রূপগঞ্জে গ্যাস সংকট

আপডেট : ১৩ জুলাই ২০১৩, ২৩:১৫
রূপগঞ্জের তারাবো শিল্পাঞ্চলে সুষ্ঠু গ্যাস সরবরাহ ও দুর্নীতিবাজ ডিজিএমের শাস্তির দাবিতে আজ ১৪ জুলাই রবিবার দুপুরে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন এন্ড ডিষ্ট্রিভিউশন কোম্পানির যাত্রামুড়াস্থ আঞ্চলিক অফিস ঘেরাও ও ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের যাত্রামুড়া এলাকা অবরোধ করার কর্মসূচি নেয়া হয়েছে। যাত্রামুড়াস্থ শিল্পাঞ্চলের মালিক, শ্রমিক, কর্মচারী ও এলাকাবাসী এ কর্মসূচি পালন করবে। তিতাস গ্যাসের স্থানীয় ডিজিএমের স্বেচ্ছাচারিতা, অনিয়ম, দুর্নীতিতে এখানে গ্যাস সংকট চলছে বলে আন্দোলকারীরা দাবি করেছেন। গ্যাস সংকটের কারণে রূপগঞ্জের ছোট-বড় তিন শতাধিক শিল্প-কারখানার উত্পাদন এখন বন্ধের পথে। ইতিমধ্যে শতাধিক কারখানার উত্পাদন বন্ধ হয়ে গেছে। এসব কারখানার মধ্যে রয়েছে স্পিনিং মিল, টেক্সটাইল মিল, পেপার মিল, বোর্ড মিল, ফেব্রিক্স , উইভিং, ডাইং, প্রিন্টিং, ফিনিশিং, অ্যাপারেলস, কেমিকেল ইন্ডাষ্ট্রি, মেলামাইন, রি-রোলিং মিল। ‘কৃত্রিম গ্যাস সংকটে’র প্রতিবাদে শিল্পকারখানার মালিক, শ্রমিক ও কর্মচারীরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে বহু আবেদন নিবেদন করেছেন। তারা সভা, সমাবেশ, সড়ক অবরোধ, অফিস ঘেরাও, বিক্ষোভ মিছিল করেছে। রূপগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় গত দুই মাস ধরে ঘুষের বিনিময়ে অবৈধ গ্যাস সংযোগের প্রতিযোগিতা চলছে। মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে যাত্রামুড়াস্থ তিতাস গ্যাস কোম্পানির কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের যোগসাজশে গ্যাসের ঠিকাদাররা অবাধে এসব গ্যাস সংযোগ দিচ্ছে। গত দুই মাসে সহস্রাধিক অবৈধ গ্যাস সংযোগ দেয়া হয়েছে। এ সংযোগেই রূপগঞ্জের শিল্পাঞ্চলে গ্যাস সংকটের নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ কোন প্রকার নোটিস ছাড়াই হঠাত্ করে গ্যাসের প্রেসার কমিয়ে দেয়ায় মিলগুলো উত্পাদনে যেতে পারছে না। কোনো কোনো মিল উত্পাদনে যেতে পারলেও অধিকাংশ মিলের উত্পাদন বন্ধ রয়েছে। গত ৭ দিনে গ্যাসের প্রেসার এ অঞ্চলে একেবারেই কমে গেছে। তাতে শতাধিক মিলের উত্পাদন বন্ধ হয়ে গেছে। রূপগঞ্জ-সোনারগাঁও শিল্পাঞ্চলের গ্যাস সঞ্চালনের পাইপ থেকে নতুন তিনশ’ মেগাওয়াট হরিপুর বিদ্যুেকন্দে গ্যাস সরবরাহ করায় এবং অবৈধভাবে সহস্রাধিক গ্যাস সংযোগ দেয়ায় বর্তমানে গ্যাস সংকট চরম আকার ধারণ করেছে। এছাড়া সরকারি সিদ্ধান্ত মোতাবেক গত ৭ জুলাই যমুনা সার কারখানায় পূর্ণ উদ্যোমে উত্পাদনে যাওয়ায় এবং একইদিনে ঘোড়াশালে দু’টি বেসরকারি পাওয়ার প্ল্যান্টে গ্যাস সরবরাহের কারণে সংকট সৃষ্টি হয়েছে। গ্যাস সংকটে হিমালয় পেপার এন্ড বোর্ড মিলস, এসএফ টেক্সটাইল, নোয়াব আলী স্পিনিং মিলস, নিপপন টেক্সটাইল, প্রিয়াংকা স্পিনিং, জুবেদা টেক্সটাইল, এখলাছউদ্দিন স্পিনিং মিলস, টিএন্ডটি ফ্যাশন, মাহাবুব টেক্সটাইল, নোমান টেক্সটাইল, লিথুন ফেব্রিক্স, এইচএস টেক্সটাইল, অন্তিম নিটিং, নান্নু টেক্সটাইল, এজিস স্পিনিংসহ ছোট-বড় আরো ২ শতাধিক শিল্পকারখানার অবস্থা নাজুক। রূপগঞ্জের বিভিন্ন শিল্পকারখানায় গিয়ে জানা গেছে, শিল্পাঞ্চলের গ্যাস লাইনে ১৫ পিএসআই প্রেসার থাকার কথা। সেখানে ২-৪ পিএসআই প্রেসারে নামিয়ে আনা হয়েছে। এ অবস্থায় মিলগুলো চালু রাখা যাচ্ছে না বলে মিল মালিকরা জানিয়েছে। যাত্রামুড়া এলাকার জুবেদা গ্রুপের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আজহারুল ইসলাম বলেন, গ্যাস সংকটে গত দুই মাস ধরে দিনে ৮-৯ ঘন্টা মিল চালু রাখতে হচ্ছে। গ্যাসের প্রেসার কম থাকায় লাভজনক মিলগুলো আজ বন্ধের পথে। নাসা গ্রুপের প্রকৌশলী রুহুল আমিন বলেন, গ্যাস সংকটে তাদের শিল্পপ্রতিষ্ঠানে উত্পাদন প্রায় শূন্যের কোঠায়। তিতাসের আঞ্চলিক প্রকৌশলী লস্কর আহমেদ বলেন, রূপগঞ্জের তারাবো শিল্পাঞ্চলের তারাবো ডিআরএস থেকে প্রতিদিন শিল্পাঞ্চলে গ্যাস সরবরাহের প্রয়োজন ৪৫-৪৬ মিলিয়ন ঘনফুট। সেখানে বর্তমানে প্রতিদিন ২৫-২৬ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে। তবে শিল্পাঞ্চলের মালিকরা বলছেন, দিনে ৮-১০ মিলিয়ন গ্যাসও শিল্পপ্রতিষ্ঠানে দেয়া হচ্ছে না। যা পাওয়া যাচ্ছে তাতে কলকারখানা চলার মতো প্রেসার মিলছে না। তিতাস কোম্পানির জোনাল অফিসের ডিজিএম আলাউদ্দিন আহমেদ ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, গ্যাসের সংকট রয়েছে, তবে তা নিরসনে চেষ্টা চলছে।