প্রতি কেজি রুই আকারভেদে ২৮০ থেকে ৩৫০ টাকা, কাতলা ৩২০ থেকে ৪০০ টাকা, আইড় ৫৫০ থেকে ৬০০ টাকা, শিং, মাগুর ৬৫০ থেকে ৭০০, বোয়াল ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা, পাঙ্গাশ ১৩০ থেকে ২০০ টাকা, তেলাপিয়া ১২০ থেকে ১৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়। এছাড়া মাংসের মধ্যে খাসি ৪৫০ টাকা, গরু ২৮০ থেকে ৩০০ টাকা, ব্রয়লার মুরগী ১৭০ থেকে ১৭৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়। এছাড়া ফার্মের ডিম হালিতে ২ টাকা বেড়ে ৩৪ থেকে ৩৬ টাকা ও দেশি মুরগীর ডিম ৪৪ থেকে ৪৫ টাকায় বিক্রি হয়। এদিকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ব্যবসায়ীদের সাথে বৈঠক করে চিনি, মসুর ডাল, ছোলা ও ভোজ্যতেলের দাম নির্ধারণ করে দিলেও কোন বাজারেই নির্ধারিত দরে তা বিক্রি হচ্ছে না। খুচরা বাজারে প্রতি কেজি অস্ট্রেলিয়ান ছোলা ৬২ টাকা, চিনি ৪৫ টাকা ৫০ পয়সা, মসুর ডাল ( কানাডা) ৭৫ থেকে ৮৫ টাকা ও এক লিটারের বোতলজাত সয়াবিন ১২৭ টাকা নির্ধারণ করলেও তা মানা হচ্ছে না। গতকাল বাজারে প্রতি কেজি অষ্ট্রেলিয়ান ছোলা ৬৬ থেকে ৬৮ টাকা, চিনি ৪৭ থেকে ৪৮ টাকা, মসুর ডাল (কানাডা) ৮০ থেকে ৮৫ টাকা ও এক লিটারের বোতলজাত সয়াবিন ১৩০ থেকে ১৩২ টাকায় বিক্রি হয়।